১৭ ডিসেম্বর অশোয়াতে জমজমাট বিজয় উৎসব ও কনসার্ট

ভোরের আলো রিপোর্ট: ১৭ ডিসেম্বর কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ‘অশোয়া’তে জমজমাট বিজয় উৎসব ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় উৎসব ও কনসার্টটি আয়োজন করেছে অশোয়া বাংলাদেশি কমিউনিটি ইনক (অশবান)। বিজয় উৎসব ও কনসার্ট ছাড়াও বাচ্চাদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী গীতিনাট্য পরিবেশিত হবে। অশবানের সদস্য কাজী মুরসালিনের রচনা ও পরিচালনায় গীতিনাট্যটি বাংলাদেশের ইতিহাসের কথা বলবে। এখন চলছে গীতিনাট্যের রিহার্সেল। কনসার্টে গান পরিবেশন করবে বাংলাদেশের দুই জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ফিডব্যাক এবং শুন্য ব্যান্ড। বিজয় উৎসব ও কনসার্ট উপলক্ষ্যে গত ১৩ ই নভেম্বর রবিবার টরেন্টোর লবঙ্গ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করে অশবান। মতবিনিয়ময় অনুষ্ঠানে অশবেনের সদস্য প্রকৌশলী ও মর্টগেজ এজেন্ট বজলুর রহমান মারুফ, ব্যারিষ্টার শাফিউল পারভেজ, রিয়েলটর তৌফিক আলম, কাজী মুরসালিন, জিয়া উদ্দিন, মেহরাব হোসেন ও মনজুরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অশোয়ার নামী ইস্টডেল সিভিআই অডিটোরিয়ামে (২৬৫ হারমনি রোড নর্থ) বিজয় উৎসব ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটির জন্য আগাম টিকেট বিক্রি করছে ইভেন্টব্রাইট। ৬০৪ টি সিট ক্যাপাসিটির হলটি’র ৪০০ টি সিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা জানান, অশোয়াতে নতুন কমিউনিটি বাড়ছে। এ কমিউনিটিকে আনন্দ দিতেই আমাদের এ প্রচেষ্টা।

অশবান সদস্য বজলুর রহমান মারুফ বলেন, বেজমেন্ট থেকে অশোয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নিয়ে কিছু করতে আমাদের স্বপ্ন তৈরি হয়। ওই স্বপ্নের প্রথম সফলতা ছিল অশোয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজনে একটি সফল পিকনিক। সেই স্বপ্নও বড় হতে থাকে। আমরা সাত জন মিলে তৈরি করি অশবান। আমাদের অশবানের উদ্যোগে অশোয়াসহ কানাডার বিভিন্ন জায়গায় সাড়া পড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা কানাডিয়ান বাংলাদেশি। কিন্তু আমাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ। এজন্য বিজয় দিবসের পরদিন ১৭ ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় উৎসব এবং কনসার্টের আয়োজন করেছি। আপনারা সবাই আসবেন। আশা করছি বিমুখ হবেন না।  

অশবান- এর তরুণ সদস্য মেহরাব হোসেন জানান, স্কারবো যেমন একটি মিনি বাংলাদেশ তেমনি অশোয়াতেও বাংলাদেশিরা বসতি গড়ছে। এরই মধ্যে দুই থেকে আড়াই হাজার বাংলাদেশি অশোয়াতে বসবাস করছে। আমরা বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধারণ করি। সেটার জন্য আমাদের অশবান কাজ করবে। আপনারা এসে আমাদের কাযক্রম দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

অশবান সদস্য ও রিয়েলটর তৌফিক আলম বলেন, বাঙ্গালি কমিউনিটির কাছ থেকে আমরা নিয়েই যাচ্ছি। কিন্তু খুব বেশি দিচ্ছি না। তাই বাঙ্গালি কমিউনিটিকে কিছু দেয়ার জন্যই আমরা অশবান গঠন করেছি। কনসার্ট ও বিজয় উৎসবে আপনারা সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে আসবেন। আশা করছি আপনারা বিমুখ হবেন না। আপনাদের সাড়াতে আমরা অভিভূত।

অশবান সদস্য মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অশোয়া, অ্যাজাক্স ও উইটবি  বাঙ্গালি কমিউনিটির কাছাকাছি যাবো বা ঘনিষ্ঠ হবো আমরা। এরপর চ্যারিটি বিভিন্ন প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা আছে আমাদের নবগঠিত সংগঠন অশবান- এর। সংগঠনের মাধ্যমে আমরা ফান্ড যোগাড় করে কমিউনিটির অসহায় মানুষদের সহায়তা করতে চাই আমরা।  প্রথম দুই থেকে তিন বছর এভাবেই আমরা প্রোগ্রাম করে যেতে চাই।

অশবান সদস্য কাজী মুরসালিন বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশি সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করাতে চাই। এবারের প্রোগ্রামে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটি গীতিনাট্য থাকবে। আমাদের বাচ্চারা এ গীতিনাট্যে অংশ নেবে। ক্ষুদিরাম থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ সব কিছুই আমরা গীতিনাট্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।                 

অশবান সদস্য ব্যারিষ্টার শাফিউল পারভেজ বলেন, নন প্রফিট অর্গানাইজেশন অশবানের মাধ্যমে আমরা আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে সংযুক্ত করছি। এজন্য সব শ্রেণির দর্শকদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৬-১৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের নিয়ে মিউজিক্যাল ড্রামা থাকবে। ক্ষুদিরাম থেকে পাকিস্তান আমল, এরপর বাংলাদেশ আমল সবকিছুই আমাদের গীতিনাট্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। আগামীতে আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

অশবান সদস্য জিয়া উদ্দিন বলেন, পাঁচ ছয় মাস হল আমরা আমাদের অশবানের কাযক্রম শুরু করেছি। আমারা একটি জামজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আগামীতে আরও ভাল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আপনারা আসুন, আমাদের অনুষ্ঠান উপভোগ করুন।