” মুসলিম বাংলার ইতিহাস – রূপালী আলোয় দেখা সোনালী দিনের কথা ।” ( প্রেক্ষাপট ও বিকাশের ধারা। ) প্রথম অংশ

মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরোন্ট
* বাংলাদেশ ও পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস- কিছু  কথা।  উপমহাদেশের মুসলিম  ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ,কালচার  বিশ্ব সভ্যতার গুরুত্ব পূর্ন  অধ্যায়।  এ ইতিহাসটি  বাংলা , বাংলাদেশ  এবং  বাংলাদেশী  কৃষ্টি , কালচার,  মন মানস গঠন প্রক্রিয়ার সাথেও  গভীর ভাবে সম্পর্ক যুক্ত।অতীত গৌরব, বর্তমান গর্ব এবং সুন্দর সোনালী ভবিষ্যৎ গঠনে , ইতিহাস একটি  জাতির সামনে  জীবন্ত প্রেরণার উৎস । তাই এর চর্চা  এবং  গবেষণা   জরুরি।.মানব ইতিহাসের শুরু  হজরত  আদম ( আঃ ) এবং  মা  হাওয়া  থেকে। এটি মুসলিম বিশ্বাস। আদম সন্তানের ইতিহাসই, মানব ইতিহাস।. এ ইতিহাস আজও বিচিত্র সব  ঘাত -প্রতিঘাতে রোমাঞ্চকর  ক্রম বিকাশ ধারায় এগিয়ে চলেছে।. হজরত আদম ( আঃ )  থেকে  হজরত মুহাম্মদ ( সঃ ) পর্যন্ত  সব  পয়গাম্বর , নবী , রসূল – এক আল্লাহ পাকের  বাণীই  প্রচার করেছেন।.মুসলিম বিশ্বাস মতে  দুনিয়ার সব মানুষ ভাই ভাই। এই সূত্রেই  মুসলিমের সাথে  নন মুসলিমদের – ইহুদি , নাসারা ক্রিস্টিয়ান , হিন্দু বৌদ্ধ ,. জৌন , আস্তিক -নাস্তিক অন্য সবার মূল মানবিক সম্পূকর্টি হয়ে দাঁড়ায় একে অন্যের কাজিন। শত সহস্র  বিস্ময়ে ভরা এই দুনিয়ায় এটিও. এক  চমৎকার। বিস্ময়।.ডারউইন  মানব উৎপত্তির  ভিন্ন  তত্ব  দিয়েছেন। এ বিষয়ে- আরো অনেক বক্তব্য  আছে – এবং তারও  ইতিহাস – ইতিহাসেই  আছে।  .কথাটি বেশ সহজ সরল   তবে,  পথ কিন্তু  সাত সাগর  ৭৩ নদী আর  ৭৪ ঘাটের পাশ দিয়ে  একে বেঁকে -রাস্তা  বানিয়ে এগিয়ে চলেছে।. যেখানে  আছে, এ বিশ্বের  ৪০০ কোটি বছর আগে প্রাণের উদ্ভব থেকে শুরু করে জানা আদি মানব ইতিহাস এবং তারও  আগের অজানা . প্রাগ ঐতিহাসিক ইতিহাস। গুহা বাসি, – প্রস্তর যুগ , এবং তাম্র ,লৌহ , সহ  বিভিন্ন ধাতু  যুগ।  শিকারী যাযাবর যুগ , পশু  পালন  যুগ , কৃষি যুগ. এরূপ শত শত যুগ পেরিয়েই  আজকের এই আধুনিক  পাসপোর্ট  যুগের শুরু।.ভিসা ,পাসপোর্ট ,  আধুনিক নাগরিক পরিচয় ছাড়াই – আল্লাহর দুনিয়াতে –  এ জমিনে কতজন কতভাবে পার হয়ে গেছেন  কেউ  আগে কেউ. পরে।তার সব হিসাব  সব খবর এখনও অজানা ।  বিষয়টি কত অজানারে জানা ।সম্পূর্ণটা হয়তো কখনোই জানার শেষ হবে না।.☘️ তবে  জানা মতে – হমো সেপিয়েন্সরা-( Homo Sapiens )- আজ থেকে তিন লক্ষ বছর আগে আফ্রিকায় থাকত।  মরক্কোর জেবেল ইরহুদ. গুহা থেকে পাওয়া ফসিল বিশ্লেষণ করে এবং সেখানকার পাওয়া  তথ্য থেকে এটি বলা হয়। এর আগে ধারণা ছিল হোমো সেপিয়েন্স এর. বয়স কাল , সময় পরিধি  দু লক্ষর কাছাকাছি হবে। জেবেল ইরহুড তাকে আরো একলক্ষ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে ।.নুতন  নুতন পাওয়া  তথ্য আর  নুতন  নুতন  আবিষ্কার এই ভাবে  প্রতি নিয়ত  আমাদের  জ্ঞান ও তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ  করে চলেছে। এটাই  সত্য।.হমো সেপিয়েন্সদের – (Homo Sapiens)  আফ্রিকা জীবনের তিন লক্ষ বছরের ইতিহাসে – তাদের প্রথম  আফ্রিকা থেকে বের হয়ে  আসা  এবং
  চারিদিকে ছড়িয়ে যাবার প্রচেষ্টার  ইতিহাস – প্রায় এক লাখ বছর আগের   ঘটনা । জেরুজালেম , ইসরায়েল –  জর্দান অঞ্চলে  এই সময়কালের
  ফসিল পাওয়া গেছে।। তাদের প্রথম চেষ্টাটি খুব একটা সফল ছিল না।  এই সময় তারা আফ্রিকা সংলগ্ন অঞ্চলের থেকে খুব বেশি দূরে যায় নি।
যেতে পারেনি। তাদের প্রথম সফল মাইগ্রেশান আজ থেকে  প্রায় সত্তর হাজার বছর আগেকার ঘটনা। এটিকেই  বলা হয় আউট অব আফ্রিকা।.আফ্রিকার এরিত্রিয়া এবং দিজিবৌতি অঞ্চল থেকে  শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। তারা এরিত্রিয়া, জিবুতি  ,ইয়েমেন  থেকে  ইরাকের  মধ্যে দিয়ে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ দিক দিয়ে  এগিয়ে -চলল এবং  হাজার বছর ভ্রমণ শেষে , ভারতে এসে পৌঁছাল । এটিও প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার বছর আগের কথা।.সমুদ্র তীর ধরেই তারা এগিয়েছিল এটাই জনপ্রিয় মত। বহু বছর পর- পরবর্তীতে  এই রুট দিয়েই মোহাম্মদ  বিন  কাসিম সিন্ধু  এসে পৌঁছান।