সততার এক কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান

ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখিত ‘পিতা ও শিক্ষক’ শিরোনামে একটি লেখায় তিনি লিখেছেন- ১৯৭৬ সালের কথা। তখন স্কুলে পড়ি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আমরা দুই ভাই স্কুলে যাচ্ছিলাম। আমরা বের হয়েছি সাতটায়। বাবাও বের হয়েছেন আমাদের সঙ্গে। তিনি যাচ্ছেন অফিসে। আমরা দু’ভাই গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বাবা তাঁর গাড়িতে উঠলেন। তাঁর গাড়ি আমাদের গাড়ির আগে বেরিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনের গাড়িটির ব্রেকলাইট জ্বলে উঠল। বাসার গেইট দিয়ে বেরোবার আগেই জোর গলায় আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে ডাক দিলেন বাবা। সে দৌঁড়ে গেল বাবার গাড়ির দিকে। আমরা দু’ভাই গাড়িতেই বসে রইলাম। ড্রাইভার যখন ফিরে এলো চেহারা দেখে মনে হলো যেন বাঘের খাঁচা থেকে বের হয়েছে সে। জিজ্ঞাসা করলাম, কি ব্যাপার? উত্তরে ড্রাইভার বলল, “স্যার বলেছেন আপনাদের এই বেলা স্কুলে নামিয়ে দিয়ে অফিসে গিয়ে পিএসের কাছে রিপোর্ট করতে। এখন থেকে ছোট গাড়ি নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হবে। কারণ, ছোট গাড়িতে তেল কম খরচ হয়। আর এই গাড়ির চাকা খুলে রেখে দিতে হবে। যাতে করে কেউ এ গাড়ি চালাতে না পারে।” উল্লেখ্য, ওই গাড়িটি ছিল সরকারি বড় গাড়ি। গাড়িটি চালাতে তুলনামূলক তেলও খরচ হতো একটু বেশি। এই হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ ধরনের হাজারো ঘটনা আছে তাঁকে নিয়ে।

বাংলাদেশের রাজনীতিকরা সচরাচর যে ধরনের জীবন-যাপন করেন সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের সহজ-সরল জীবন ছিল কিংবদন্তিতুল্য। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপন করতেন। জিয়াউর রহমানের সততা নিয়ে তাঁর বিরোধি মহলের অনেকে বক্রোক্তি করেন। অথচ তাঁর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম সার্কিটহাউজে তাঁর ব্যক্তিগত যেসব জিনিসপত্র পাওয়া যায় সে সম্পর্কে সেসময়ের বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তারা লিখেছেন- “জিয়ার ব্যক্তিগত মালামালের মধ্যে নি¤œলিখিত জিনিসগুলি পাওয়া যায়: একটি পুরাতন চামড়ার সুটকেস। তাহা এত পুরাতন যে, উহার তালাও সঠিক কাজ করে না। একটি পুরাতন অতি সাধারণ টু-ইন-ওয়ান, তালাবদ্ধ একটি পুরাতন ‘ইকোলাক’ জাতীয় ব্রীফকেস, গায়ের আধছেঁড়া গেঞ্জি, ২/৩টি সাফারী শার্ট, একটি প্যান্ট, একটি ফাউন্টেন পেন, একটি সানগ্লাস। মৃতের মাথার কাছে পড়িয়াছিল কয়েকটি ক্যাসেট, তাঁহার বিছানার পার্শ্বেই পড়িয়াছিল জায়নামাজ ও সাদা গোল টুপি।” (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ জুন ১৯৮১)। আমার একটি প্রশ্ন? দৈনিক ইত্তেফাক কি বিএনপি নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা?

