কানাডার নির্বাচন নিয়ে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা

লিখেছেন মাহমুদুল হাসান রুবেল

DHL এক্সপ্রেস এর ডেঞ্জারাস গুডস সুপারভাইজার হিসেবে কুইবেক প্রদেশের মিরাবেল এয়ারপোর্ট এ দায়িত্বে রয়েছি। মিরাবেল এয়ারপোর্ট বর্তমানে কার্গো এয়ারপোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। DHL এক্সপ্রেস মিরাবেল এয়ারপোর্ট এর মাধ্যমে নভো স্কশিয়া, নিউফাউন্ডল্যান্ড এন্ড ল্যাবরেডর, নিউ ব্রন্সউইক, ওটোয়া, মন্ট্রিয়ল, কুইবেক সিটির শিপমেন্ট পরিবহন করে থাকে। কানাডার জাতীয় নির্বাচনে কানাডার বাহিরে বসবাসরত ৪৪০০০ এর উপর কানাডিয়ান ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন দেশে ব্যালট পেপার পাঠাচ্ছে ইলেকশন কানাডা। যা আবার ফিরতি মেইলে ২১ অক্টোবর ফেরত আসলে কেবল ভোট গণনায় সংযোজিত হবে। DHL এক্সপ্রেস ইলেকশন কানাডার পৃথিবীব্যাপী পাঠানো ব্যালট পেপারের ৯০ শতাংশ কাজ পেয়েছে। তার প্রধান কারণ বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক সাপোর্ট। মিরাবেল এয়ারপোর্ট দিয়ে ওটোয়া থেকে পাঠানো ইলেকশন কানাডার ২১০০০ এর উপর শিপমেন্ট ইতিমধ্যে গন্তব্যে ভোটারের কাছে চলে গেছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে তা  আবার কানাডায় আসা শুরু হবে।

মিরাবেল যেহেতু গেটওয়ে তাই আমার উপর কিছুটা দায়িত্ব পড়েছে তা মনিটরিং করার জন্য। মুসলিম বেশ কিছু নাম যেমন আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ, আহমেদ, ওসামা প্রভূতি নাম যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার এজেন্সি কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত। এ নামের যেকোন শিপমেন্ট এ ডিপিএ হোল্ড  ইন্টারসেপ্ট দিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত তা পাঠানো যায় না। পাঠালে ৩০০০-৫০০০ ডলার জরিমানা হবে। তাই বিকাল ৫টা থেকে মনিটরিং করতে হয় কোন ডিপিএ হোল্ড পড়লো কি না। পড়লে সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপিএ হোল্ড টিমের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করতে হয়।

ইলেকশন কানাডার শিপমেন্টের মনিটরিং করতে গিয়ে দেখেছি বাংলাদেশে প্রচুর ব্যালট পেপার যাচ্ছে। তা দেখে যেমন ভালো লাগে তেমনি কষ্টও লাগে। আমরা যারা প্রবাসী আমাদের কোন ভোটাধিকার নেই প্রবাসে থেকে। অথচ এই প্রবাসীরাই বিশ্বমন্দার মাঝেও রেমিটেন্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই করেছে এবং করে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে আমরা প্রবাসীদের একটা বৃহৎ অংশ প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তারপরও কোন সরকারই প্রবাসীদের ভোটের অধিকার দেয়নি। ইলেকশন কানাডার কার্যক্রম দেখে কেবল দীর্ঘশ্বাসই বের হয়।