এটি  আর এক ইতিহাসের গুরুত্ব বহ  অংশ।. সমুদ্র তীর ধরে  এসে এই হোমো সেপিয়েন্সরা মুখোমুখি হল অন্যান্য মানব সম্প্রদায়,গোষ্ঠীর সাথে। মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতে এই মানবপ্রজাতিদের বসবাস আগে থেকেই ছিল। ভারত থেকে এই  হমো সেপিয়েন্স দের -( Homo Sapiens ) একটা অংশ আরো এগিয়ে গেল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ,পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে।. আফ্রিকান  হমো সেপিয়েন্স এই  মাইগ্রান্টদের যারা  এরিত্রিয়া দিজিবৌতি বা জিবুতি ,ইয়েমেন , ইরাক হয়ে ভারত এসেছে এরাই ইতিহাসেদ্রাবিড়। আর  ইউরোপ থেকে  টার্কি ,ইরান , আফগান হয়ে  পরবর্তীতে যারা ভারত এসেছে তারা –  Neanderthals- নিয়ান্ডার্থাল । এটি ( জার্মান শব্দ যাযাবর  শিকারী মাইগ্রান্ট ) !!!   ইতিহাস যাদের আর্য নামে অভিহিত করে ।.  আর্যরা ভারতে  ইতিপূর্বেই  – আফ্রিকা অঞ্চল থেকে  আসা –  হমো সেপিয়েন্স   মাইগ্রান্টদের অর্থাৎ  দ্রাবিড় বলে  পরিচিতদের  পরাজিত করেএলাকাটি নিজেদের  অধিকারে  নিয়ে নেয়। এটি  ইতিহাসের যাত্রা বা  অগ্রযাত্রা হিসাবে দেখা হয়।. তাৎপর্য পূর্ন  একটি দিক হল – , জনশ্রুতি , বিবরণী বা ইতিহাসও  অনেক সময় অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রভাবিত। হয়েছে। !!!.দ্রাবিড়, আর্য এবং  ভারতীয়  মুসলিমদের ইতিবৃত্ত বর্ণনা ক্ষেত্রেও যার বড় একটা  হেরফের হয়নি। বিষয়টি  এরূপ, আর্যরা  ইউরোপ থেকেএসেছে  এই ইনফরমেশন –  সর্বত্রই  সহজেই  পাওয়া যায় , দেখা যায়  – দ্রাবিড়রা  আফ্রিকা থেকে  এসেছে – এটা  সাধারণত  চোখে  পড়ে  না।  . বাংগালী , বাংলাদেশী , পাকিস্তানী , ভারতীয়রা প্রত্যেকে  মিশ্র  শংকর জাতি।এ বিষয়টি  নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। স্থানীয় আদি মানুষ এবং পরবর্তী কালে আসা  দ্রাবিড় , আর্য , শক , হুন , আরব , তুর্কি , ইরান, মোগল , আফগান সব মিশ্রণই এই মেল্টিং পটে  হয়েছে । শত ,সহস্র বছর ধরেই  যা ঘটেছে এবং এখনও ঘটে চলেছে। বাইরে থেকে আসা অন্য সবাইকে নিজের বলে শুধু মাত্র  মুসলমানদের-কে বহিরাগত বলা  শুধুই একটি  উদ্দেশ্য মূলক প্রচার । তাই  হমো  (Homo Sapiens)  সেপিয়েন্স–দ্রাবিড় -রুট  ধরে – আসা মোহাম্মদ বিন কাসিম, এবং  নিয়ান্ডার্থাল,- – ( Neanderthals ) পথে  টার্কি , ইরান , আফগান  রুট  ধরে – খাইবার গিরি ,দুর্গম পথে , দুস্তর মরু পাড়ি দিয়ে   ভারত  আসা মোহাম্মদ ঘোরী  এবং   জহিরুদ্দিন শাহ  মোহাম্মদ  বাবর কে  ভিন্ন  ভাবে  দেখা ও দেখানোতে, –  এই  একই উদ্দেশ্যেই, অনেকেই  আনন্দ পান ।.মুসলমান  উপমহাদেশে বহিরাগত, ইসলাম  আরব ধর্ম , মরুর ধর্ম ,এরূপ বিদ্বেষ মূলক ইসলামোফবিক অপপ্রচার  অবিরাম ক্লান্তহীন  ভাবে  যারা  করেন। তারাও  জানেন, বাংলাদেশ সহ এই উপমহাদেশে মুসলমানরা  ট্যুরিস্ট নয়। এদেশেরই সন্তান ,আদি খান্দান।
 এ উপমহাদেশের নয়া ইতিহাস মুসলিম হাতে গড়া। চারিদিকে ,চারিধারে তার ছোয়া। এ সত্য ব্যতিরেকে ইতিহাস রচনা অচিন্তনীয় , অকল্পনীয়।ইসলামের  উষা  কালেই  হজরত মোহাম্মদ ( সঃ ) এর জীবদ্দশায় ,সাহাবী মালিক  ইবনে দিনার ২০ জন সঙ্গী নিয়ে ইসলাম প্রচারে ভারত আসেন।রাজা চেরামান পেরুমল – ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম সাহাবী যিনি মোহাম্মদ (সাঃ)-এর চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মু’জেজার সাক্ষী !!
৬২৯-সনে কেরালায় চেরামন জুমা মসজিদ রাসূল হজরত মুহাম্মদ ( সঃ) এর জীবদ্দশায় নির্মিত ভারতবর্ষের প্রথম মসজিদ।.এই  মসজিদ সাহাবী মালিক  ইবনে দিনার এবং  রাজা চেরামান পেরুমলের  উদ্যোগ  এবং  প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়।. প্রায়  একই সময়  কালে কেরালা , গুজরাট  এবং বাংলার বুকেও মুসলমানেরা   আরো অনেক স্থানে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত করেন।.ইসলাম প্রচার ও প্রসারে – সাহাবী , ওলী আল্লাহ ,গাউস , কুতুব , আউলিয়া, ছুফি, পীর, মাশায়েখ , মৌলানা , মৌলবী , তানজিম , তাবলীগ
 এর নিষ্ঠাবান , জ্ঞানী, গুণী ত্যাগী ইসলাম প্রচারকদের ভূমিকাই ছিল মূল এবং  মুখ্য। তাদের এ  অবদান কখনই মুছে যাবেনা।  ইতিহাস
 থেকে  মুছাও যাবে না । পরবর্তীতে ভারতে মুসলিম  শাসন ইসলাম ধর্ম  শান্তি  পূর্ন  ভাবে পালনে ও প্রচারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । যা  পরাধীন ইংরেজ শাসন আমলেএবং আজকের ভারতে  অনেকাংশে বিঘ্নিত। এটাও  সত্য।.
