হাইকমিশনারকে নিয়ে নাগরিক অধিকার ফোরামের ক্ষোভ বাড়ছে

ভোরের আলো রিপোর্ট: নো ভিসা নিয়ে স্মারকলিপির অফিসিয়ালি জবাব দেননি কানাডার অটোয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার খলিলুর রহমান। শুধু তাই নয় তিনি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে নানারকম দায়িত্ব জ্ঞানহীন অশালীন উক্তি করে চলেছেন। এসব কিছুর সুরাহা হওয়া দরকার। আমরা হাইকমিশনারকে আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানালেও তিনি আমাদের কথায় কর্নপাত করছেন না। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাঁর আপত্তিকর মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় কোন ছাড় নয়। গতকাল কানাডার টরেন্টোর গোল্ডেন এইজ সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নাগরিক অধিকার ফোরাম-এর নেতারা বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারকে নিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নাগরিক অধিকার ফোরামের সংগঠক ড. মঞ্জুরে খোদা টরিক লিখিত বক্তব্য রাখেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নওশের আলী, আহমেদ হোসেন, সুমন সাইদ, সাদ চৌধুরী, সুমন জাফর, জাকারিয়া রশীদ চৌধুরী, এজাজ খান, তৌহিদ নোমান, শেখ আশফাক মালিক, মামুন, শহীদুর রহমান প্রমুখসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দৈনিকে ইত্তেফাক এর কানাডা প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। তিনি বাংলদেশি কানাডিয়ান নাগরিক অধিকার ফোরাম এর আন্দোলনের সঙ্গে একাত্নতা ঘোষণা করেন। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলছেন হাইকমিশনার। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব সময় কলম ধরেছি। আগামীতেও আমার কলম থামবে না। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রবাসী নাগরিকদের নো-ভিসা প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিতে তাদের দুর্ভোগ ও হয়রানির কথা এখন সারা দুনিয়ার মানুষ জানে। অনলাইন আবেদনে সার্ভারে সমস্যা নিত্য দিনের চিত্র। নতুন পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট নবায়নে ইউটিউব ও ফেসবুক আইডি চাওয়া মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। কানাডার বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবায় পূর্বের যে ধারা-মান বজায় ছিল তা অবিলম্বে পুনরায় চালু করতে হবে। নো ভিসা প্রদানে, পাসপোর্ট করণ, নবায়নে ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানে কোনো ধরনের জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক ও দুর্ভোগ গ্রহণযোগ্য নয়। সহসা এসব দুর্ভোগ শেষ না করলে আগামীতে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরে বলা হয়- প্রবাসী বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের নো-ভিসা প্রাপ্তি পূর্বের ন্যায় অবিলম্বে সহজ করা হোক। পূর্বের কানাডিয়ান পাসপোর্টে নো-ভিসা সিল থাকলে পুনরায় তাদের নতুন পাসপোর্টে ভিসা দিতে হবে। দূতাবাসের সেবা অনলাইন সহজীকরণ করা, সার্ভারে সার্বক্ষণিক অ্যাকসেস এবং অফিসের সময়সূচিতে ফোন সার্ভিস সেবা রাখতে হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হোক। পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট আবেদন/প্রাপ্তি সহজ করতে হবে। এবং ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব লিংক নিয়ম বাতিল করতে হবে। সম্প্রতি হাই কমিশনার একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, পূর্বের ন্যায় মেয়াদ উর্ত্তীণ পাসপোর্ট থাকলেও NVR দেওয়া হবে। ফেসবুক দাপ্তরিক ঘোষণার কোন মাধ্যম নয়। পূর্বের নিয়ম পূণরায় চালুর যে ঘোষণা ফেসবুকে দিয়েছেন তা হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।