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আজকের এই লেখার অবতারনা এজন্য যে, আকাশ সমান জনপ্রিয় এই রাষ্ট্রনায়ককে নিয়ে তাঁর বিরোধমহল কিছু কিছু বিরূপ মন্তব্য করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে যারা ভালোবাসেন তাদের মধ্যে অনেকেই সেসব নিন্দা মন্দের সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। বিশেষ করে টকশোগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় বিএনপি পন্থি বক্তাগণ হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন তাঁর প্রতিপক্ষের দিকে। তখন আমার ভীষণ কষ্ট হয়। শুধুমাত্র ইতিহাস না জানার কারণে তাঁরা সেসবের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না। যেমন একটি অভিযোগ এরকম- জিয়াউর রহমান একবার সাপ্তাহিক বিচিত্রায় একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- “আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট”। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাঁর বিরোধিপক্ষ এই উক্তিটিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করেন। এই কথাটির পুর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ লিখিত “একজন জিয়া” বইটিতে। সেখানে লেখক লিখেছেন- কথায় কথায় আমি জিয়াউর রহমানকে প্রশ্ন করলাম- যদ্দুর মনে পড়ে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’র এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন-“আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট”। এর পর প্রায়ই আপনি কথাটা বলছেন। আপনার এই কথা নিয়ে নানা মহলে নানা গুঞ্জন ও প্রতিক্রিয়াও হয়েছে। কিন্তু দেশের লোকজনকে আপনি যদ্দুর মনে হয় এই কথাটির তেমন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেন নি। কয়েক মুহুর্ত চুপ করে থাকলেন জিয়াউর রহমান। তারপর বললেন- ‘দু’এক কথায় যদি ব্যাখ্যা চান, তাহলে এভাবে মোটামুটি বলা যায়. -আমি বলেছি গণতন্ত্রকে বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। এদেশে অনেক সাইনবোর্ডসর্বস্ব, বিবৃতিসর্বস্ব, শহরকেন্দ্রিক পেশাদার রাজনীতিবিদ রয়েছেন। এদের চেহারা আর চালচলন কাজকারবার আমি বুঝে ফেলেছি। রাজনীতি করতে অসুবিধা হবে তাঁদের। তাঁদের মতো সবার জন্যেই-আই হ্যাভ মেড পলিটিক্স ডিফিকাল্ট। তারপর বললেন-‘দুঃখ কি জানেন, নেতারা বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। আপনাদের ‘বিচিত্রা’-র এক সাংবাদিককে আমি একবার এসব কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম-আমাদের বাংলাদেশের কোনো নেতাই ‘ইন টোটো’ নেতা নন। অর্থাৎ কোনো নেতাই সম্পূর্ণ নন। তাঁরা কথা জানেন, সে সব কথা বলেন এবং সাজিয়েগুছিয়ে বেশী করেই বলেন। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব কথা তাঁরা বেশী বলেন ড্রইং রুমে বসে সন্ধ্যার পর। তাঁদের লোকজন বিবৃতি নিয়ে আপনাদের পত্রিকার অফিসে অফিসে ধাওয়া করেন। এঁরা আসলে কাজ করেন না। আবার এমন অনেকে আছেন যাঁদের কাজ করার আগ্রহ আছে। কিন্তু সংগঠন নেই বলে তাঁরা পারেন না। আমি এই কাজ-পাগল অথচ অচেনা নেতাদের কাজে লাগাতে চাই।”

তিনি যে শুধু কাজ পাগল অচেনা নেতাদের-ই কাজে লাগাতে চেয়েছেন তা-ই শুধু নয়। তিনি সবসময় চাইতেন জ্ঞানীগুণী, মেধাবী তরুন ও যোগ্য নেতারা দেশের জন্য কাজ করুক। জিয়াউর রহমান তাঁর উপদেষ্টা মন্ডলীতে যোগ্যতার দিকদিয়ে তৎকালিন দেশের কিছু তারকাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মুহাম্মদ শামসুল হক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সৈয়দ আলী আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ অন্যতম। অন্যদিকে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা প্রমুখগণ তো ছিলই। ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদাকে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য করেছিলেন। তখন নাজমুল হুদার বয়স ছিল মাত্র ৩৫ বছর। এতো অল্প বয়সে বাংলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দলের এমন নীতিনির্ধারনি পর্যায়ে গিয়েছিলেন কিনা আমার জানা নেই। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন। তিঁনি লন্ডনে বেশ ক’জন বাংলাদেশি তরুণ পেশাজীবীকেও সাক্ষাৎ দেন। তাদের দেশে ফিরে জাতি গঠনে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তিঁনি তাদের কাছে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরেন। তাদের কয়েকজনকে দেশে ফিরে বিএনপিতে যোগ দিতে রাজি করাতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন।

দ্বিতীয় আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে জিয়াউর রহমান একবার হিজবুল বাহার নামক একটি জাহাজে করে বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্রদের নিয়েগিয়েছিলেন বঙ্গোপসাগরে নৌবিহারে। সে বিষয়টি নিয়েও অনেকে তীর্ষক মন্তব্য করেন। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেন তাদের নৌবিহারে নিয়েগিয়েছিলেন বিরোধি মহল কিন্তু সেটা বিস্তারিত কখনো বলেনা। কারণ সেটা খুলে বললে তাদের নিজেদের দুর্বলতার থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে। সেদিনকার সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, বছর দু’য়েক আগে প্রয়াত কবি আল মাহমুদ। তিনি ‘তৃষিত জলধি’ নামক তার একটি লেখায় তুলে ধরেছেন সেদিনের সেই ঘটনা। রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের মুল বক্তব্যটি অনেক বড় সেজন্য শুধু বক্তব্যের চুম্বক অংশটুকু এখানে তুলে ধরা হল। এই বক্তব্যটি শুনলেই আপনারা বুঝতে পারবেন কেন জিয়াউর রহমান সেইসব মেধাবী ছাত্রদের সেদিন নৌবিহারে নিয়েগিয়েছিলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে সেদিন জিয়াউর রহমান মেধাবী সে সব ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- ‘শোন ছেলেমেয়েরা, আমি তোমাদের বাংলাদেশের ডাঙ্গা থেকে উত্তাল বে অফ বেঙ্গলের মধ্যখানে নিয়ে এসেছি। সমুদ্র  হলো অন্তহীন পানির বিস্তার ও উদ্দাম বাতাসের লীলাক্ষেত্র। এখানে এলে মানুষের হৃদয় একই সঙ্গে উদার ও উদ্দাম সাহসী হয়ে ওঠো অন্তত উঠতে বাধ্য। আমি কি ঠিক বলিনি? তোমার, আমার, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সংকীর্ণতা ও কূপমন্ডুকতাকে পরিহার করে সমুদ্রের মতো উদার ও ঝড়ো হাওয়ার মতো সাহসী হতে হবে। আমি তোমাদের কাছে এখন যে কথা বলবো তা আমাদের জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক তাগিদ। এই তাগিদকে স্মরণীয় করার জন্য আমি একটা পরিবেশ খুঁজছিলাম। হঠাৎ বঙ্গোপসাগরের কথা মনে পড়ল। এই উপসাগরেই রয়েছে দশ কোটি মানুষের উদর পূর্তির জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার্য ও মূল ভূমি ভেঙে আসা বিপুল পলিমাটির বিশাল দ্বীপদেশ-যা আগামী দু’তিনটি প্রজন্মের মধ্যেই ভেসে উঠবে; যা বাংলাদেশের মানচিত্রে নতুন বিন্দু সংযোজনের তাগিদ দেবে। আমাদের ভিটাভাঙা পলি যেখানেই জমুক-তা তালপট্টি কিংবা নিঝুম দ্বীপ, এই মাটি আমাদের। দশ কোটি মানুষ সাহসী হলে আমাদের মাটি ও সমুদ্র-তরঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্রকারী নিশান উড়িয়ে পাড়ি জমাতে জাহাজ ভাসাবে না। মনে রেখো, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা দশ কোটি মানুষ যথেষ্ট সাহসী নই বলে শত্রুরা, পররাজ্য-লোলুপ রাক্ষসেরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই স্বাধীন জলাধিকারে আনাগোনা শুরু করেছে। তোমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেমেয়ে, দেশের দরিদ্র পিতামাতার সর্বশেষ আশার প্রাণকণা, যাদের ওপর ভরসা করে আছে সারা দেশ, সারা জাতি। তোমরাই হলে বাংলাদেশের হাজার বছরের পরাধীনতার কলঙ্ক মোচনকারী প্রত্যাশার আনন্দ-নিঃশ্বাস।’ তাহলে এবার নিশ্চয়ই পাঠকবৃন্দ বুঝতে পেরেছেন বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা সেদিনকার সেই তালপট্টি কিংবা নিঝুমদ্বিপ রক্ষার জন্যই জিয়াউর রহমান সেই নৌবিহারের আয়োজন করেছিলেন।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় এ সময়ের একজন প্রখ্যাত লেখক মহিউদ্দিন আহমদ ২০১৬ সালে ‘বিএনপি সময় অসময়’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটি পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে লেখক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি সুবিচার করেননি। আরেকটু সচেতন ও নিষ্ঠাবান হলে আমার ধারণা অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ বিষয়গুলো তুলে আনতে পারতেন তিনি। মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাই মোখলেসুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকারকে উদ্ধৃত করে মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন- “জিয়া বাংলা লিখতে-পড়তে জানতেন না। প্রথম দিকে তিনি বাংলায় যে বক্তৃতা দিতেন, সেগুলো উর্দুতে লিখতেন। তারপর সেটি দেখে বক্তৃতা দিতেন। তিনি ভালো করে বক্তৃতা দিতে পারতেন না। দিতে গেলে খালি হাত-পা ছুঁড়তেন। মোখলেসুর রহমানের সাক্ষাৎকার গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর বইতে এভাবে তুলে ধরেছেন- এসব দেখেটেখে যাদু একদিন আমাকে (মোখলেসুর রহমান) বললো যে, এ রকম হলে কী করে তাঁকে আমি চালিয়ে নেব? আমি বললাম- দেখো জিয়া বক্তব্য দিতে পারেন না ঠিক আছে। তিনি সবচেয়ে ভালোভাবে কী করতে পারেন, সেটা খুঁজে বের করো। জবাবে যাদু বললেন, হাঁটতে পারেন এক নাগাড়ে ২০ থেকে ৩০ মাইল পর্যন্ত। আমি বললাম এইতো পাওয়া গেল সবচেয়ে ভালো একটা উপায়, তুমি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পাড়াগাঁয়ে হাঁটাও। … গাঁও গেরামের রাস্তা দিয়ে যাবে আর মানুষজনকে জিজ্ঞেস করবে, কেমন আছেন? প্রেসিডেন্ট দেশের মিলিটারী লিডার, তিনি গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কানাকানচি দিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন আর লোকজনের ভালো-মন্দের খোঁজ খবর করছেন, তাতেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন।

লেখকের এই কথাগুলো যে কতটা সত্যের অপলাপ তা কিন্তু জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যে কোন একটি ভালো বই পড়লেই জানা যায়। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ডাক্তারী পড়ার ইচ্ছা বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। ডাক্তারী পড়ার ইচ্ছা জিয়াউর রহমান ব্যক্ত করেছিলেন তাঁর এক মামীর কাছে ঐ সময়ে লেখা একটি চিঠিতে। জিয়াউর রহমানের মামা রুহুল আমিনের সৌজন্যে প্রাপ্ত বাংলায় লেখা ঐ চিঠির একটি ফটোকপি হুবহু দেয়া আছে হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ লিখিত ‘একজন জিয়া’ নামক গ্রন্থটির ৮৫ নম্বর পৃষ্ঠায়। যে কেউ চাইলে সেটা দেখে নিতে পারেন। চিঠিটি জিয়াউর রহমান তাঁর মামীকে লিখেছিলেন ১/৪৯ জেকব লাইন, করাচী থেকে। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানে বসেও কখনো উর্দুতে কথা বলতেন না। কেউ তাঁর সঙ্গে উর্দুতে কথা বললে তিঁনি ইংরেজিতে জবাব দিতেন। আমরা যে বাঙালি এ ব্যাপারে তিঁনি ছিলেন খুবই সচেতন। আমরা যে বাঙালি এ ব্যাপারে তিঁনি খুবই সচেতন ছিলেন। (প্রেসিডেন্ট জিয়া, মাহফুজ উল্লাহ, পৃষ্ঠা-২৪)। তাছাড়া এসময় ইংরেজিতে বক্তৃতা করতেও পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন তিঁনি। (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-২১)। আর এই যে হাঁটার অভ্যাস, এটা জিয়াউর রহমান রপ্ত করেছিলেন সেনাবাহিনীতে থাকাকালিন। অন্যদিকে ভাষানী গ্রামগঞ্জে হেঁটে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান নিশ্চয়ই ভাষানীর সেই কর্মকান্ড দ্বারা প্রানিত হয়েছিলেন। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী থেকে এসেছিলেন বলেও খেদোক্তি করেছেন অথচ লেখক একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পেতেন পৃথিবীর বহুদেশের বহু জগৎবিখ্যাত রাষ্ট্রপ্রধানরা এসেছিলেন সেনাবাহিনী থেকে। নেপলিয়ন বোনাপার্ট, উইনেষ্টন চার্চিল, চার্লস দ্য গল এঁরা সবাই আর্মি থেকে আগত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফরাসী দেশের ত্রাণকর্তা চার্লস দ্য গল একসময় ব্রীগেডিয়ার জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে থিওডর রুজভেল্ট, আইজেন আওয়ার এরকম প্রায় আমেরিকার অর্ধেক রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে এসেছিলেন। জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় লেগেছি হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের আপামর মানুষের মনজয় করে নিয়েছিলেন। অনেকের হয়তো সে কারণে গাত্রদাহ হয় কিন্তু তাতে করার কিছু নেই। 

সম্প্রতিকালে ‘প্রথম আলো’র সাংবাদিক রোজিনার উপর নীপিড়ন নির্যাতনের কারণেই একটি বিষয় মাথায় এলো যা এখানে উল্লেখ না করে পারছি না। জিয়াউর রহমান ছিলেন অসম্ভব পত্রিকা ও সাংবাদিক বান্ধব একজন মানুষ। তিঁনি ইনভেষ্টিগেটিভ রিপোর্টকে সবসময় উৎসাহিত করতেন। সে বিষয়টি জানাযায় জিয়ার আমলের টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিন যিনি পরবর্তীকালে দৈনিক ‘নয়াদিগন্ত’ পত্রিকার সম্পাদক হয়েছিলেন তার একটি লেখায়। ‘বিশ্ব নেতাদের চোখে জিয়া’ শিরোনামে আলমগীর মহিউদ্দিন লিখেছেন- “টাইমসে তখন অনেক ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট ছাপা হতো। চাল সিন্ডিকেটসহ নানান খবর। এর মধ্যে একদিন এক ভদ্রলোক একটি বড় ফাইল নিয়ে এসে হাজির। তিনি পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে বললেন, সাফদার সাহেবের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু একটি কমিটি করেছিলেন ঢাকা-আরিচা রোডের বিশাল দুর্নীতি তদন্তের জন্য। কিন্তু তার ইন্তেকাল হওয়ায় বোধহয় এ তদন্তের ভাটা পড়েছে। আপনাদের লেখায় দেখি কাজ হচ্ছে। এ রিপোর্টটা যদি করতেন। সে কাজের ভার দেয়া হলো আমাদের আর এক রিপোর্টার খন্দকার মুনিরুল আলমকে। তিনি বহু পরিশ্রম করে সম্ভবত পাঁচ পার্টে একটি রিপোর্ট তৈরি করলেন। প্রথা অনুযায়ী আমরা সম্পাদকের নেতৃত্বে রিপোর্টটা আলোচনা করার সময় সম্পাদক বললেন, আগামীকাল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ আছে। দিন রিপোর্টগুলো নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করবো। আমরা খুশিই হলাম। প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও সম্পাদক রিপোর্টটা নিয়ে কোনো কথা বলছেন না বলে জিজ্ঞাসা করলাম এর ভাগ্যটা জানতে। তিনি বললেন, রাষ্ট্রপতি জিয়া রিপোর্টটা ছাপতে মানা করে দিয়েছেন। কষ্ট লাগলো। কারণ এক সাক্ষাতে জিয়া তাঁর চোখ-কান হিসেবে সাংবাদিকদের আখ্যায়িত করেছিলেন। ভাগ্যক্রমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ পর আমার এক পার্টিতে দেখা। আমি সুযোগ নিয়ে বললাম, স্যার, আপনি আমাদের আপনার চোখ-কান বলে আখ্যা দিয়েছেন; অথচ ঢাকা-আরিচা রাস্তার দুর্নীতির খবর ছাপতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনাদের সম্পাদক বলেছিলেন এমন একটা রিপোর্টের কথা। তাকে তো ছাপতে বলেছি এবং কথা দিয়েছিলাম অ্যাকশন নেবো। কই আপনারাই তো ছাপলেন না। ছাপুন না।