 ইসলাম শান্তির ধর্ম – শান্তি  পূর্ন  ধর্ম   আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধান অনুসরনের ধর্ম।  হজরত আদম ( আঃ )  থেকে  হজরত মুহাম্মদ ( সঃ ) পর্যন্ত  সব  নবী , রসূলের  প্রচারিত ধর্ম।.মুসলিম  ভাষ্য মতে – প্রতিটি  শিশুই  জন্ম  সময় মুসলিম। তাই অন্য  সব  বিশ্বাস ,মতবাদ বা ধর্ম মত থেকে ইসলামে  ফিরে আসা দের.  কনভার্টেড  না বলে  রিভার্টেড  ( Reverted )  বলা হয়।  অর্থাৎ এটি  নিজ  মূল  ঘরে প্রত্যাবর্তন -অন্য  গৃহ যাওয়া নয়।
মুহম্মদ বিন কাসিম  ৭১২ সালে রাজা দাহিরকে   আরোর  (AROR )  যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করে  সিন্ধু জয় করেন এবং সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম করেন। ( Muḥammad bin -Qāsim conquest , Sindh and Multan from the last Hindu king, Raja Dahir in the battle of Aror  in 712 AD. ).৬২৯-সনে কেরালায় চেরামন জুমা মসজিদ প্রতিষ্ঠার ৮৩ বছর পর – মুহম্মদ বিন কাসিম  ৭১২ সালে রাজা দাহিরকে   আরোর  (AROR )  যুদ্ধে পরাজিতও নিহত করে  সিন্ধু জয় করেন। এবং তিনি  সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম করেন।  ৬২৯-সনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা  এবং  ৭১২ সালে  সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম, এই   ৮৩ বছর  মধ্যবর্তী  সময় কালকে ভারতের মুসলিম  ইতিহাসে মসজিদ  যুগ   নামে  অভিহিত ।  . এই সময় কালে আদি ধর্মে (  ইসলাম )  প্রত্যাবর্তন কারী  রিভার্টেড -মুসলিমরা  স্থানীয় ভিন্ন ধর্ম ও মতের শাসকদের  হাতে নির্যাতন  ওবৈষম্য মূলক নিষ্ঠুর আচরণের  নিত্য  শিকারে  পরিনিত হতেন । যা মক্কা বিজয়ের পূর্ববর্তী -মুসলিম অবস্থার সাথে তুলনীয়।বিভিন্নসময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এরূপ পরিবেশ পরিস্থিতি উদ্ভব হতে দেখা যায়। এই রূপ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই , ঘটনা ক্রম  মোহাম্মদ বিনকাশিমের ভারত  আগমন  অনিবার্য  করে তুলে। এটি মানব ইতিহাসের এবং মুসলিম ইতিহাসের  ধারাবাহিক শিক্ষা। ইসলাম  ফির জিন্দা হতে হ্যায় , হর কারবালা কি বাদ। বাংলায়  মসজিদ  যুগ এবং মুসলিম শাসন যুগের  এই  গ্যাপটি   ছিল  দীর্ঘতর। ৬২৯ থেকে ১২০৪  দীর্ঘ – ৫৭৫ – বছর।.         এরূপ প্রেক্ষাপটে  উপমহাদেশের  ব্রিটিশ পূর্ববর্তী ” বাংলাদেশ, পাকিস্তান – ভারতের  মুসলিম  ইতিহাসকে  তিন স্তরে , তিন ভাগে,ভাগ  করে দেখা হয় ।  
.         এক : ৬২৯  থেকে  ৭১২ সন  পর্যন্ত  এই  ৮৩  বছরকে  উপমহাদেশের  – মুসলিম  ইতিহাস ,( চেরামন জুমা  মসজিদ )  মসজিদ যুগ  নামে অভিহিত।  বাংলায়  এই  গ্যাপটি   ছিল  দীর্ঘতর। ৫৭৫  বছর।.দুই :   ৭১২  মোহাম্মদ বিন  কাশিমের – সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা কাল থেকে শুরু করে   ১৭৫৭ -পলাশীর ষড়যন্ত্রের যুদ্ধ পর্যন্ত  ১০৪৫ বছর কে ‘  – ভারতে  ইসলাম এবং  মুসলিম শাসন’ কাল ” ইতিহাসের  আলোকিত  হাজার  বছর” – নামে অভিহিত ।.
তিন :  ১৭৫৭র পলাশী যুদ্ধের পর থেকে থেকে  ১৮৫৭ র সিপাহী  জনতার স্বাধীনতা পুন্ উদ্ধার যুদ্ধ এবং তৎ পরবর্তী সম্রাট  বাহাদুর শাহ  জাফরকে বার্মাতে  নির্বাসনে  পাঠান  সময় কাল কে –  অস্তমিত দিগন্তের  -মুগল শাসন কাল  হিসাবে  অভিহিত  করা হয়।

*

                                  ” মুসলিম বাংলার ইতিহাস – রূপালী আলোয় দেখা  সোনালী দিনের কথা।”                                          দ্বিতীয়  অংশ।  ( মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরোন্ট। )                                                   
 . ♦️ যুদ্ধ  জয়ের  মাঝে  রাজ্য জয়ের নানা  কাহিনীতে  ইতিহাস ভরপুর। রক্তপাত, হত্যা, ধ্বংস যুদ্ধের এক চিরচেনা চিত্র। যেখানে আছে শত ,সহস্র জয়, পরাজয় এবং আনন্দ বিষাদে  ভরা কাহিনী। সর্বত্র, সর্বদা,  ঘুরে ফিরে  ঘটনা  প্রায় একই। ইতিহাসের পাতায় মুসলিম বাংলা কোন অংশেই কম নয়। এখানেও  তা নানা রঙের হাজারো ঘটনা নিয়ে চড়াই উৎরাই পার হয়ে এগিয়েছে।.
