বাংলাদেশ ভিশন – প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি

মাহবুবুর রব চৌধুরী

গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক সাম্য, ন্যায় বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্ম সংস্থান, শান্তি, শৃঙ্খলা, জন নিরাপত্তা জাতীয় জীবনে জরুরি বিষয়। পরিবার, পরিবেশ প্রকৃতি-কৃষ্টি, কালচার সহ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সব দিক, পরিষ্কার, পরিছন্ন, নিয়ম মাফিক হোক এণ্ডলি সুবুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন সবাই চান। সুষ্ঠ, যোগ্য ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় দেশ পরিচালিত হবার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মিলনে জাতীয় আকাঙ্খা পূরণ হওয়াটাই বাংলাদেশ ভিশন।
কিন্তু তা হচ্ছে না! কেন?
এই কেন’ এবং করণীয় কি তার উত্তর খুঁজে সেই রোড ম্যাপ ধরে সমস্যার সমাধান পাওয়াটা, সত্যিকার জন আকাঙ্খা। দেশের জন গোষ্ঠীকে তাদের অবস্থান, শক্তি ও সামর্থের দিক বিবেচনায় শ্রেণী ভাগ করে, করণীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের নিরিখে সমাধান খুঁজে পাওয়াটা খুব একটা কঠিন কিছু নয়। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা এবং সচেতনতা সমস্যার সমাধানে সবিশেষ ণ্ডরুত্ব পূর্ন।
দেশের জনগোষ্ঠীর প্রথম ভাগ বা প্রথম পক্ষ: সরকার ও সমগ্র প্রশাসন এবং সরকারের সহযোগি সবাই। দ্বিতীয় পক্ষ: সরকারের বাইরের রাজনীতিক এবং তাদের নেতা, কর্মী সমর্থক শুভাকাঙ্খী সকল পক্ষ।
তৃতীয় পক্ষ: সরকার এবং সংগঠিত রাজনীতিক দলের আওতার বাইরে থাকা সাধারণ দেশবাসি আপামর জনগণ। অবস্থান গত কারণে এই তিনটি গ্রূপের চিন্তা ধারায় এবং প্রায়রিটিটি লিস্টে পার্থক্য সুস্পষ্ট। এ বিষিয়টি ধারণায় নিয়েই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন ।
ত্রিমুখী স্বার্থের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে এবং হিসাব মিলাতেই এটি জরুরি। এই ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ধারনা না থাকলে সমস্যার সমাধান পাওয়া কষ্টকর। অতঃপর ভুক্ত ভুগি সমগ্র দেশবাসি। আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় শুরুতেই উল্লেখ আছে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা হইবে।
গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার সহ প্রস্তাবনায় উল্লেখিত বক্তব্যের অধিকাংশই আজও অপূর্ন ? কেন ?
সরকার, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের ঐক্য এবং একই সাথে স্বাধীন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে চেক এন্ড ব্যালান্স পদ্ধতির সমন্বয়ের অভাবটাই ণ্ডরতর সমস্যা। উপযুক্ত মেধা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নীতি ও মূল্য বোধে উজ্জীবিত সর্ব স্তরে দৃঢ় চরিত্রের নেতৃত্বের অভাব প্রকট।
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ণ্ডলির শক্তিশালী অবস্থান গড়ে না উঠাটাও এর মূল কারন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অনেক করণীয় কাজের মাঝে সর্ব প্রথম ন্যায় নীতি, মূল্যবোধ সহ পেশা ভিত্তিক ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নিজস্ব কৃষ্টি, কালচার, ইতিহাস ঐতিহ্য কে ণ্ডরুত্বের সাথে শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করতে হবে।
সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় দ্রুত দেশ ও জাতি গঠনে নিম্নে বর্ণিত বিষয় ণ্ডলিকে প্রায়রিটি লিস্টের উচ্চ স্তরে স্থান দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।
