বাংলাদেশ- পাক ভারত উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস – প্রেক্ষাপট ও বিকাশ ধারা

মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরোন্ট বাংলাদেশ- পাক ভারত , উপমহাদেশের মুসলিম  ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ,কালচার  বিশ্ব সভ্যতার গুরুত্ব পূর্ন  অধ্যায় অনুরূপ  এটি  বাংলা,  বাংলাদেশ  এবং  বাংলাদেশী  কৃষ্টি , কালচার,  মন, মানস গঠন প্রক্রিয়ার সাথেও গভীর ভাবে সম্পর্ক যুক্ত।. অতীত গৌরব, বর্তমান গর্ব এবং সুন্দর সোনালী ভবিষ্যৎ গঠনে , ইতিহাস একটি  জাতির সামনে  জীবন্ত প্রেরণার উৎস । তাই এর চর্চা ,  গবেষণা অপরিহার্য-   জরুরি।
.
  মানব ইতিহাসের শুরু  হজরত  আদম ( আঃ ) এবং  মা  হাওয়া  থেকে। এটি মুসলিম বিশ্বাস। আদম সন্তানের ইতিহাসই, মানব ইতিহাস।.  এ ইতিহাস আজও বিচিত্র সব  ঘাত -প্রতিঘাতে রোমাঞ্চকর  ক্রম বিকাশ ধারায় এগিয়ে চলেছে। আমরাও  তার একটি অংশ।. হজরত আদম ( আঃ )  থেকে  হজরত মুহাম্মদ ( সঃ ) পর্যন্ত  সব  পয়গাম্বর , নবী , রসূল – এক আল্লাহ পাকের  বাণীই  প্রচার করেছেন।.মুসলিম মতে  দুনিয়ার সব মানুষই ভাই ভাই। এই সূত্রেই  মুসলিমের সাথে  নন মুসলিমদের – ইহুদি , নাসারা ক্রিস্টিয়ান , হিন্দু বৌদ্ধ ,. জৌন , আস্তিক -নাস্তিক অন্য সবার মূল মানবিক সম্পূকর্টি হয়ে দাঁড়ায় একে অন্যের কাজিন।আদি আদম বংশধর। শত সহস্র  বিস্ময়ে ভরা এই দুনিয়ায় এটিও এক  চমৎকার – বিস্ময়।.ডারউইন  মানব উৎপত্তির  ভিন্ন  তত্ব  দিয়েছেন। এ বিষয়ে- আরো অনেক বক্তব্য  আছে – এবং তারও  ইতিহাস – ইতিহাসেই  আছে।  .কথাটি বেশ সহজ সরল  তবে, পথ কিন্তু  সাত সাগর – ৭৩ নদী আর  ৭৪ ঘাটের পাশ দিয়ে  একে বেঁকে -রাস্তা  বানিয়ে এগিয়ে চলেছে।. যেখানে  আছে, এ বিশ্বের  ৪০০ কোটি বছর আগে প্রাণের উদ্ভব থেকে শুরু করে জানা আদি মানব ইতিহাস এবং তারও  আগের অজানা প্রাগ ঐতিহাসিক ইতিহাস। গুহা বাসি, – প্রস্তর যুগ , এবং তাম্র ,লৌহ , সহ  বিভিন্ন ধাতু  যুগ।  শিকারী যাযাবর যুগ , পশু  পালন  যুগ , কৃষি যুগ. এরূপ শত শত যুগ পেরিয়েই  আজকের এই আধুনিক – পাসপোর্ট  যুগের শুরু।.ভিসা ,পাসপোর্ট ,ন্যাশনাল কার্ড , আধুনিক নাগরিক পরিচয় ছাড়াই – আল্লাহর দুনিয়াতে- এ জমিনে কতজন কতভাবে পার হয়ে গেছেন  কেউ  আগে কেউ পরে।তার সব হিসাব সব খবর এখনও অজানা।  বিষয়টি আজও তাই কত অজানারে জানা ।সম্পূর্ণটা হয়তো কখনোই জানার শেষ হবে না। জানা হবে না , জানা যাবে না।.☘️ তবে  জানা মতে – হমো সেপিয়েন্সরা-( Homo Sapiens )- আজ থেকে তিন লক্ষ বছর আগে আফ্রিকায় থাকত।  মরক্কোর জেবেল ইরহুদ. গুহা থেকে পাওয়া ফসিল বিশ্লেষণ করে এবং সেখানকার পাওয়া  তথ্য থেকে এটি বলা হয়। এর আগে ধারণা ছিল হোমো সেপিয়েন্স এর বয়স কাল , সময় পরিধি  দু লক্ষর কাছাকাছি হবে। জেবেল ইরহুড তাকে আরো একলক্ষ বছর বাড়িয়ে দিয়েছে ।.নুতন  নুতন পাওয়া  তথ্য আর  নুতন  নুতন  আবিষ্কার এই ভাবে  প্রতি নিয়ত  আমাদের  জ্ঞান ও তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ  করে চলেছে। এটাই  সত্য।.হমো সেপিয়েন্সদের – (Homo Sapiens)  আফ্রিকা জীবনের তিন লক্ষ বছরের ইতিহাসে – তাদের প্রথম  আফ্রিকা থেকে বের হয়ে  আসা  এবং