কোথাও বা সামান্য কিছু  উনিশ’ আর বিশ । এর খুব একটা  বাইরে নয়।  যা মানব ইতিহাসেরই  এক উজ্জ্বল অংশ। ইতিহাসের  পরিচিত  পথ ধরেই তা এগিয়েছে। মূল পার্থক্য যা কিছু- তা’ – হল ফলাফলে।.উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসের মতই  (পাক- ভারত ,বাংলাদেশ )  বাংলার মুসলিম ইতিহাসকেও কয়েকটি পর্বে ভাগ করা যায়। যথা :.( এক )  ৬২৯ থেকে ১২০৪ সন পর্যন্ত ৫৭৫ বছরের ইতিহাসকে বাংলার  ‘নও  মুসলিম মসজিদ যুগ’ ।.( দুই )  ১২০৪- থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত- ৫৫৩ বছরের ইতিহাসকে –  ” বাংলায় মুসলিম শাসনের সোনালী যুগ।” ।.( এটি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির গৌড় জয় এবং বাংলার বুকে প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে -বাংলার শেষ স্বাধীন সংগ্রামী নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ পর্যন্ত – মুসলিম শাসনের ইতিহাস’ কাল।।).( তিন )- ১৭ ৫৭ থেকে ১৯৪৭- পর্যন্ত ১৯০ বছর বাংলায়, ইংরেজ বেনিয়া শাসিত পরাধীনতার যুগ।.( চার ) ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১- পর্যন্ত-২৪ বছর , পাকিস্তানী বঞ্চনা , বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের যুগ। ( এবং ১৯৭১’ এ , স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা অর্জনের যুগ।)..( পাঁচ ) ১৯৭১ থেকে ২০২১’ – পর্যন্ত- পঞ্চাশ বছর । এই সময়কে  শিক্ষা,  গবেষণা, উন্নয়ন ও  উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির  যুগ ।  বা  স্বাধীনতা  সুবর্ন জয়ন্তীর যুগও  বলা যায় ।. মুসলিম: ইতিহাসের  দীর্ঘ এ পথ যাত্রাকে সহজ সরল ভাবে তুলে ধরতে – জানতে, বুঝতে এবং উপলব্ধি করতে এখানে – ১২০৪ থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত প্রথম পর্বের ৫৫৩ বছর – সময়কাল- এবং তখন কার শাসন ব্যবস্থা , শাসন আমল এবং ডাইনেস্টির নাম সহ , উল্লেখযোগ্য  বিশেষ কিছু কীর্তি এবং স্মরণীয় কিছু অবদানের কথা তুলে ধরা হল। সহজ  ভাবে – জানতে, উপলব্ধি করতে বিষয়গুলি  জানা আবশ্যক। .একই সঙ্গে এই ৫৫৩ বছর ‘ ( ১২০৪- থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত- সময়কাল ) কি ভাবে কেন্দ্র শাসিত অর্থাৎ দিল্লী শাসিত এবং স্ব শাসিত স্বাধীন বাংলার শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছিল সেটিও  জানতে হবে।তখনকার  দিনে বাংলার  মুসলিম:  শাসকদের উপাধি গুলি প্রধানত : ছিল : সুবেদার, শাহ , সুলতান এবং নবাব ।ইত্যাদি।. কেরালায় চেরামন জুমা মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রায় সমসাময়িক  কালে বাংলাদেশ অঞ্চলে এবং আশেপাশে , সমগ্র  এলাকায়  ইসলামের বাণী নিয়ে মুসলিম ধর্ম প্রচারকেরা  কাজ করছিলেন। । এবং তখন তারা এ’  অঞ্চলেও  মসজিদও  প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই একই প্রেরণায়। একই  উদ্দীপনায়।.  ১২০৪  সালে  ইখতিয়ার উদ্দিন  মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজি   গৌড়ের “নবদ্বীপ – নদীয়া ”  দখল  করেছিলেন। ১৭ জন  অশ্বারোহী ( ঘোড়  সৌনিক)  নিয়ে তিনি রাজধানী  বিনা  যুদ্ধেই   জয়  করেন। যুদ্ধের  ধ্বংস  ও  রক্তপাত সেখানে  ঘটেনি গৌড়ের  রাজা তখন ছিলেন  লক্ষণ  সেন ।  ১২০৪  সাল থেকে ২০২১’ –   ঘটনাটি  এখন থেকে  ৮১৭  বছর আগের কথা। যুদ্ধের  আভাস পেয়েই সেদিন  রাজা   লক্ষণ  সেন  নদীয়া  থেকে  নৌকা  যোগে  পূর্ব বাংলার   ভাওয়াল   অঞ্চল।-মুন্সিগঞ্জ – বিক্রমপুর  পালিয়ে  যান। তাই   বিনা  যুদ্ধেই  বখতিয়ার  খিলজি   নদীয়া  জয়  করেছিলেন ।  লক্ষণ  সেনরা  ছিলেন বাংলায়  কর্ণাটক – দক্ষিণ ভারত  থেকে আগত।.  দিল্লীতে   তখন ছিল  মোহম্মদ ঘোরী ডাইনেস্টির  শাসন ।১১৯৩ থেকে ১২০৫ পর্যন্ত  মোহম্মদ ঘোরী শাসন ক্ষমতায় ছিলেন । তারপর ১২০৬ সালে দিল্লির  মসনদে বসেন  কুতুবউদ্দিন আইবেক।  আর  ১৭৫৭ সনে  বাংলার  শেষ  স্বাধীন  নবাব  সিরাজ -উদ -দৌল্লাহর  সময়  দিল্লীতে   ক্ষমতায় ছিলেন  মোগল  সম্রাট – দ্বিতীয়  আলমগীর মোহাম্মদ শাহ-  তিনি  ১৭৫৪ -থেকে  ১৭৫৮) পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় ছিলেন ।  The  Mughal  emperor Alamgir  muhammad  shah -II  and  The  Battle  of Delhi 1757 .* And  The Third Battle of Panipat took place on 14 January 1761 at Panipat,Near  Delhi,  about 97 km (60 miles) north of Delhi.    Between the Maratha  and the  Afghan muslim  army of Ahmad Shah Durrani /Ahmad shah  Abdali .  ওই সময় কালের  সংঘটিত  এ দু ‘ টি  যুদ্ধ পরবর্তী ইতিহাসের বাঁক  পরিবর্তনে বিরাট  প্রভাব ফেলেছে।.বখতিয়ার খিলজি ছিলেন আফগানিস্তানের  হেলমান্দ প্রদেশের , গামসির শহরে  জন্ম গ্রহণকারী তুর্কি বংশোদ্ভূত -খাঁটি তুর্ক -আফগান মিশ্রণ বাংগালী।  বাংলার মুসলিম। জন্ম গামসির মৃত্যু দিনাজপুর।  গত ৮১৫ বছর সেখানেই শায়িত।  বহু  প্রতিভার অধিকারী , উচ্চ অভিলাসী ,প্রচন্ড পরিশ্রমী , কর্মঠ। বখতিয়ার খিলজির  চ্যালেনজিং  কর্ম জীবনই  তাকে ইতিহাসের – সোনালী পাতায় , সোনালী খাতায় স্মরনিয় করেছে. একাধারে  বিজয় বীর , দার্শনিক সংগঠক , সমাজ সংস্কারক নির্মাতা হিসাবে।.