রাষ্ট্রপতি জিয়া সেই ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশ দেন অনুসন্ধান করতে। আমাদের রিপোর্টের উল্লিখিত নথি দেখে সম্ভবত ১৮ জন সম্পর্কে কাগজপত্র পাওয়া যায়। তাদের সবাইকে চাকরিচ্যুত করেন জিয়া। (রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান, সম্পাদনা শফিক রেহমান, পৃষ্ঠা-৮৬-৮৭)। এই ঘটনা থেকে ধারণা করা যায় কী ধরনের মানুষ ছিলেন জিয়া। এছাড়া বর্তমান জাতীয় প্রেস ক্লাবও জিয়াউর রহমানেরই অবদান। প্রিন্স করিম আগা খান জাতীয় প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণে ব্যয় বহন করার অঙ্গীকার করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রেস ক্লাবের নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। 

তিনি বলেছিলেন, নিজেই প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করবেন। সে হিসেবে ১৯৭৭ সালে তিনি ১৮ তোপখানা রোডে বর্তমান জায়গাটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুকূলে বরাদ্দ দেন। সেই সঙ্গে জমি দাম পরিশোধের জন্য ২৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা প্রেস ক্লাবকে অনুমোদন দেন। জমির দলিলে খরচাদিও মওকুফ করে দেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয় ২৫ লাখ টাকা অনুদান। (প্রাগুক্ত-১৩১)।  শুধু প্রেসক্লাব নয় এ ধরনের বহু প্রতিষ্ঠান গড়তে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিঁনি শিশু হাসপাতালটি তৈরির সময় ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৫০ লক্ষ টাকা। ১৯৭৮ সালে ৫০ লক্ষ টাকা মানে এসময়ের কম করে হলেও ১০০ কোটি টাকার সমান। জিয়াউর রহমানের ৫০ লক্ষ টাকা প্রদানের ঘটনাটি আমি ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের সামনে বসে শুনেছিলাম বলে সেটা পাঠকবৃন্দের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার লোভটা সংবরণ করতে পারছি না। সেটা ওয়ান এলিভেনের কথা। দু’নেত্রিই তখন জেলে। তাদের পক্ষে লড়বার মতো কোন আইনজীবী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে এগিয়ে এলেন ব্যারিষ্টার রফিকুল হক। তিনি প্রথমে শেখ হাসিনার মামলা হাতে নিলেন। আশার আলো জ্বলে উঠল আমাদের মনেও। একদিন আমার চাচা (আব্বার বন্ধু) এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে ব্যারিষ্টার নাসিরুদ্দিন অসীম, ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল ও আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার ফাইলপত্র নিয়ে হাজির হলাম ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের দরবারে। উনারা আমাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন মূলত বেগম জিয়ার ফাইলপত্রগুলো ক্যারি করার জন্য। যা হোক, ব্যারিষ্টার রফিকুল হক জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার ভূয়সি প্রশংসা করলেন এবং বেগম জিয়ার পক্ষে মামলা লড়ার জন্য সম্মতি দিয়ে চলে গেলেন উপরে, দোতলায়। আমরা তো বসেই আছি। উনি আর দোতলা থেকে নামেন না। কিছু সময় পরে ক্লার্ক মারফত খবর পাঠালেন উনি টাকা ছাড়া মামলা লড়বেন না। আমরা কেউ-ই সঙ্গে করে টাকা নিয়ে যাইনি। শিমুল বিশ্বাস দ্রুত ছুটে বেড়িয়ে গেলেন। আমাদের বললেন- তোমরা বস। আধাঘণ্টা পরে শিমুল বিশ্বাস ফিরে এলেন সঙ্গে দু’লক্ষ টাকা নিয়ে। সেই টাকা পাঠানো হলো তারপর তিনি দোতলা থেকে নামলেন। আমার প্রাণপ্রতিম বন্ধু ও চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ব্যারিষ্টার মীর হেলালও তখন জেলে। হেলালের জন্যও আমাকে যেতে হতো ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের চেম্বারে। সবমিলিয়ে আমি ৭/৮ বার গিয়েছিলাম রফিকুল হকের চেম্বারে। তিনি প্রসঙ্গক্রমে একদিন জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুললেন। বললেন- অনেক ভালোমানুষ ও রাষ্ট্রনয়াক ছিলেন