পরীমনি, পিয়াসা, মৌ’র খদ্দের ৫০ ভিআইপি

দীন ইসলাম: চিত্রনায়িকা পরীমনি, মডেল পিয়াসা ও মৌ’র খদ্দের ৫০
ভিআইপি। তাদের ভিডিও ফুটেজ এখন গোয়েন্দাদের হাতে। এসব
ভিআইপিরা নিয়মিত পরীমনি, মৌ ও মডেল পিয়াসাদের রঙ্গশালায় যেতেন।
এসব রঙ্গশালায় গভীর রাত অবধি পার্টি চলতো। জলসাঘরে কারা যেতেন এ
নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। রাতবিরাতে ক্লাব, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউসে ঘুরে বেড়ানো
পরীমনির রঙমহল ঘিরে ধনীর দুলালদের আড্ডা জমত প্রায় রাতে। নামিদামি
ব্রান্ডের গাড়ি হাঁকিয়ে সমাজের অনেক চেনামুখ অতিথি হতেন তার। তারকা
হোটেলগুলোতে স্যুট বুকিং হতো তাদের জন্য। পরীমনি, পিয়াসা, মৌ ও তার
সাঙ্গপাঙ্গদের মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস খোঁজ করে
গোয়েন্দাদের চোখ এখন চড়কগাছ। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুক এবং ইউটিউবে কয়েক জন ভিআইপি’র ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
ফলে ভিআইপিদের অপকর্মের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে
ফিরছে।ভিআইপিদের তালিকায় আছেন ব্যবসায়ি, ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যাংকার,
আমলা ও রাজনীতিবিদসহ সমাজের উচ্চপদস্থরা। তালিকায় আছেন দি সিটি
ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রুবেল, ব্যবস্থাপনা
পরিচালক মাসরুর আরেফিন, ডায়মন্ড ওয়াল্ড এর মালিক দিলীপ কুমার
আগারওয়ালা, ব্যবসায়ি আজম জে চৌধুরীর ছেলে তানজিলসহ অনেক
ব্যবসায়ি রয়েছেন তালিকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মডেল পিয়াসার সঙ্গে
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইল ফোনে কথোপকথনের
অডিও রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে। একটি ইনসিওরেন্সের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মডেল
মরিয়ম আক্তার মৌয়ের গোপন ভিডিও রয়েছে। পিয়াসার সঙ্গে একজন অলংকার
ব্যবসায়ীর বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ড পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া সিটি ব্যাংকের
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে পরীমণির অডিও রেকর্ডে একটি গাড়ি উপহার
দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ঐ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরীমণির গভীর
সখ্যের বিষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের
চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরীমণির মোবাইল ফোনে কথা হতো। অন্যদিকে ভারতীয় এক

ব্যবসায়ীর সঙ্গে পিয়াসার একটি ক্লাবে সময় কাটানোর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
গুলশানে একটি দামি ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির শোরুমের মালিকের সঙ্গে পরীমনি ও
পিয়াসার বহুবার কথোপকথন হয়েছে মোবাইল ফোনে। মদ বিক্রির দোকানের
মালিকের সঙ্গে পিয়াসার লংড্রাইভে যাওয়ার কথোপকথন রয়েছে। বাংলাদেশে গাড়ি
আমদানিকারকদের সংগঠনের সাবেক সভাপতির সঙ্গে পিয়াসার হোয়াটসআপে বেশ
কয়েকবার কথোপকথন হয়েছে। তার মালিকানাধীন গুলশানের গাড়ির শোরুমে
চোরাই গাড়ি বিক্রি হয়। মডেল পিয়াসা ঐ চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের সদস্য। ওই
শোরুম থেকে পিয়াসার সহযোগী মিশুর চুরি করা একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে
র‌্যাব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নায়িকা পরীমনি ও মডেল পিয়াসার রাতের
রঙ্গশালার বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। শোবিজের তারকা তকমা লাগিয়ে
তাদের সঙ্গে অপকর্মে জড়িত সমাজের বিত্তশালী অন্তত অর্ধশতাধিক জন। এদের
ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ
(সিআইডি)। এর মধ্যে ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
যে কোন সময় তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে
জানা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ফার্নিচার কোম্পানির মালিকের এক ছেলে
মাঝেমধ্যেই পিয়াসার আসরে হাজির হতেন। পিয়াসার নারী নেটওয়ার্কের সদস্যদের
দিয়ে তিনি নানা অপকর্মেও জড়িত। তার সঙ্গে পিয়াসার নাচের ভিডিও ও ফোনে
কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়া গেছে পিয়াসার মোবাইল ফোনে। দেশের একটি
বহুজাতিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পরীমনির কথোপকথনে অতি ঘনিষ্ঠ
সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও গুলশানের একটি
অভিজাত ফ্যাশন হাউজের মালিকের স্ত্রীর সঙ্গে ছিল পিয়াসা ও মৌর অতি ঘনিষ্ঠ
সম্পর্ক। ফ্যাশন হাউজের মালিকের ওই স্ত্রীর সঙ্গে একটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার
পরকীয়া চলছিল। এটাকে পুঁজি করে ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ পেতেছিল পিয়াসা ও মৌ। এ
ঘটনার জেরেই তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন
মৌ। ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকার ঋণ পেতেও পিয়াসার সিন্ডিকেটের নারীদের
ব্যবহার করা হতো বলে তথ্য দিয়েছেন পিয়াসা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের এক
নেতার সঙ্গে পিয়াসার হোয়াটসআপ বার্তা দেখে অবাক হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
জিজ্ঞাসাবাদকালে সমাজের উত্তবিত্তদের কাছে উঠতি বয়সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়

পড়ুয়া সুন্দরী তরুণীদের ভোগের সামগ্রী বানানোর কথা স্বীকার করে তথ্য দেন
পিয়াসা। তিনি জানান, এ কাজে শাকিল নামের আরেক যুবক পৃথক একটি নেটওয়ার্ক
নিয়ন্ত্রণ করেন। তারও মূল ব্যবসা নারীদের দিয়ে ফাঁদ পেতে বাণিজ্য। গুলশান ২
নম্বর এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের আশপাশেই তার অবস্থান। তার সম্পর্কে
খোঁজ খবর নিচ্ছে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে
পরীমনি, পিয়াসা ও নজরুল রাজ যাদের নাম প্রকাশ করেছেন

তাদের অনেকেরই
আপত্তিকর মুহূর্তের ছবি এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল
হয়েছে। এদের মধ্যে দু-একজনের নগ্ন ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এ জগতে
যাতায়াতকারীদের রীতিমতো ঘুম হারাম। তাদের দাম্পত্য জীবনেও শুরু হয়েছে
কলহ। এরইমধ্যে পিয়াসাকাণ্ডে যাদের নাম ও ছবি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে এসেছে তাদের কয়েকজন রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের অফিসে
একত্র হন। তারা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে করণীয় ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে
আলাপ-আলোচনা করেন। এরই মধ্যে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা
চেয়েছেন।