সুদর্শন ,দিঢ়চেতা , সংকল্পে কঠোর, মুখায়বের’-  অধিকারী , সিংহ  পুরুষ  ইখতিয়ার উদ্দিন  মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজিকে  যারা কুৎসিত বলে  অপপ্রচার করেন , তারা শুধু জেলাস’ – ই  নয়  – ‘যাকে দেখতে  না পারি , তার চলন   বাঁকা : – গালি দেওয়া  টাইপের  মানুষ। তারাই    প্রকৃত কুৎসিত  মনের মানুষ।
.Al Mahmud, The  leading Bangladeshi poet, composed a book of poetry titled Bakhtiyarer Ghora (Horses of Bakhtiyar) in the early 1990s. In his book he praised him as a Muslim hero who conquest the  Bengal.. দু’  এক জন  বখতিয়ার   খিলজি কে   তুর্কি’- বাঙালি হিসাবে  মেনে নিতে ইতস্তত  করলেও  তারা -বাংলাদেশী  আমেরিকান বা   বাংলাদেশী  কানাডিয়ান কনসেপ্টকে সাদরে বরণ করেন।।আজও  ভারতের  পশ্চিম বাংলার   ৩০  মিলিয়ন বাঙালি  মুসলিমের মাঝে  প্রায় ৫ মিলিয়নের  ঘরের প্রথম ভাষা উর্দু ।.১২০৬  সালে  বখতিয়ার  খিলজির বাংলাদেশে  দিনাজপুরে – মৃত্যু হয়।  মৃত্যুর  পর তাকে  -দক্ষিণ  দিনাজপুরের পিরপল দরগা শরীফে  সমাহিত করা হয়। গত ৮১৫ বছর তিনি সেখানে শেষ নিদ্রায় শায়িত।  তিব্বততে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ব্যর্থ  হলেও  বিহার কে  বাংলার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।.বাংলার  শেষ  স্বাধীন  নবাব  সিরাজ -উদ -দৌল্লাহ  ১৭৫৭ সনে  পলাশীর ষড়যন্ত্র  মূলক  যুদ্ধে পরাজয়   বরণ  করেন।।এই পরাজয় বয়ে আনে,  ১৭৫৭   থেকে  ১৯৪৭  পর্যন্ত ১৯০ বছর ইংরেজ  শাসন। নবাব সিরাজ উদ  দৌল্লাহর জন্ম এবং মৃত্যু  এই বাংলার মাটিতেই।.পরাধীনতার এই ১৯০ বছর সময় কাল বাদ দিলে –আজ – ৬২৭  বছর বাংলা, মুসলিম শাসনে । মাঝে কিছু সময় , কিছুকাল  বাংলাকে দিল্লী ও ইসলামাবাদ কেন্দ্রিক শাসনের অভিজ্ঞতার  মাঝে দিয়ে যেতে হয়েছে।সেটিও   ইতিহাসেরই  অংশ।
. মুসলিম  শাসনের পূর্বে  ঐ সময়  – বাংলা কয়েকটি  অঞ্চলে  বিভক্ত ছিল। তখন  মুসলিম  শাসন প্রতিষ্ঠিত নাহলে ভাঙা, -বাঙ্গা ,ভাওয়াল, গৌড় ,বরেন্দ্র ,হরিকেল ,সমতাটা কে একত্রীত করে তেজস্বী , শক্তিশালী , ঐক্য  বদ্ধ বৃহৎ বাংলা  কখনও  পাওয়া হত না। ঢাকা, সোনারগাঁ ও  মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রিক  বাংলা  বিহার ,উড়িষ্যার – সুবেদারি, শাহী , সুলতানি ,” নবাবী – স্বাধীন বাংলাও” –  কখন  হতনা। একই  ভাবে তখন  হতনা  বাংলার   কেলেন্ডার – বাংলা নব বর্ষ।  যা  সম্রাট  আকবরের  নির্দেশ ক্রমে – ফতে  উল্লাহ  সিরাজী  তৈরি  করে ছিলেন।. যিনি বাংলাদেশ কে  ভালবেসে  চিরকাল  এ দেশেই স্থায়ী ভাবে থেকে যান।  মরনের পর তাকে ঢাকার অদূরে  নারায়ণ গঞ্জে  সমাহিত  করা হয়। তার  সম্মানে  ওই  স্থানকে  ফতে উল্লাহ বাদ  – নাম করন  করা  হয়।  আজ মানুষ  সে স্থানকে  ফতুল্লা  নামে  ডাকে।. সব দিকে মুসলিম  হাতে তখন – বাংলা এরূপ পরিচর্যা  না পেলে , এমনকি খোদ বাংলা ভাষাই  বিলুপ্ত হয়ে যাবার শঙ্কা ছিল ।সে সময়  ঐ  আমলে  বাংলার  ভূ – রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ম্যাপ টি ( চিত্র টি ) ছিলো  এইরূপ।

♦️

 “মুসলিম  পূর্ব’   – বাংলার  রাজনৈতিক ও  ভৌগলিক – মানচিত্রঃ” টি  তখন এইরূপ ছিল।.গৌড় -লক্ষণ সেন :-  নদীয়া , নবদ্বীপ , মালদহ  অঞ্চল।.গৌড় -গোর গোবিন্দঃ – সিলেট  অঞ্চল।.বরেন্দ্র – বাংলাদেশের রাজশাহী  অঞ্চল।.ভাওয়াল-   মুন্সীগঞ্জ , বিক্রমপুর  অঞ্চল।.সমতাটা – ঢাকা , ফরিদপুর , শরীয়তপুর ,খুলনা , যশোর , বরিশাল অঞ্চল।. ভাঙা / বাঙ্গা – বর্তমান  পশ্চিম বাংলার দক্ষিণ  অঞ্চল।.হরিকেল – চিটাগাং , কুমিল্লা  অঞ্চল ।খণ্ডিত এই  বাংলাকে, মুসলিম শাসকরাই ঔক্য বদ্ধ করেন।

🌿

♦️ সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ  সরকার এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে  বাংলা এবং  বাঙালি এই কথা দুটি  সর্ব প্রথম চালু করেন। এখানে  বাংলার মুসলিম  শাসকদের  কিছু   উল্ল্যেখ যোগ্য, যুগান্তকারী কীর্তি কাহিনী ও  সামরিক  অভিযানের বর্ননা দিব যেগুলি সাধারণত উপযুক্ত গুরুত্ব  সহকারে আমাদের সামনে আসে না  ।
.  ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী (  ১২০৪ – ১২০৬ ) =  :- ১২০০ সালে বিহার দখল করেন ।তিনি  ১২০৪ সালে  গৌড়  বিজয় করেন। এবং  (১২০৬ খ্রি.)সালের  প্রথম দিকে দেবকোট  থেকে তিব্বতে   দুঃসাহসিক অভিযান করেন।. সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ  ১৩৫২ সালে গৌড় সহ এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র  রাজ্য গুলি  একত্রিত করে  এই ভূখন্ডের নাম রাখেন বাঙ্গালাহ ।. 