(১) গণতান্ত্রিক দেশ ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে কার্যকর স্বাধীন ভাবে চলবার সক্ষমতায় গড়ে তোলা। (২) সংবিধানে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ দুই টার্মে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। এবং সত্যিকার জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। (৩) দুর্নীতি মুক্ত সিস্টেম চালু করা। সুশাসন এবং দুর্নীতি মুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনের লক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্ম কান্ড – স্বচ্ছ, সুপষ্ট নীতিমালা অনুসরণে পরিচালিত হবার অঙ্গীকার। এবং প্রতিটি কর্ম কান্ড সেবা দাতা এবং সেবা গ্রহিতার মাঝে লিখিত ভাবে কর্মের উল্লেখ এবং দিন, সময় উল্লেখ পূর্বক লিখিত ভাবে হবার নীতি প্রণয়ন। প্রয়োজনে সময় শিমা বেঁধে দেওয়া। (৪) সেবা মান সম্মত ভাবে নির্দিষ্ট সময় মাঝে হচ্ছে কিনা তার জন্য দায়িত্ব শীল অফিসারকে শত ভাগ- জবাব দিহি করবার বিধি বিধান প্রচলন। (৫) উন্নয়ন কর্ম কাণ্ডের মান, বরাদ্ধ অর্থ এবং সময় বিশ্বমানের করা। জাতীয় অপচয় ও দুর্নীতির বিপক্ষে এটি ণ্ডরুত্ব পূর্ন পদক্ষেপ । (৬ ) জন ভোগান্তির সকল দিক, সকল ক্ষেত্র সমূলে উৎপাটন করা। (৭) জন নিরাপত্তা, কর্ম সংস্থান, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার সকল দিক বিশ্ব মানের করা।
(৮) পেশা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি মালা গ্রহণ। দ্রুত দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কৃষি কলেজের কম পক্ষে যে কোন একটি প্রতিষ্ঠা করা। (৯) বিশ্ব মানের পূর্ণাঙ্গ একটি মহিলা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এই বিশ্ব বিদ্যালয় মহিলা বিষয়ক স্পেশিয়াল বিষয় ণ্ডলিতে ফোকাস করবার সক্ষমতায় গড়ে তোলা। এ বিষয়ে ভিন্ন মতকে দেখতে হবে এবং বুঝতে হবে কেন দেশে জাতীয় পরিষদে পৃথক মহিলা আসন সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট আছে। (১০) দেশের প্রতিটি বিভাগীয় সদরে একটি করে পৃথক পূর্ণাঙ্গ মহিলা থানা প্রতিষ্ঠা। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে থানার জিডি অন লাইনে ইলেক্ট্রনিক্যালি” – করবার সুযোগ রাখা। (১১) আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক কৃষ্টি, কালচার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশে নীতি, নৈতিকতা, মুল্যবোধ পুন্: প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করবে সাথে মুসলিম ঐতিহ্য, ইসলামিক কৃষ্টি, কালচারের প্রকৃত রূপ তুলে ধরবে। একই সাথে দেশকে বিদেশী অপ সংস্ককৃতি প্রতিরোধ করবার সক্ষমতা গড়ে তুলতেও কাজ করবে। (১২) প্রতি জেলায় একটি ন্যায় সংস্থা প্রতিষ্ঠা, এটি ন্যায় সালিশি বোর্ড অর্থাৎ আদালত পূর্ব আপোষ মীমাংসার অফিস হিসাবে কাজ করবে। যে অফিস মীমাংশা যোগ্য সাধারণ বিষয় ণ্ডলি, আদালতের যাবার পূর্বেই দীর্ঘ এবং ব্যয় বহুল আদালতিক প্রসেসের বাইরে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থাঃ করতে পারবে। (১৩) মানব সম্পদ সহ দেশের সকল সম্পদের যথাযথ উন্নয়ন কল্পে। জাতীয় গবেষণা ব্যুরো স্থাপন। সর্ব পর্যায়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কে ণ্ডরুত্বের সাথে নেওয়া। (১৪) স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া উন্নয়নে প্রতিটি জেলায় ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তোলা।
(১৫) সকল ধর্ম ও মতের শান্তি পূর্ণ সহ অবস্থান নিশ্চিত করা। দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিশ্ব মডেল হিসাবে গড়ে তোলা। (১৬) আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে, ধনী, গরিব ব্যবধানকে যুক্তি সম্মত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ। (১৭) দেশকে একটি সোশ্যাল অয়েল ফেয়ার রাষ্ট্রে উন্নত করা।
বাংলাদেশীরা বিশ্ব জনগোষ্ঠীর কারো থেকে কোন অংশে কম নয়। নিজস্ব স্বকীয়তায় আমরাও বিশ্ব সভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারি নিজস্ব কৌশল ও কর্মে।
মাহবুবুর রব চৌধুরী -টরন্টো, কানাডা (আহবায়ক-২০০০- উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন- ফোবানা টরন্টো- কানাডা।)