  চারিদিকে ছড়িয়ে যাবার প্রচেষ্টার  ইতিহাস – প্রায় এক লাখ বছর আগের   ঘটনা । জেরুজালেম , ইসরায়েল , জর্দান অঞ্চলে  এই সময়কালের
  ফসিল পাওয়া গেছে।। তাদের প্রথম চেষ্টাটি খুব একটা সফল ছিল না।  এই সময় তারা আফ্রিকা সংলগ্ন অঞ্চলের থেকে খুব বেশি দূরে যায় নি।
যেতে পারেনি। তাদের প্রথম সফল মাইগ্রেশান আজ থেকে  প্রায় সত্তর হাজার বছর আগেকার ঘটনা। এটিকেই  বলা হয় আউট অব আফ্রিকা।.আফ্রিকার এরিত্রিয়া এবং দিজিবৌতি অঞ্চল থেকে  শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। তারা এরিত্রিয়া, জিবুতি  ,ইয়েমেন  থেকে  ইরাকের  মধ্যে দিয়ে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ দিক দিয়ে  এগিয়ে -চলল, দূরবর্তী যাত্রায় এগিয়ে চলেছিল। এবং  হাজার বছর ভ্রমণ শেষে , ভারতে এসে পৌঁছাল। এটিও প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার বছর আগের কথা।.সমুদ্র তীর ধরেই তারা এগিয়েছিল এটাই জনপ্রিয় মত। বহু বছর পর- পরবর্তীতে  এই রুট দিয়েই মোহাম্মদ  বিন  কাসিম সিন্ধু  এসে পৌঁছান।. এটি  আর এক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ , গুরুত্ব বহ এক অংশ।. সমুদ্র তীর ধরে  এসে এই হোমো সেপিয়েন্সরা মুখোমুখি হল অন্যান্য মানব সম্প্রদায়, গোষ্ঠীর সাথে। মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতে এই মানব প্রজাতিদের বসবাস আগে থেকেই ছিল। ভারত থেকে এই  হমো সেপিয়েন্স দের -( Homo Sapiens ) একটা অংশ আরো এগিয়ে গেল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ,পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে।. আফ্রিকান হমো সেপিয়েন্স এই  মাইগ্রান্টদের- যারা  এরিত্রিয়া দিজিবৌতি বা জিবুতি ,ইয়েমেন , ইরাক হয়ে ভারত এসেছে এরাই  ইতিহাসের দ্রাবিড়।কৃষি জ্ঞান সম্মৃদ্ধ দ্রাবিড়রা ছিল সে সময় উন্নত সভ্যতার অধিকারী। অনেকে তাদের  হযরত নুন (আঃ) এর অধ:নস্ত উওরপুরুষ বলে মনে করেন।.আর  ইউরোপ থেকে  টার্কি ,ইরান , আফগান হয়ে- বা এই  রুট  ধরে , পরবর্তীতে যারা ভারত এসেছে তারা –  Neanderthals- নিয়ান্ডার্থাল ।( এটি  জার্মান শব্দ  যাযাবর  শিকারী মাইগ্রান্ট ) !!! শিকারী ,লড়াকু , তৎকালিন – উন্নত সমর কৌশলী ইউরোপিয়ান যাযাবর রাই আর্য।  ইতিহাস যাদের আর্য নামে অভিহিত করে ।.  আর্যরা ভারতে  ইতিপূর্বেই  আফ্রিকা অঞ্চল থেকে  আসা –  হমো সেপিয়েন্স   মাইগ্রান্টদের অর্থাৎ  দ্রাবিড় বলে  পরিচিতদের  পরাজিত করেএলাকাটি নিজেদের  অধিকারে  নিয়ে নেয়। এবং সেখানে বসবাস শুরু করে। তাদের বসবাসের অঞ্চলটিকে  অনেকে আর্যাবর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। এটিকে  ইতিহাসের যাত্রা বা  অগ্রযাত্রা হিসাবেও দেখা হয়।. তাৎপর্য পূর্ন  একটি দিক হল – , জনশ্রুতি , বিবরণী বা ইতিহাসও  অনেক সময় বিভিন্ন কারনে অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রভাবিত হয়েছে। !!!.