 তিনিই প্রথম এই ভূখন্ডের একই ভাষাভাষী ও নৃতাত্বিক বৈশিষ্টসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙ্গালী’ নামে নামকরন করেন এবং বাঙ্গালী পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেন ।. সেই থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বাঙ্গালী নামে পরিচিত  মুসলিম শাসন বাংলা ভাষাভাষী লোকদেরকে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যমঞ্চে সংঘবদ্ধ করে,বাংলা ও বাঙ্গালীর ইতিহাসের একটি মজবুত  ভিত্তি  সংহতি স্থাপন করে । তাদের উদার পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহে  বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি নিশ্চিত হয়।  শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮): ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপালের তরাই অঞ্চলে এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি রাজধানী কাঠমুন্ডু দখল করেন। এবং পরে বাংলায় ফিরে আসেন।. গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ। ১৪০৬ সালে বার্মিজ কতৃক বিতাড়িত ,পরাজিত  রাজ্য হারা  আরাকান কিং  মিন স মন  বা  নরমিখলাকে  মুসলিম বাংলায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেন।

Ghiyasuddin Azam Shah was the third Sultan of Bengal and the Ilyas Shahi dynasty. He was one of the most prominent Muslim  Bengali sultans. He established diplomatic relations with the Ming Empire of China, pursued cultural contacts with leading thinkers in Persia and conquered Assam

সুলতান  জালালুদ্দিন  মোহাম্মদ শাহ : (  ১৪১৫ – ১৪৩৩  ) –  : এর  নির্দেশে  ক্রমে – ১৪২৯/ ৩০  সালে  জেনারেল  ওয়ালি খানের  আরাকান  অভিযান  এবং আরাকান থেকে বার্মিজ দের  সমূলে উৎখাত করে  -আরাকানের স্বাধীনতা  পুন্ : উদ্ধার এবং  নরমিখলা  মিন স মন কে আরাকানে  পুনঃ  প্রতিষ্ঠায়  বড় আকারে  সহযোগিতা করেন।  বাংলার সুলতান   এটি  ১৯৭১’ –  এ  স্বাধীনতার ৫৪১ বছর আগেই  করেছিলেন।.বাংলার মুসলিম  শাসকদের  বার্মাকে পরাজিত করে আরাকান থেকে বিতাড়িত করা।  এবং  নরমিখলা  মিন স মন কে আরাকানে  পুনঃ  প্রতিষ্ঠা ছিল ভূরাজনৈতিক দিক থেকে  দূরদর্শী   গুরুত্ব পূর্ন  একটি বিজয়।  আমাদের  কূটনৈতিক  রাজনীত আজও  এটিকে উপযুক্ততার  সাথে  প্রজন্মের  সামনে তুলে ধরতে  পারে নি।  
.( ১৪০৬  সালে  বার্মার  আভা রাজ্য , আরাকান  আক্রমন  করে দখল করে নেয়। আভা রাজ্যের  যুবরাজ  মিনে ইয়াওয়াসা  Minye Kyawswa – ঐ  অভিযান  পরিচালনা করেন। তখন  আভা  এবং তার প্রতিবেশী  রাজ্য   powerful Hanthawaddy Kingdom রাজ্যের মাঝে বৈরিতা চলছিল। ফলশ্রুতি তে – আরাকান  ভিকটিম হয়।  পরাজিত নরমিখলা  পরবর্তী  ২৪ বছর  বাংলাদেশের   সোনার গাঁয়ে  রাজনৈতিক  আশ্রয়ে ছিলেন।.বাংলার সুলতানের দূরদর্শিতা সাহসিকতায়  – আরাকান ফিরে পায়  তার স্বাধীনতা। কিং  মিন স মন  বা  নরমিখলা ইসলাম ও মুসলিমের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ  নিজ নামের সাথে উপাধি নেন সুলতান মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ। তিনি  ছিলেন  একাধারে আরাকানের লেমরু শাসনের শেষ বা তৃতীয় পর্বের শেষ রাজা ।এবং  স্বাধীন মারাউকি  আমলের প্রতিষ্ঠাতা। যা  ১৪৩০- ১৭৮৫ পর্যন্ত  ৩৫৫ বছর। স্বাধীন মারাউকি আমল হিসাবে টিকে ছিল। ।.১৭৫৭ সনে  মুসলিম বাংলার পতনের  ২৮ বছরের  মাথায় ১৭৮৫ সনে বার্মা আবারও আরাকান দখল করে নেয়।  ওই  সময়  আরাকান রাজা থান বি ঘা বাংলাদেশ পালিয়ে আসেন  এবং ১৮০৬ সাল , মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চট্টগ্রাম এবং কক্স বাজার থেকে –সঙ্গে  পালিয়ে আসা সঙ্গী , সাথী , অনুচর এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্বাধীনতা উদ্ধারে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যান।.দুঃখ  সেদিন  সোনার গাঁ , ঢাকা  মুর্শিদাবাদে ছিলেন না কোন সুলতান , নবাব। বাংলা তখন শাসিত হচ্ছে কলকাতা থেকে  বেনিয়া ইংরেজ দ্বারা। সাহায্যের বদলে ইংরেজ সেদিন স্বাধীনতা উদ্ধার কামিদের উপর চালায়  দমন পীড়ন। অমানবিকতা।
.অপর দিকে বাংলার মুসলিম শাসকেরা এদেশের জনতার সাথে , গণ মানুষের মাঝেই    জীবনের  সব  সন্বল সহ  নিজ জীবনকেই  এই মাটির সাথে  মিশিয়ে দিয়েছেন। আজও  তারা এ মটিতেই  শায়িত। মুসলিম শাসনে বাংলা  সেদিন বিশ্বের  মাঝে  ধন, সম্পদ, ঔসর্য  পূর্ন  শান্তি ও  শক্তির  দেশ হিসাবেই  পরিচিত   ছিল।
. ১৭৫৭ সনে  বাংলার  শেষ  স্বাধীন  নবাব  সিরাজ -উদ -দৌল্লাহর   পলাশীর ষড়যন্ত্র  মূলক  যুদ্ধে পরাজয় এবং তার পর ১৯৪৭  পর্যন্ত ১৯০ বছর ইংরেজ  শাসন।এই সময় কাল বাদ দিলে – ৬২৭  বছর বাংলা  ছিল   মুসলিম শাসনে । এই সময়  কিছু সময় , কিছুকাল  বাংলাকে দিল্লী ও ইসলামাবাদ কেন্দ্রিক শাসনের অভিজ্ঞতার  মাঝেও যেতে হয়েছে।
.
