কানাডা আওয়ামীলীগের ভার্চুয়াল সভা

ভোরের আলা রিপোর্ট: গত ৭ই জুন রবিবার কানাডা আওয়ামী লীগ উদ্যোগে জুম ভিডিওর মাধ্যমে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মাহমুদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশ গ্রহণ করেন। সভাপতির স্বাগত বক্তব্য ও আলোচ্য বিষয় নিয়ে শেখ জসীম উদ্দিনের সারসংক্ষেপ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা হয়। গত ১লা মার্চ অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান দলের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে গঠনতন্ত্র বিরোধী পন্থায় নিজেকে সভাপতি ও ইতরাদ জুবেরি সেলিমকে  সাধারণ সম্পাদক করে কানাডা আওয়ামী লীগের একটি কমিটি ঘোষণা করেন। দলের দীর্ঘ দিনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদেরকে বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয়ের গুটি কয়েক চামচাদের উপস্থিতিতে এই কমিটি ঘোষণা সম্পূর্ণ অবৈধ। দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কমিটি গঠনের কথা প্রচার করা হলেও তিনি নেত্রীর মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনার কোন প্রমাণ দিতে পারেন নি। দেশে গিয়ে নেত্রীর সাক্ষাত না পাওয়ার কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছন। প্রিন্স সাহেবের দাবী তিনি নাকি ই-মেইলে নেত্রীর নির্দেশনা পেয়ছেন। এই ব্যাপারে তিনি অন্যদেরকে বলেছেন ‘মুজিববর্ষ’ পালনের বিষয়ে নেত্রীর নির্দেশনা চেয়ে তিনি ই-মেইল করেছেন। সেই ই-মেইলের বিপরীতে নেত্রীর প্রেরিত ই-মেইল উত্তর তিনি অনেককে দেখিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে জানা যায়, তথাকথিত সেই ই-মেইলে নেত্রীর নির্দেশ ছিল নাকি ‘মুজিববর্ষ’ পালনের কর্মকাণ্ড take over করতে। আর তিনি স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে take over করলেন কানাডা আওয়ামী লীগ। কমিটি সংক্রান্ত ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর কোন নির্দেশনার কথা ছিলনা। এমতাবস্থায় একটি কার্যকর কমিটি থাকা অবস্থায় নতুন কমিটি ঘোষণা করেন কি ভাবে?  দলের সভাপতি/ভারপ্রাপ্ত সভাপতির নির্দেশ ব্যতিরেকে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২২(ক) ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে সাধারণ সম্পাদক সভা আহবান করতে পারেন না। উপরন্তু কর্মী সভা আহবান সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান করে গুটি কয়েক বিভিন্ন কমিটির কর্মী ও বিতর্কিতদেরকে উপস্হিতিতে কমিটি ঘোষণা গঠনতন্ত্রের ৩৩ (খ) ধারা মোতাবেক অবৈধ। দীর্ঘ দিন থেকে তিনি পদ বাণিজ্য ও কমিটি বাণিজ্য সহ বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে করে যাচ্ছেন। যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিনষ্ট হচ্ছে দলীয় ঐক্য। তাই ভার্চুয়াল এই সভায় অংশ গ্রহণকারী সকলের কণ্ঠে আজিজুর রহমান প্রিন্সের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মতামত উঠে আসে। এই ব্যাপারে পরবর্তীতে কানাডায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী সহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী পরিবারের সকলের সুদৃঢ় ঐক্যে, দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সাপেক্ষে দলীয় সভানেত্রীকে অবহিত করা হবে।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে দিক নির্দেশনা ও দলীয় নেতা কর্মীদেরকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রবাসে থাকলেও আমরা আর্থিক সাহায্যের হস্ত প্রসার করে নেত্রীর নির্দেশনা পালন করতে পারি। তাই কানাডা থেকে নূন্যতম ১০ লক্ষ টাকার একটা তহবিল গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এ ব্যাপারে কানাডা আওয়ামী লীগ, অন্টারিও আওয়ামী লীগ ও ক্যুইবেক আওয়ামী লীগ অতি সত্ত্বর তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

ভার্চুয়াল সভায় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় অর্ধশত নেতা কর্মী অংশ গ্রহণ করলেও কেহ কেহ বক্তব্যে না আসায় সকলের নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য রাখেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল গফ্ফার, গোলাম মহিবুর রহমান, তফাজ্জল আলি, রহমত উল্লাহ, অমলেন্দু ধর, এ বি বশির উদ্দিন আহমেদ, নিরু চাকলাদার, ইয়াহিয়া আহমেদ, এমরুল ইসলাম, মুর্শেদ আহমেদ মুক্তা, আব্দুর রহমান দরুদ, মন্জুরুল চৌধুরী, মাসুদ সিদ্দিকী, বজলুর রহমান বেপারি, এডভোকেট আলী আহমেদ, নজরুল ইসলাম, ঝুটন তরফদার, আব্দুল মান্নান। অন্টারিও আওয়ামী লীগের মোস্তফা কামাল, মাসুদ আলী লিটন, গোলাম সরওয়ার, রাধিকা রন্জন চৌধুরী, নওশের আলী ও অন্যানরা। ক্যুইবেক আওয়ামী লীগের তাজুল ইসালম, মইনুল ইসালাম, আজিম আহমেদ, গোলাম মোতাহির মিয়া, শিকাদার আল আমিন সহ আরও অনেক।