দ্রাবিড়, আর্য এবং  ভারতীয়  মুসলিমদের ইতিবৃত্ত বর্ণনা ক্ষেত্রেও যার বড় একটা  হেরফের হয়নি। বিষয়টি  এরূপ, আর্যরা  ইউরোপ থেকে এসেছে  এই ইনফরমেশন – সহজেই  সর্বত্র  পাওয়া যায় , দেখা যায়  – দ্রাবিড়রা  আফ্রিকা থেকে  এসেছে – এটা  সাধারণত  চোখে  পড়ে  না।  বা তুলে ধরা হয় না।  .তেমনি বাংগালী , বাংলাদেশী , পাকিস্তানী , ভারতীয়রা প্রত্যেকে মিশ্র, শংকর জাতি।স্থানীয় আদি মানুষ এবং পরবর্তী কালে আসা  দ্রাবিড় আর্য, শক , হুন , আরব , তুর্কি , ইরান,মোগল , আফগান সব মিশ্রণই – এই মাটিতে ,এই মেল্টিং পটে  হয়েছে  । শত ,সহস্র বছর ধরেই  যাঘটেছে এবং এখনও ঘটে চলেছে। বাইরে থেকে আসা অন্য সবাইকে নিজের বলে শুধু মাত্র  মুসলমানদের-কে বহিরাগত বলা শুধুই একটি ভ্ৰান্তি।  অথবা উদ্দেশ্য মূলক প্রচার। .
তাই  দেখা যায় , হমো  (Homo Sapiens)  সেপিয়েন্স ,দ্রাবিড় -রুট  ধরে  আসা মোহাম্মদ বিন কাসিম। আর  নিয়ান্ডার্থাল,- ( Neanderthals ) আর্যদের পথে- টার্কি , ইরান , আফগান হয়ে – খাইবার গিরি ধরে, দুর্গম দুস্তর মরু পাড়ি দিয়ে , ওই রুট  ধরে, ভারত  আসা মোহাম্মদ ঘোরী  এবং   জহিরুদ্দিন শাহ  মোহাম্মদ  বাবর কে  ভিন্ন  ভাবে, ভিন্ন চোখে দেখা ও দেখানো তে অনেকেই  পান এক ভিন্ন মাত্রায়  আনন্দ ।
.🌿মুসলমান  উপ মহাদেশে বহিরাগত, ইসলাম  আরব ধর্ম , মরুর ধর্ম ,এরূপ বিদ্বেষ মূলক ইসলামোফবিক অপপ্রচার  অবিরাম. ক্লান্তহীন  ভাবে  যারা করেন। তারাও  জানেন, বাংলাদেশ সহ এই উপমহাদেশে মুসলমানরা  ট্যুরিস্ট নয়। এদেশেরই সন্তান ,আদি খান্দান।. এ উপমহাদেশের নয়া ইতিহাস মুসলিম হাতে গড়া। চারিদিকে ,চারিধারে তার ছোয়া। এ সত্য ব্যতিরেকে ইতিহাস রচনা অচিন্তনীয় , অকল্পনীয়।
.ইসলামের  উষা  কালে  হজরত মোহাম্মদ ( সঃ ) এর জীবদ্দশায় ,সাহাবী মালিক  ইবনে দিনার ২০ জন সঙ্গী নিয়ে ইসলাম প্রচারে ভারত আসেন।রাজা চেরামান পেরুমল – ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম সাহাবী যিনি মোহাম্মদ (সাঃ)-এর চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মু’জেজার সাক্ষী !!.৬২৯-সনে কেরালায় চেরামন জুমা মসজিদ রাসূল হজরত মুহাম্মদ ( সঃ) এর জীবদ্দশায় নির্মিত ভারতবর্ষের প্রথম মসজিদ।.এই  মসজিদ সাহাবী মালিক  ইবনে দিনার এবং  রাজা চেরামান পেরুমলের  উদ্যোগ  এবং  প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়।. প্রায়  একই সময়  কালে কেরালা , গুজরাট  এবং বাংলার বুকেও মুসলমানেরা   আরো অনেক স্থানে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত করেন।.ইসলাম প্রচার ও প্রসারে – সাহাবী , ওলী আল্লাহ ,গাউস , কুতুব , আউলিয়া, ছুফি, পীর, মাশায়েখ , মৌলানা , মৌলবী , তানজিম , তাবলীগ
এর নিষ্ঠাবান , জ্ঞানী, গুণী ত্যাগী ইসলাম প্রচারকদের ভূমিকাই ছিল মূল এবং  মুখ্য। তাদের এ  অবদান কখনই মুছে যাবেনা।  ইতিহাস
 থেকে তা কখনো মুছাও যাবে না ।পরবর্তীতে ভারতে মুসলিম  শাসন, –  ইসলাম ধর্ম  শান্তি  পূর্ন  ভাবে পালনে ও প্রচারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । তাও  একই ভাবে সত্য। যা  পরাধীন ইংরেজ শাসন আমলে এবং আজকের ভারতে  অনেকাংশে বিঘ্নিত। এটাও  সত্য।.