ইখতিয়ার উদ্দিন  মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজি বাংলা  জয়  করেন   দিল্লীতে  তখন  মোহম্মদ ঘোরী ডাইনেস্টির  শাসন চলছে।১১৯৩ থেকে ১২০৫ পর্যন্ত  মোহম্মদ ঘোরী শাসন । তারপর দিল্লির  মসনদে বসেন ১২০৬ সালে  কুতুবউদ্দিন আইবেক।  আর  ১৭৫৭ সনে  বাংলার  শেষ  স্বাধীন  নবাব  সিরাজ -উদ -দৌল্লাহর  সময়  দিল্লীতে   ক্ষমতায় ছিলেন  মোগল  সম্রাট – দ্বিতীয়  আলমগীর মোহাম্মদ শাহ( ১৭৫৪ -থেকে  ১৭৫৮) পর্যন্ত ।  

☘️🇧🇩🌿  বাংলায় মুসলিম শাসনের সোনালী দিন- ১২০৪ থেকে ১৭৫৭ সন পর্যন্ত  ৫৫৩ বছর। .  [ মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি  – থেকে -নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ পর্যন্ত – ১২০৪ থেকে  ১৭৫৭ সন  , পাঁচ শত তিপ্পান্ন    বছর।  ]..                       🌿  1. মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ডাইনেস্টি। ১২০৪ -১২২৭. ( তারপর  মামলুক আমলের শুরু।).                         ১২০৪ -১২০৬ -.মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজি।                        ১২০৬ –  ১২০৮ মোহাম্মদ শিরান খিলজি।                        ১২০৮ – ১২১০  মুহাম্মদ  ইয়াজ খিলজি।                        ১২১০ – ১২১২  মুহাম্মদ  আলী মার্দান খিলজি।                        ১২১২ – ১২২৭  মুহাম্মদ  ইয়াজ খিলজি। তিনি নুতন নাম নেন -মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন   ইয়াজ খিলজি।.
                              2. মামলুক সুলতানদের শাসন আমল। ডাইনেস্টি। ১২২৭ – ১২৮১..                             3. বলবান শাসন আমল। ডাইনেস্টি। ১২৮১ -১৩২৪..                              4. ( তুগলগ আমলে -তুগলগ দের নিয়োগ প্রাপ্ত বাংলার শাসন কর্তা ১৩২৪ – ১৩৩৯  পর্যন্ত।
.                                   ( Governors of Bengal under Tughlaq’ s .– 1338 to 1339. )
.                              5. ফকরুদ্দিন মুবারক শাহ ডাইনেস্টি। ( বাংলার স্বাধীন শাসক ) ১৩৩৯ – ১৩৫২

. .                              6 .  ( ক ) :- সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। * ১৩৫২ – ১৩৫৮.                                    ( খ ) :-সিকান্দার শাহ। * ১৩৫৮ – ১৩৯০ .                                    (গ) : – গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ। * ১৩৯০ – ১৪১১.                                  ( ঘ) : – সাইফুদ্দিন হামজা শাহ। * ১৪১১ – ১৪১২.                                  (ঙ ) শাহাবুদ্দিন বাইজিদ শাহ। *১৪১২ – ১৪১৪.                                  ( চ ):- জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ। ১৪১৫ – ১৪৩৩ .
         (জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ। ছিলেন রাজা গণেশের  বড় পুত্র  যদু  গনেশ – ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে –জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ নাম গ্রহণ               –  করেন )..         [ এর  পর  বাংলার  সুলতান হিসাবে ক্ষমতায়  আসেন শামসুদ্দিন আহমদ শাহ। –  ১৪৩৩ – ১৪৩৫ ]
           ( ছ ): শামসুদ্দিন আহমদ শাহ। ১৪৩৩ – ১৪৩৫ – *
            (জ ): নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ – ১৪৩৫ – ১৪৫৯            (ঝ ): রুকুনুদ্দীন বারবাক শাহ -১৪৩৫ – ১৪৭৪।            (ঙ):- শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – ১৪৭৪ – ১৪৮১            (ট): – জালালুদ্দিন ফাতে শাহ – ১৪৮১ – ১৪৮৭

.7. ইলিয়াস শাহ বংশের পালক পুত্র হাবশী আফ্রিকান দের আমলকে ( হাবশী শাসন আমল হিসাবে ইতিহাসে উল্লেখ হয়।).হাবশী শাসন আমল ১৪৮৭ থেকে ১৪৯৪ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।———————————————————( Mughal Subahdars and Governors of Benggal subah. * 1565 – 1717 –Independent Nawabs of Bengal. 1717 – 1757 . Till Nawab Sirajuddullah . I)..“নবাব মুর্শিদ কুলি খান বাংলা , বিহার , উড়িষ্যায় ১৭১৭ সালে স্বাধীন নবাবী আমল প্রতিষ্ঠা করেন।”.
১৭০০ সালে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে বাংলায় দেওয়ান / ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ দেন। যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে অল্প সময়েই. তিনি নিজাম / সুবেদার / গভর্নর হিসাবে প্রমোশন পান। তার এই প্রোমোশনে অনেকে জেলাস হন তারা কৌশলে সম্রাটের নাতি আজিম উস শান কে তার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেন। কুলি খানের জীবন সংকট পূর্ন হয়ে পড়ে ।*সম্রাট আওরঙ্গজেব বিষয়টি অনুধাবন করে নাতি আজিম- উস- শান কে পাটনায় বদলি করেন এবং নাতির নামে পাটনার নাম. আজিমাবাদ নাম করণ করেন। এবং মুর্শিদ কুলি খান কে ঢাকা থেকে বদলিকরে মুকসুবাদ পাঠান। পরে এই শহরকেই নবাব মুর্শিদ কুলি. খান – মুর্শিদাবাদ নাম করণ  করেন  ।এবং বাংলা বিহার উড়িষ্যার( রাজধানী করে ) নবাবী আমল শুরু করেন। নুতন এই রাজধানী. বাংলার পুরান রাজধানী নদীয়া থেকে খুব বেশি দূরে নয়।.
