করোনায় প্রবাসে কোন বাংলাদেশি মারা গেলে যা করা যাবে

কোভিড-১৯ আক্রান্ত কোন প্রবাসী সেই দেশে মারা গেলে তার মৃতদেহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী দেশে আনা যাবে। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মারা গেলে ওই বাংলাদেশির দাফন সেখানেই করতে হবে। ওই দুই দেশ থেকে মরদেহ দেশে আনা যাবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অন্য দেশ থেকে মরদেহ দেশে আনা গেলেও নিয়ম অনুযায়ী পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন মরদেহের চেহারা দেখতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে তাকে সেখানেই দাফন করার জন্য ওইসব পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বুধবার (৬ মে) আন্তঃমন্ত্রণালয় এক বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।

নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণে দেশের বাইরে বাংলাদেশের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে পররাষ্ট্র, বৈদেশিক শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি যারা বিদেশে মারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাবে না। তারা তাদের ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী তাদের দেশেই মরদেহ দাফন করবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর বাইরে অন্য দেশে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন মেনে মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাবে। তবে মরদেহ দেশে এলেও আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের কেউ চেহারা দেখতে পারবেন না। কারণ কোয়ারেন্টিনের যে বাক্স থাকবে, সেটা খোলা যাবে না।‘

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসব পরিবারের প্রতি অনুরোধ, যে যেখানে মারা যাচ্ছে, তাকে সেখানেই দাফন করতে দিন। কেননা দেশে এলেও বিধি অনুযায়ী বাক্স খোলা যাবে না। এই বাক্স খোলা সম্ভব না। এতে অন্যান্য লোকের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দোয়া করেন যেন করোনাভাইরাসের আওতা থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারি এবং এমন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে আমাদের পড়তে না হয়।’