 ইসলাম শান্তির ধর্ম – শান্তি  পূর্ন  ধর্ম   আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধান অনুসরনের ধর্ম।  হজরত আদম ( আঃ )  থেকে  হজরত মুহাম্মদ ( সঃ ) পর্যন্ত  সব  নবী , রসূলের  প্রচারিত ধর্ম। মুসলিম  ভাষ্য মতে –  ‘প্রতিটি  শিশুই  জন্ম  সময় মুসলিম’ । তাই অন্য  সব  বিশ্বাস ,মতবাদ বা ধর্ম মত থেকে ইসলামে  ফিরে আসাদের – কনভার্টেড  না বলে  রিভার্টেড  ( Reverted )  বলা হয়।  অর্থাৎ এটি  নিজ  মূল  ঘরে প্রত্যাবর্তন – অন্য নুতন কোন গৃহে যাওয়া নয়।
মুহম্মদ বিন কাসিম  ৭১২ সালে রাজা দাহিরকে   আরোর  (AROR )  যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করে  সিন্ধু জয় করেন এবং সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম করেন। ( Muḥammad bin -Qāsim conquest , Sindh and Multan from the last Hindu king, Raja Dahir in the battle of Aror  in 712 AD. ).৬২৯-সনে কেরালায় চেরামন জুমা মসজিদ প্রতিষ্ঠার ৮৩ বছর পর – মুহম্মদ বিন কাসিম  ৭১২ সালে রাজা দাহিরকে   আরোর  (AROR )  যুদ্ধে পরাজিতও নিহত করে  সিন্ধু জয় করেন। এবং তিনি  সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম করেন।  ৬২৯-সনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা  এবং  ৭১২ সালে  সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন কায়েম,  মধ্যবর্তী এই সময় কালকে ভারতের মুসলিম  ইতিহাসে মসজিদ  যুগ   নামে  অভিহিত ।  . এই সময় কালে আদি ধর্মে (  ইসলাম )  প্রত্যাবর্তন কারী  রিভার্টেড -মুসলিমরা  স্থানীয় ভিন্ন ধর্ম ও মতের শাসকদের  হাতে নির্যাতন  ওবৈষম্য মূলক নিষ্ঠুর আচরণের  নিত্য  শিকারে  পরিনিত হতেন । যা মক্কা বিজয়ের পূর্ববর্তী -মুসলিম অবস্থার সাথে তুলনীয়।বিভিন্নসময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এরূপ পরিবেশ পরিস্থিতি উদ্ভব হতে দেখা যায়। এই রূপ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই , ঘটনা ক্রম  মোহাম্মদ বিনকাশিমের ভারত  আগমন  অনিবার্য  করে তুলে। এটি মানব ইতিহাসের এবং মুসলিম ইতিহাসের  ধারাবাহিক শিক্ষা। ইসলাম  ফির জিন্দা হতে হ্যায় , হর কারবালা কি বাদ।   বাংলায়  এই  গ্যাপটি   ছিল  দীর্ঘতর। ৬২৯ থেকে ১২০৪  দীর্ঘ – ৫৭৫ র’ – বছর।.          উপমহাদেশের  ব্রিটিশ পূর্ববর্তী ” বাংলাদেশ, পাকিস্তান – ভারতের  মুসলিম  ইতিহাসকে তিন স্তরে , তিন ভাগে, ভাগ  করে দেখা যায়।  .         এক : ৬২৯  থেকে  ৭১২ সন  পর্যন্ত  এই  ৮৩  বছরকে  উপমহাদেশের  – মুসলিম  ইতিহাস ,( চেরামন জুমা  মসজিদ )  মসজিদ যুগ  নামে অভিহিত।  ( বাংলায়  এই  গ্যাপটি   ছিল  দীর্ঘতর। ৫৭৫  বছর।).দুই :   ৭১২  মোহাম্মদ বিন  কাশিমের – সিন্ধু ও মুলতানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা কাল থেকে শুরু করে   ১৭৫৭ -পলাশীর ষড়যন্ত্রের যুদ্ধ পর্যন্ত  ১০৪৫ বছর কে ‘  – ভারতে  ইসলাম এবং  মুসলিম শাসন’ কাল ” ইতিহাসের  আলোকিত  হাজার  বছর” – নামে অভিহিত ।.