স্বশাসিত: স্বাধীন : নবাবী আমলের তালিকা 🙁  ১ ) মুর্শিদ কুলি খান -( ১৭১৭ — ১৭২৭ )( ২ ) সরফরাজ খান। – -( ১৭২৭ – – ১৭২৭ )( ৩ ) সুজা উদ দৌল্লাহ ,( ১৭২৭- ১৭৩৯ )( ৪  ) নবাব আলী বর্দি খান। ( ১৭৪০ – ১৭৫৬)( ৫ ) নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ।(১৭৫৬- ১৭৫৭)
. ( পরবর্তীতে বাংলার ইতিহাস  ক্রমে  ক্রমে  সিরাজ উদ দৌল্লাহ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিব এই পথে এই দিকে  এগিয়েছে। ) .ধার্মিক সম্ভ্রান্ত শিক্ষানুরাগী  মা  আমেনা  বেগম  ও  পিতা  জয়েন  উদ্দিন  আহমেদ  খানের ঘরে  নবাব  সিরাজ উদ  দৌল্লাহ  ১৭৩৩ সনে  জন্ম  গ্রহণ  করেন। নানা নবাব  আলী  বর্দি  খানের  তত্ত্বাবধানে  –  বাংলার ভবিষ্যত  নবাবকে  দেশ পরিচালনার  উপযুক্ত  ট্রেনিং  এবং  শিক্ষা ,দীক্ষা , মেজাজ , মর্জি ,আদপ , ব্যবহার , রুচি , যোগ্যতা , দক্ষতায়  শ্রেষ্ট  করে  গড়ে তুলতে  নবাব  প্যালেসেই  সব  ধরনের বাবস্থা নেওয়া হয়। এবং তিনি সেই ভাবেই গড়ে উঠেন।.( He was raised at the Nawab’s palace with all necessary education and training suitable for a future Nawab. Young Siraj also accompanied Alivardi on his military ventures against the Marathas in 1746.  ).নানা নবাব আলী বর্দি খান এর কোন পুত্র সন্তান না থাকায় নাতি সিরাজ উদ দৌল্লাহ কে ১৭৫২ সনে পরবর্তী নবাব হিসাবে ঘোষণা দেন ।নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ নানা – নবাব আলী বর্দি খানের মতোই এক জন দেশ প্রেমিক প্রজা হিতৌষী জন দরদী,   অসীম সাহসী নবাব ছিলেন।নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ – ছাড়া বাংলার ইতিহাস অসম্পূর্ন ও অকল্পনিয় । আজীবন তিনি তার বুদ্ধি , বিবেক , শক্তি সামর্থ দিয়ে এদেশ এবং এদেশের মানুষের কল্যানে কাজ করেছেন। জীবনের সর্বস্ব দিয়েছেন। এদেশের স্বাধীনতা রক্ষায় যৌবন কালেই জীবন দিয়ে সর্ব শ্রেষ্ঠ – ত্যাগ শিকার করেছেন।.জীবনের প্রথম শাঁস এবং শেষ নিঃশ্বাস এদেশেই ত্যাগ করেছেন। তার জীবন সম্পদের প্রথম পেনি – শেষ পয়সা এদেশের মাটির সাথে মিশে গেছে। তার রক্ত তার বংশ এদেশের মানুষের মিছিলে আজও জেগে আছে , স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হয়ে। ।ক্ষমতায় আসার পরই তিনি বুঝতে পারেন চারি দিকে তিনি শত্রু পরিবেষ্টিত।.প্রাসাদে খালা ঘসেটি বেগম , মীর জাফর আলী খান , বাইরে -জগৎ শেঠ , উমি চাদ , রায় দুর্লভ। কলকাতায় ইংরেজ , পশ্চিমে মারাঠা । এই কঠিন সময়ে মা আমেনা বেগম , স্ত্রী লুৎফুন নেছা,  বন্ধু ভাই , ডান হাত মীর মার্দান , ইতিহাসে মীর মদন বলে পরিচিত আর বন্ধু মোহন লাল। যারা তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তরুণ এই নবাবের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তার  সঙ্গেই  থেকেছেন।.পলাশীর চক্রান্ত ও বিশ্বাস ঘাতকতার যুদ্ধ শেষে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। এই পরাজয় এর সাথেই প্রকৃত পক্ষে -ভারতের পরাধীনতা ও মুসলিম শাসনের অবসানের সূত্রপাত।.( পলাশী যুদ্ধের পরই – শুরু হল ব্রিটিশ রাজ আর পরাধীন ভারতের ইতিহাস ।১৭৫৭ র লর্ড ক্লাইভ থেকে ১৮৫৮ র লর্ড ক্যানিং এবং ১৯৪৭ এর লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন পর্যন্ত  ১৯০ বছর ).মুসলমানদের হাত থেকে চক্রান্ত করে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কথা ইংরাজ সব সময়ই মনে রেখেছে। মুসলমানদের প্রতি সন্দেহ , বিদ্বেষ , অবিশ্বাসের কমপ্লেক্স তাদের মনে থেকেই গেছে। মুসলমানকে দাবিয়ে রাখবার সব প্রচেষ্টাই তারা করেছে।  এই  কূ কর্মে  ইংরেজদের সঙ্গে স্থানীয়  মুসলিম বিদ্বেষী কিছু  চক্রান্ত কারি উগ্র  হিন্দু   ইংরেজদের  সাথী  হয়েছে।ইংরেজও   স্থানীয় এই  দালালদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার  করেছে।.পক্ষান্তরে স্বাধীনতা পুনঃ উদ্ধারের প্রতিটি সুযোগই মুসলমান  এবং  দেশ প্রেমিক হিন্দু কাজে  লাগাবার চেষ্টা করেছে।এবং কাজে লাগিয়েছে।.স্বাধীনতাকামী  বিদ্রহী  মুসলিম মানস ধ্বংসে  ইংরেজ  ও কোন সুযোগ  ছেড়ে দেয় নি। বাংলার  মুসলিমের  অর্থনৈতিক  ভিত্তি  ধ্বংসে নীল কর , নীলচাষ  থেকে  শুরু করে ভুঁই  ফোঁড়  হিন্দু  দালালদের  মুসলিমদের  উপর  জমিদার  হিসাবে  বসিয়ে দিয়েছে।.অর্থনীতি , শিক্ষা  দীক্ষায়  এই  সময়  মুসলমান অনেক  পিছিয়ে  পড়েছে। মুসলিম  শাসন  কালে  বাংলায়  গরিব মুসলিম  ছিল অচিন্তনীয়। আর ইংরেজ শাসনে  বাংলায় ধনী মুসলিম  খুঁজে  পাওয়া  টাই  হয়ে  পড়েছিল অকল্পনীয়। অচিন্তনীয়।.ইংরাজ শাসন আমলে শোষণ ও শাসনের স্বার্থে ইংরেজরা  সারা  ভারতে ডিভাইড এন্ড রুল নীতি চালু করে। যার বিষ ফলে এখনো  মানুষ  ভুগছে। ধর্ম , বর্ণবাদকে উস্কে দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ তুলে ইংরেজ শাসন দীর্ঘায়িত -করবার খায়েশ তাদের পূরণ হয়নি। শেষ মেশ বিদায় তাদের নিতে হয়েছে। তবে বিষ বৃক্ষটি এখন রয়ে গেছে।জাতীয়  পুনর্গঠনে ঐতিহাসিক সত্য  তুলে  ধরা   আজ   খুব  জরুরি।      
☘️🇧🇩🌿

                                                   মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরোন্ট।
                              (   লেখক  পরিচিতি  :  রাজনীতি বিশ্লেষক , ইতিহাস গবেষক । )                     সাবেক সভাপতি -বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরন্টো।  অন্টারিও , কানাডা।                 ( আহবায়ক- – ২০০০ – উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন – ফোবানা টরন্টো- কানাডা। )