“গ্যালিলিও এবং তার বিচার”

মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরেন্টো

  • আমি ফ্লোরেন্স বাসী গ্যালিলিও গ্যালিলেই (Galileo Galilei), পিতা মৃত ভিন্সেজও গ্যালিলেই। বয়স সত্তর বছর। ন্যায় বিচার পাবার জন্য এসেছি। সম্মানিত ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে আমি কখনও কিছু করিনি। এবং ধর্মবিরুদ্ধ আচরণ কখনও করিনি। তার পরও সে কথা বলে, সেই অপরাধেই আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
  • বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি নিজ হাতে ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথ করছি যে, রোমের পবিত্র ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম সংস্থার দ্বারা যা কিছু শিক্ষাদান করা হয় এবং যা কিছু প্রচার করা হয় এবং হয়েছে, আমি তা বিশ্বাস করি। আগেও করেছি ভবিষ্যৎতেও করব। আমি ধর্ম বিরোধী নই।
  • আমাকে সূর্য, সৌরজগৎ এর কেন্দ্রস্থল এই মতবাদটি মিথ্যা এবং ধর্মগ্রন্থ বিরোধী, এই মতবাদ সমর্থন ও প্রচার থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তারপরেও আমি এই মতবাদ সমর্থন করে একটি বই লিখেছি।
  • তাই আমাকে ধর্ম বিরোধী বলা হচ্ছে। সাধারণের মনে সন্দেহ হতেই পারে তাই আমি। সকলের মন থেকে সন্দেহ দূর করার জন্য আমি শপথ করে এখন বলছি যে, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ণ্ডলি ভুল, মিথ্যা। আমি ধর্ম বিরুদ্ধ নই। শপথ নিয়ে আরো প্রতিজ্ঞা করছি যে, আমাকে প্রায়শ্চিত্তের জন্য যে নির্দেশ দেয়া হবে আমি তা হুবহু পালন করব।
  • আমি যদি এই শপথ আর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করি তাহলে আমার জন্য যেসব নির্যাতন এবং শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা মাথা পেতে গ্রহণ করব।
  • এসব কথা বলার পরও ক্যাথলিক চার্চ গ্যালিলিও কে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করে। তবে তার বয়সের কথা বিবেচনা করে তাকে আমৃত্যু নিজের ঘরেই আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ বাকি জীবন তাকে গৃহ বন্ধি থাকার আদেশ দেওয়া হয়।
  • তাঁর লেখা বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৮৩৫ সালের আগে তা আর নূতন করে প্রকাশ করা হয় নি। শুধু তাই নয় তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে মর্যাদার সাথে কবর দিতেও দেওয়া হয় নি।
  • Galileo was born in Pisa, Tuscany, Italy. on February 15,1564. He was the oldest son of Vincenzo Galilei.
  • Inventions: Galilean telescope hydrostatic balance thermometer compass. Notable Works: Dialogue Concerning the Two Chief World Systems Ptolemaic and Copernican . The Sidereal Messenger.
    *ফাইনালি: ১৯৯২ সালের ৩১শে অক্টোবর ক্যাথলিক চার্চ এই বিজ্ঞানীকে ক্ষমা করে দেন।। মাত্র সাড়ে তিনশ বছর লেগেছিল তাদের ভুলটি বুঝতে।
    মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরন্টো।