তিন :  ১৭৫৭র পলাশী যুদ্ধের পর থেকে থেকে  ১৮৫৭ র সিপাহী  জনতার স্বাধীনতা পুন্ উদ্ধার যুদ্ধ এবং তৎ পরবর্তী সম্রাট  বাহাদুর শাহ  জাফরকে বার্মাতে  নির্বাসনে  পাঠান  সময় কালকে –  অস্তমিত দিগন্তের  -মুগল শাসন কাল  হিসাবে  অভিহিত  করা হয়।. ১৮৫৭ -থেকে  ১৯৪৭  এই ৯০ বছর কাল- সমগ্র  ভারতের মুসলিমদের জন্য  এবং  ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭  এই ১৯০ বছর বাংলাদেশ  এবং  এ অঞ্চলের জন্য পরাধীনতার কাল ।.——————————————————————————————————————————————————    .          ” বাংলার মুসলিম ইতিহাস’- প্রেক্ষাপট ও বিকাশ ধারা। ” –  (   মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরোন্ট। ).

 বাংলার  মুসলিম  ইতিহাসকেও  আমরা  উপমহাদেশের  মুসলিম ইতিহাসের মত কয়েকটি পর্বে ভাগ করে দেখতে পারি। যথা :.( এক )   ৬২৯  থেকে ১২০৪  সন  পর্যন্ত ৫৭৫  বছরের ইতিহাস । এই সময় কাল’ – কে, বাংলার মুসলিমের  – মসজিদ যুগ বলা যায়। এটি  কেরালায়  চেরামন জুমা  মসজিদ  প্রতিষ্ঠার পর থেকে ( উপমাদেশের প্রথম মসজিদ  ) – ইখতিয়ার উদ্দিন  মোহাম্মদ  বখতিয়ার      খিলজির গৌড় জয়   পর্যন্ত – বিস্তৃত সময় কাল।.( দুই  )  ১২০৪- থেকে   ১৭৫৭  পর্যন্ত- সময় কাল।  এই ৫৫৩ বছরের ইতিহাসকে  বলা যায়, ” বাংলায়  মুসলিম শাসনের সোনালী যুগ।”-  এটি   ইখতিয়ার উদ্দিন  মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজির গৌড় জয় এবং বাংলার  বুকে প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে -বাংলার শেষ স্বাধীন সংগ্রামী’-   নবাব  সিরাজ উদ দৌল্লাহ  পর্যন্ত  – বিস্তৃত  ” বাংলার মুসলিম  শাসনের ইতিহাস’। 
. ( তিন )  ১৭ ৫৭ থেকে  ১৯৪৭- পর্যন্ত  ১৯০ বছর বাংলায়,  ইংরেজ বেনিয়া শাসিত  পরাধীনতার  যুগ।. ( চার  )  ১৯৪৭ থেকে  ১৯৭১-  পর্যন্ত-২৪ বছর , পাকিস্তানী বঞ্চনা ,  বৈষম্যের বিরুদ্ধে  দাবি আদায়ের  যুগ। (  ১৯৭১’  এ , স্বাধীনতা  সংগ্রাম  এবং স্বাধীনতা  অর্জনের  যুগ।).. ( পাঁচ  )  ১৯৭১  থেকে  ২০২১ পঞ্চাশ বছর  স্বাধীনতার  সুবর্ন বছর  জয়ন্তী  ।
.বাংলায়  মুসলিম: – ইতিহাসের এ দীর্ঘ  পথ যাত্রাকে  সহজ সরল ভাবে জানতে, বুঝতে  এবং  উপলব্ধি  করতে এখানে  – ১২০৪ থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত  প্রথম পর্বের  ৫৫৩ বছর – সময়কালের , শাসন ব্যবস্থা ,  শাসন আমল এবং ডাইনেস্টির  নাম  সহ ,  উল্লেখযোগ্য   বিশেষ কিছু কীর্তি,  স্মরণীয় কিছু অবদানের কথা  উল্লেখ করা আবশ্যক ।বিষয়টি সামগ্রিক চিত্রের গভীরতা উপ্লব্ধিতেই প্রয়োজন।   . একই  সঙ্গে এই  ৫৫৩ বছর ‘ (  ১২০৪- থেকে   ১৭৫৭  পর্যন্ত- সময়কাল )  কি ভাবে  কেন্দ্র  শাসিত  অর্থাৎ  দিল্লী  শাসিত এবং  স্ব শাসিত  স্বাধীন বাংলার শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছিল সেটিও দেখতে হবে, দেখাতেও  হবে।তখনকার আমলে শাসকদের উপাধি গুলি প্রধানত :  ছিল  সুবেদারি, শাহী , সুলতানি , নবাবী।   শাসক -ছিলেন :  সুবেদার, শাহ , সুলতান  এবং নবাব । *বাংলায়  এই  শুরুটা অবশ্যই  ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি  থেকেই : –   ধারা ক্রমটি  এইরূপ।
.( মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি  থেকে -নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ পর্যন্ত। ৫৫৩ বছর।)                                            সে  ধারা ক্রমটি  এইরূপ।
.                                       1. মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ডাইনেস্টি। ১২০৪ -১২২৭ ..                        ১২০৪ -১২০৬ -.মোহাম্মদ  বখতিয়ার  খিলজি।                        ১২০৬ –  ১২০৮ মোহাম্মদ শিরান খিলজি।                        ১২০৮ – ১২১০  মুহাম্মদ  ইয়াজ খিলজি।                        ১২১০ – ১২১২  মুহাম্মদ  আলী মার্দান খিলজি।                        ১২১২ – ১২২৭  মুহাম্মদ  ইয়াজ খিলজি। তিনি নুতন নাম নেন -মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন   ইয়াজ খিলজি।.                         2. মামলুক সুলতানদের শাসন আমল – ডাইনেস্টি। ১২২৭ – ১২৮১..                          3. বলবান শাসন আমল, ডাইনেস্টি। ১২৮১ -১৩২৪..                         4.  তুঘলকি সময়ের  শাসকেরা।   ( তুগলগ আমলে দিল্লি থেকে -তুগলগদের নিয়োগ প্রাপ্ত বাংলার শাসন কর্তা ১৩২৪ –                                          থেকে –  ১৩৩৯ – পর্যন্ত।.
                                        ( Governors of Bengal under Tughlaq’ s .– 1328 to 1339. )
.                           5. শাহ , সুলতান  ডাইনেস্টি -স্বাধীন বাংলা শাহ  আমল।-  ১৩৩৯ থেকে   ১৪৮৭  পর্যন্ত ।                                                                 ফকরুদ্দিন মুবারক শাহের্  আমল এবং তার ডাইনেস্টি।  ( বাংলার স্বাধীন শাসক ) ১৩৩৯ – ১৩৫২.
.                                     ( ক ) :- সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। * ১৩৫২ – ১৩৫৮                                       ( খ ) :-সিকান্দার শাহ। * ১৩৫৮ – ১৩৯০ *                                      (গ) : – গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ। * ১৩৯০ – ১৪১১                                      ( ঘ) : – সাইফুদ্দিন হামজা শাহ। * ১৪১১ – ১৪১২                                      (ঙ ) শাহাবুদ্দিন বাইজিদ শাহ। *১৪১২ – ১৪১৪                                      ( চ ):- জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ। ১৪১৫ – ১৪৩৩ ..                                   ( রাজা গণেশের  বড় পুত্র  যদু  গনেশ – ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন – এবং  জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ নাম গ্রহন- করেন )                                    [ এর  পর  বাংলার  সুলতান হিসাবে ক্ষমতায়  আসেন শামসুদ্দিন আহমদ শাহ। –  ১৪৩৩ – ১৪৩৫ ].                                 ( ছ ): শামসুদ্দিন আহমদ শাহ। ১৪৩৩ – ১৪৩৫ ..                                   (জ ): নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ – ১৪৩৫ – ১৪৫৯.                                  (ঝ ): রুকুনুদ্দীন বারবাক শাহ -১৪৩৫ – ১৪৭৪ .                                   (ঙ):- শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – ১৪৭৪ – ১৪৮১.                                  (ট): – জালালুদ্দিন ফাতে শাহ – ১৪৮১ – ১৪৮৭ .