জিয়াউর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রয়ানের পর জিয়াউর রহমান একদিন ডেকে পাঠালেন আমাকে। বললেন- আপনি তো শেখ মুজিবের সঙ্গে কাজ করেছেন। আমার সঙ্গে কি কাজ করবেন? রফিকুল হক বললেন- আমি তো আসলে একজন দর্জি। আমাকে যে যা বলবে আমি সেটাই তৈরি করে দেব। বঙ্গবন্ধু মুজিব কোর্ট চেয়েছিলেন তাকে মুজিব কোর্ট বানিয়ে দিয়েছি। আপনি যদি সাফারি চান আমি সাফারি বানিয়ে দেব। পকেট যদি দুটোর বদলে চারটা চান চারটা পকেট বানিয়ে দেব। জিয়াউর রহমান বললেন- আপনাকে ফি কত দিতে হবে। রফিকুল হক বললেন- দেশের কাজে আমি কোন ফি নেব না। জিয়াউর রহমান বললেন- ফি ছাড়া কাউকে দিয়ে আমি কোন কাজ করাই না। রফিকুল হক বললেন- আচ্ছা সে দেখা যাবে। ব্যাংকিং খাতের বহুকাজ জিয়াউর রহমান করালেন রফিকুল হককে দিয়ে। কাজ শেষে জিয়া জিজ্ঞেস করলেন বলুন কত দিতে হবে আপনাকে। রফিকুল হক বললেন- আমাকে কিছু দিতে হবে না। তবে সদ্য প্রতিষ্ঠিত আমার শিশু হাসপাতালের জন্য কিছু অনুদান দিন। জিয়াউর রহমান তাকে ৫০ লক্ষ টাকা দিলেন। বেগম জিয়া ও আমার বন্ধু হেলালের মামলার জন্য আমি রফিকুল হকের চেম্বারে মোট ৭/৮ বার গিয়েছিলাম। শেখ হাসিনার মামলার জন্য তখন শুধু আমি বর্তমানে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপসকে শুধু ওনার চেম্বারে বসে থাকতে দেখেছি। আজ হয়তো আকাশ বাতাস সবই আওয়ামীলীগ। কিন্তু তখন শেখ হাসিনার মামলার জন্য তাপস ছাড়া আর কাউকে দেখিনি। 

সবশেষে বলব জিয়াউর রহমান হচ্ছেন একটি রাজনৈতিক দর্শন তিঁনি একটি বৈপ্লবিক চেতনা। তিঁনি একটি প্রতিষ্ঠান, সর্বোপরি জিয়াউর রহমান হচ্ছেন একটি ইতিহাস। তিঁনি যে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন তাঁর জাজ্বল্যমান প্রমান তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে আপামর জনসাধারণের যে ঢল নেমেছিল ১৯৮১ সালের ২ জুন। ২০ লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তাঁর শবানুগমনে। এটা একটি ইতিহাস। এই উপমহাদেশে কারো মৃত্যুতেই এমন মানুষের ঢল নামেনি। শুধু মহাত্মাগান্ধির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হয়েছিল ২০ লক্ষ মানুষ। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ভারতের জনসংখ্যা তখন ছিল ৫০ কোটি আর বাংলাদেশে মাত্র ১০ কোটি। নেহেরু যখন ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন তার শেষকৃত্যে মানুষ হয়েছিল ১৫ লক্ষ। আর রবীন্দ্রনাথের ৫ লক্ষ। এতেই বোঝা যায় সাধারণ মানুষের কি পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। লেখাটি শেষ করবো ‘নয়াদিগন্ত’ পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের একটি স্মৃতিচারণ দিয়ে। তিঁনি লিখেছেন- জিয়াউর রহমান সিকিউরিটির নির্দেশিত পথে না চলে, সোজা গ্রামের মধ্যে চলে যেতেন। সাধারণ মানুষকে তাদের সুখ-দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করতেন। তাঁর কুষ্টিয়ার হাটার প্রোগ্রামের বছর দুই পর ওই এলাকায় আমাকে আবার একবার যেতে হয়েছিল। হঠাৎ মনে হলো যে বাড়িটির ওপর দিয়ে তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন, তারা তাকে মনে রেখেছে কি না! সে বিষয়টা একটু জানা দরকার। গিয়ে বিস্মিত না হয়ে পারিনি। সে বাড়ির যতোটুকু এলাকার ওপর তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন এবং যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলেন, তা বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে স্মৃতি হিসেবে। (রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান, সম্পাদনা শফিক রেহমান, পৃষ্ঠা-৮৫)। এই হচ্ছে জিয়াউর রহমানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, যা কেউ কোনদিন কেড়ে নিতে পারবে না। 

লেখক : গল্পকার ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী