তালেবান নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর কাবুলের অবস্থা কেমন?

রোববার কাবুলের দখল নেয়ার পর আফগানিস্তান যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে তালেবান। এর মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের ২০ বছরের উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলো। তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দখল নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কাবুল ত্যাগের মধ্যে দিয়ে সরকার ভেঙে পড়েছে। তালেবানের একজন মুখপাত্র আলজাজিরা নেটওয়ার্ককে বলেছেন, ‘যুদ্ধ শেষ’।

এদিকে কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার এক দিন পর শহরের রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

শহরের অসংখ্য কার্পেট আর গহনার দোকানগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট ক্যাফেও বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানের মালামাল রক্ষা করার জন্য তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেকের মধ্যে এই চিন্তাও রয়েছে যে তাদের পরবর্তী গ্রাহক কোথা থেকে আসবে।

‘আমি পুরোপুরি শোকের মধ্যে আছি। শহরে তালেবানের প্রবেশ আমাকে ভীত করে তুলেছে, কিন্তু আমাদের সবাইকে গনির (প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি) ছেড়ে চলে যাওয়া পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি খারাপ করে তুলেছে,’ রয়টার্সকে বলেছেন একজন দোকান মালিক।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি অফিসগুলো খালি পড়ে রয়েছে।

কূটনীতিক আর তাদের পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ায় কাবুলের দূতাবাস এলাকা পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে রয়েছে।

তালেবান অবশ্য ঘোষণা দিয়েছে, জনসাধারণ তাদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে পারবেন।

একজন নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সাধারণ জীবনযাত্রা আগের তুলনায় আরো ভালো ভাবে চলবে।

কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সেনাদের হাতে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সহযোগী দেশগুলোর কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবান নেয়ার পর যারা রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছেন, তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা।

বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার বেসামরিক আফগান ও বিদেশী নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।

কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, ফাঁকা গুলি মার্কিন সেনাদের

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করলে ফাঁকা গুলি করেছে মার্কিন সেনারা।

’এখানে আমার খুব ভয় লাগছে। তারা আকাশের দিকে অনেক গুলি ছুঁড়ছে,’ একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলছে, ‘জনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতেই ফাঁকা গুলি করা হয়েছে।‘

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেকগুলো ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

অনেকগুলো ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মানুষজন রানওয়ের দিকে দৌড়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছে।

এই বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন সৈন্যরা।

জানা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোয় কূটনৈতিক কর্মীদের আগে সরিয়ে নিতে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, যা বিশৃঙ্খলা আর বিভ্রান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।