.         6 . হাবশী শাসন আমল ১৪৮৭ থেকে ১৪৯৪ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।           (  ইলিয়াস শাহ বংশের পালক পুত্র হাবশী আফ্রিকান দের আমলকে –  হাবশী শাসন আমল হিসাবে ইতিহাসে উল্লেখ হয়।)
        7 .  ১৫৬৫  থেকে ১৭১৭  পর্যন্ত ঢাকায়  দিল্লির  সম্রাট  নিয়োগ প্রাপ্ত : সুবেদার  শাসন  আমল।
                 ( প্রশাসক ছিলেন : সুবেদার গণ  : বাংলার প্রথম নিয়োগ প্রাপ্ত  সুবেদার ছিলেন )              ( Mughal Subahdars and Governors of  Benggal subah. * 1565 – 1717 )
         8   . ১৭১৭ সাল থেকে  ১৭৫৭ পর্যন্ত।  স্বাধীন নবাবী আমল । Independent Nawabs of Bengal. 1717 – 1757 . Till Nawab           Sirajuddullah . ) ” নবাব মুর্শিদ কুলি খান বাংলা , বিহার , উড়িষ্যায় ১৭১৭ সালে স্বাধীন নবাবী আমল প্রতিষ্ঠা করেন।”.         স্বাধীন  নবাবী আমলের শাসকদের  তালিকা :-
(  ১ ) মুর্শিদ কুলি খান -( ১৭১৭ — ১৭২৭ )( ২ ) সরফরাজ খান। – -( ১৭২৭ – – ১৭২৭ )( ৩ ) সুজা উদ দৌল্লাহ ,( ১৭২৭- ১৭৩৯ )( ৪  ) নবাব আলী বর্দি খান। ( ১৭৪০ – ১৭৫৬)( ৫ ) নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ।(১৭৫৬- ১৭৫৭)
..“নবাব মুর্শিদ কুলি খান বাংলা , বিহার , উড়িষ্যায় ১৭১৭ সালে স্বাধীন নবাবী আমল প্রতিষ্ঠা করেন।”.
১৭০০ সালে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে বাংলায় দেওয়ান / ট্রেজারার হিসাবে নিয়োগ দেন। যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে অল্প সময়েই. তিনি নিজাম / সুবেদার / গভর্নর হিসাবে প্রমোশন পান। তার এই প্রোমোশনে অনেকে জেলাস হন তারা কৌশলে সম্রাটের নাতি আজিম উস শান কে তার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেন। কুলি খানের জীবন সংকট পূর্ন হয়ে পড়ে ।.সম্রাট আওরঙ্গজেব বিষয়টি অনুধাবন করে নাতি আজিম- উস- শান কে পাটনায় বদলি করেন এবং নাতির নামে পাটনার নাম. আজিমাবাদ নাম করণ করেন। এবং মুর্শিদ কুলি খান কে ঢাকা থেকে বদলিকরে মুকসুবাদ পাঠান। পরে এই শহরকেই নবাব মুর্শিদ কুলি. খান – মুর্শিদাবাদ নাম করণ  করেন  ।এবং বাংলা বিহার উড়িষ্যার( রাজধানী করে ) নবাবী আমল শুরু করেন। নুতন এই রাজধানী.  এটি  গৌড়ের লক্ষণ সেনের  রাজধানী  নদীয়া/নবদ্বীপ থেকে খুব বেশি দূরে নয়।.[ পরবর্তীতে বাংলার ইতিহাস  ক্রমে  ক্রমে নবাব সিরাজ উদ দৌল্লাহ থেকে  বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিব এই পথ মুখে এগিয়েছে। ].বাংলায়  মুসলিম শাসনের দীর্ঘ এই সময় কালে অনেকেই ঢাকা সহ  সোনার গাঁ এবং  মুর্শিদাবাদের ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। সে  ইতিহাস থেকে. উল্লেখ  যোগ্য  বিশেষ কিছু নাম এবং তাদের সংক্ষিপ্ত কর্ম বিবরণ তুলে ধরা হল  । ( চিত্রটি  সামগ্রিক ভাবে উপলব্ধির স্বার্থে । )
.  1.    ইখতিয়ার  উদ্দিন  মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি । 💚.   ♦️  তুর্কি’ বাংলা নেতা -বাঙালি তুর্ক , ইখতিয়ার  উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলার প্রথম মুসলিম শাসক।তিনি  ১২০৪  সনে  গৌড়ের  রাজধানী  নদীয়া – নবদ্বীপ  জয় করেন।.   ♦️ বখতিয়ার খিলজি ছিলেন আফগানিস্তানের  হেলমান্দ প্রদেশের , গামসির শহরে  জন্ম গ্রহণকারী তুর্কি বংশোদ্ভূত ‘ তুর্ক -আফগান -বাংগালী  মুসলিম। বহু  প্রতিভার অধিকারী , উচ্চ অভিলাসী ,প্রচন্ড পরিশ্রমী , কর্মঠ। বখতিয়ার খিলজির  চ্যালেনজিং  কর্ম জীবনই  তাকে ইতিহাসের – সোনালী পাতায় , সোনালী খাতায় স্মরনিয় করেছে ।.   ♦️ ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তার ‘তবকাত-ই-নাসিরি’ গ্রন্থে বলেন । লক্ষণ সেন গৌড়ের রাজা, –  বখতিয়ার  খিলজির অভিযান  সন্পর্কে  অনুমান করছিলেন  এবং কথিত  আছে এক পন্ডিত  একটি  ভবিষৎ বাণী করেন। শিগ্রই  গৌড়ে মুসলিম শাসন শুরু হবে। ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিলো কিনা তা জোর দিয়ে বলার উপায় নেই। কিন্তু তার অনতিকাল পরেই বখতিয়ার খিলজী নদীয়া আক্রমণ করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।.   ♦️  বখতিয়ার  খিলজির গৌড় অভিযান এক প্রকার অত্যাসন্ন বুঝেও লক্ষণ সেন কোন প্রতিরোধ প্রচেষ্টা  নেন নি। তাই  অনেক ব্রাহ্মণ পন্ডিত রাজার অনুমতি ছাড়াই নদীয়া ছেড়ে চলে যান। রাজা নিজেও পূর্ব বাংলার ভাওয়াল বিক্রমপুর – মুন্সিগঞ্জ পালিয়ে যান।.   ♦️ Al Mahmud, The  leading Bangladeshi poet, composed a book of poetry titled Bakhtiyarer Ghora (Horses of Bakhtiyar) in the early 1990s. In his book he praised him as a Muslim hero who conquest the  Bengal..   ♦️ মুসলিম  শাসনের পূর্বে  ঐ সময়  কার,  – বাংলা কয়েকটি  অঞ্চলে  বিভক্ত ছিল। তখন ভাঙা, -বাঙ্গা ,ভাওয়াল, গৌড় ,বরেন্দ্র ,হরিকেল ,সমতাটা কে একত্রীত করে তেজস্বী , শক্তিশালী , ঐক্য  বদ্ধ বৃহৎ বাংলা – ঢাকা ও  মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রিক  বাংলা  বিহার ,উড়িষ্যার – সুবেদারি, শাহী , সুলতানি , নবাবী – স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠিত  হয়।।.   ♦️  ” তৎকালীন -মুসলিম শাসন  পূর্ব ‘🌼❗  –  বাংলার  রাজনৈতিক ও  ভৌগলিক – মানচিত্রঃ”.গৌড় – নদীয়া , নবদ্বীপ , মালদহ  অঞ্চল।.গৌড় -গোর গোবিন্দঃ – সিলেট  অঞ্চল।.বরেন্দ্র – বাংলাদেশের রাজশাহী  অঞ্চল।.ভাওয়াল-   মুন্সীগঞ্জ , বিক্রমপুর  অঞ্চল।.সমতাটা – ঢাকা , ফরিদপুর , শরীয়তপুর ,খুলনা , যশোর , বরিশাল অঞ্চল। ভাঙা / বাঙ্গা – বর্তমান  পশ্চিম বাংলার দক্ষিণ  অঞ্চল।.হরিকেল – চিটাগাং , কুমিল্লা  অঞ্চল।

🌿

♦️ সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ  বাংলা এবং  বাঙালি এই কথা দুটি  সরকার এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্ব প্রথম চালু করেন।.  ♦️ বখতিয়ার  খিলজির গৌড় অভিযান এ অঞ্চলের জীর্ণ, অচলায়তন ভেঙে  ফেলে। সময়  জেগে উঠে নব জোয়ারে। ভাষা , সাহিত্য , কৃষ্টি , খাদ্য , রুচি , সূচি ,পোশাক , পরিচ্ছদ – চিন্তা ,চেতনা – ভাবনায়  স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করে।.  ♦️ এ পথেই  বাংলার   কেলেন্ডার – বাংলা নব বর্ষ। সম্রাট  আকবরের  নির্দেশ ক্রমে – ফতে  উল্লাহ  সিরাজী  তৈরি  করেছিলেন।. যিনি বাংলাদেশ কে  ভালবেসে  চিরকাল  এ দেশেই স্থায়ী ভাবে থেকে যান।  মরনের পর তাকে ঢাকার অদূরে  নারায়ণগঞ্জে  সমাহিত  করা হয়। তার  সম্মানে  ওই  স্থানকে  ফতে উল্লাহবাদ নাম করন  করা  হয়।  আজ  সে স্থানটি  ফতুল্লা নামে আখ্যায়িত।।   ♦️ মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ডাইনেস্টি। ১২০৪ -১২২৭.<…