জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার ইশতেহার

মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরন্টো

দেশ ভাবনায়, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেন – উন্নত বলিষ্ঠ সুখ, শান্তির বাংলাদেশ এবং নিজেদের জন্য সচ্ছল, নিরাপদ, নির্ঝন্ঝাট একটি মানবিক জীবন। এই প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব মিলাতেই “জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার ইশতেহার- ২০২২” শে’র আলোচনা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বর্তমানে যে ভাবে এবং যে অবস্থায় আছেন- তারা এর থেকেও আরো ভালো প্রত্যাশা করেন। আরো ভালো থাকতে চান! তাতে সন্দেহ নেই? তথাপি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে থাকা বড় আকারের দূরত্বই তাদের বার বার করছে নিরাশ। অবস্থার প্রেক্ষিতে নিজেদেরকে তারা বিভিন্ন সময় প্রতারিত হচ্ছেন বলে মনে করেন।
সময়ের সাথে স্বাভাবিক নিয়মেই বয়স যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশে সুযোগ সুবিধার দিক ণ্ডলিও কিছু কিছু বেড়েছে। এটি সত্য। একই সাথে আর একটি সত্য হল মানুষের জীবনের নিত্য মৌলিক সমস্যা ণ্ডলি আজও কিন্ত হাজারও পরিবর্তনের মাঝে অপরিবর্তিত ভাবেই থেকে যাচ্ছে। সমস্যার প্রকৃত সমাধান পেতে এদিকটাও একটি ণ্ডরুত্ব পূর্ন আলোচনার অধ্যায়। কেন এমনটি হচ্ছে ? এর থেকে বের হয়ে আসবার উপায় কি?
এবিষয় ণ্ডলিই সমাধানের লক্ষ্যে মূল আলোচ্য। আলোচনায় অতীতও একটি ণ্ডরুত্ব পূর্ন ফ্যাক্টর। নিঃসন্দেহে। আমাদের গৌরবের ইতিহাস আছে। আছে সুখ, দুঃখ, বেদনা, জয়, পরাজয়ের ইতিহাস। ইতিহাসে তা থাকবে।
ইতিহাস এমনই- এটাই বিশ্ব ইতিহাসের ধারা। এ ধারা নিয়ে চিন্তা গবেষণার বিরাট ক্ষেত্র আছে। এটি স্বমহিমায় উজ্বল কিরণ ছড়াবেই। একই সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে এবং বিবেচনায় নিতে হবে আমাদের বর্তমান সমস্যা ও সংকট উত্তরণের পথে – ইতিহাসকে কেউ যেন মতলবি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে।
সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়েই আমাদের দেশ। স্বাধীনতার পর ৫০ বছরের ও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই সময় কালে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও নিজস্ব সম্পদ ও শক্তিতে যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, সম্ভাবনা ছিল, সেখানে আমরা পৌঁছাতে পারিনি এটিই বাস্তব। কেন এমনটা হল? মূল কারন বলতে গেলে বলতে হয় মিসম্যানেজমেন্ট বা পুওর ম্যানেজমেন্ট এর কথা। আমাদের শক্তি, সম্পদ ও সম্ভাবনাকে পরিপূর্ন ভাবে কাজে না লাগাতে পারাই পিছিয়ে থাকার ও পিছিয়ে পড়ার কারন। এই সমস্যার সমাধান অবশ্যই আছে এবং তা অর্জনও কিন্তু খুব একটা কঠিন নয়। সঠিক পরিকল্পনার অভাব, সদিচ্ছার অভাব, অযোগ্যতা, অলসতা। লোভ, লালসাই প্রকৃত সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবর্তন চাইলে এই বাঁধা ণ্ডলি অতিক্রম করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরণের পথে সব ধরনের অনর্থক নেগেটিভ চিন্তা, ভাবনা এবং অনৈক্য – বিভেদ পরিহার করতে হবে। কাজ করতে হবে শত ভাগ নিষ্ঠা দিয়ে।
কাঙ্খিত এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন : যা চাই তার একটা পরিস্কার লিস্ট। এবং সেটি জাতীয় ওয়াদার মতই সবার সামনে পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা। সুস্পষ্ট ভাবে পরিবর্তনের দিক ণ্ডলি দেখাতেই এর প্রয়োজন। দেশের মানুষকে আঁধারে রেখে পজেটিভ সত্যিকার পরিবর্তন পাওয়া সম্ভব নয়। মানুষই দেশের সম্পদ দেশের শক্তি। এই শক্তি এই সম্পদকে সত্যিকার পূর্ন শক্তিতে পেতে প্রয়োজন জ্ঞান ভিত্তিক আলোকিত মানুষ ও সমাজ। এর কোন বিকল্প হতে পারেনা। সবকিছুই হতে হবে ট্রান্সপারেন্ট। এখানেও ব্যতিক্রম হতে পারে না। দেশে পরিবর্তন একদিন আসবেই ইনশাল্লাহ। শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে জনগনের রক্ত, শ্রম, মেধা চিন্তা ভাবনা, অনুসন্ধান এবং গবেষণায় পাওয়া পরিবর্তনের মূল ধারণা ণ্ডলি যেন পূর্বের ন্যায় – বজ্র আঁটুনি ফোস্কা গেরো হয়ে হারিয়ে না যায়।
বিগত ৬০/৭০ বছরের জাতীয় অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সমস্যার দিক ণ্ডলি চিহ্নিত করে- এবং সচেতন ভাবেই নেগেটিভ প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে পজেটিভ পরিবর্তনের ধারাটি তুলে ধরতে হবে। কাঙ্খিত পরিবর্তনের নুতন ধারায় – নিশ্চিত করতে হবে সৎ ও যোগ্যদের হাতে দায়িত্ব যাবার পথটিও যেন খোলা থাকে। এখানেই প্রয়োজন – সত্যিকার গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যোগ্য ও সৎ মানুষের নেতৃত্ব ১০ বছরে জাতিকে যত টুকু এগিয়ে নিতে পারে অযোগ্য ও অসৎদের পক্ষে তা কখনও সম্ভব নয়। আবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সর্ব স্তরে দুর্নীতি মুক্ত সিস্টেম প্রচলন। এখানেও থাকতে হবে শক্ত, পোক্ত ভাবে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। এটিও জরুরি। কারন সিস্টেম পরিবর্তন ছাড়া সব ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিই শেষ মেষ হয়ে যায়- যে লাউ সেই কদু।
উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য, নিবিষ্ট ভাবে আগ্রহী নেতৃত্বই পারবেন উন্নয়ন মুখী নির্ভেজাল, পরিবর্তন আনতে। মেধা যুক্ত নেতৃত্বই সত্যিকার- সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের রূপকার। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ নেতৃত্বই মূলত কথামালার নেতা। তাই সত্যিকার পরিবর্তন হয় শ্লথ। পজেটিভ পরিবর্তনের পথে সর্বক্ষেত্রেই স্বছতা, জবাবদিহিতা ও টাইম ফ্রেমে কর্ম কান্ড হবার বাধ্য বাধকতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এটি দুর্নীতি মুক্ত সিস্টেম কার্যকরী করবার প্রয়োজনীয় অংশ। প্রয়োজনীয় শর্তও বটে। এবং জাতীয় প্রত্যাশা পূরণের চাবিকাঠি। প্রয়োজনে প্রাথমিক অবস্থায় দুর্নীতি মুক্ত বা দুর্নীতি বিরোধী এই সিস্টেমটি বিদেশী যে কোন একটি উন্নত দেশ থেকে ধার করে আনলেও চলবে। জাপানও প্রাথমিক ভাবে এই কৌশলই নিয়েছিল।
গণতন্ত্র, সুশাসন, সাম্য, ন্যায়, নীতি, আদর্শ, সুচিন্তা, মূল্যবোধ, বিবেক বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্ম, কর্ম, কর্ম সংস্থান, সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা, জন নিরাপত্তা, মানব অধিকার সব কিছুই জাতীয় জীবনে জরুরি বিষয়।
এ বিষয় ণ্ডলির মানদন্ডেই সভ্য উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্রের মান নির্ধারিত হয়। উন্নত বিশ্ব এই সমস্ত সূচকে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাবার জন্য সুস্থ্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এক্ষেত্রে উন্নয়ন ও গবেষণায় অর্থ বিনিয়োগে তাদের কার্পণ্য নেই। রাষ্ট্র সেখানে নিজেই উদ্যোগী। এ ছাড়াও আরো এক ধাপ এগিয়ে, তারা অবদান রাখতে পারেন এমন সব সম্ভাবনাময়, ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন ণ্ডলিকেও বিভিন্ন ভাবে পজেটিভ উন্নয়ন ধারায় নিজ নিজ অবদান বিকশিত করবার জন্য সর্বত ভাবেই সহযোগিতা দিতে উন্মুখ। এভাবেই উদ্যোগ ও উদ্দমের মাঝে সামগ্রিক সম্ভাবনা ণ্ডলিকে তৎপর প্রচেষ্টায় অনুসন্ধান ও গবেষণার সুযোগ দিয়ে জাতীয় মেধা ও চিন্তা শক্তির সত্যিকার মূল্যায়ন করা হয়। এ বিষয়টি কম্পিটিটিভ বিশ্বে প্রতিযোগিতায় যুক্ত থেকে নিজেদের প্রমান করবার মূল অনুপ্রেরণা। সভ্যতাকে এগিয়ে নেবার পথ।
সভ্য সমাজের উন্নত এই স্তরে -পৌঁছান সম্ভব হয়েছে ব্যক্তি মানুষের চিন্তার মান এবং সামষ্টিক সমাজ চিন্তার মান বিশ্ব মানে উন্নত হওয়ায়। একই সাথে ভিন্ন মত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ ও সহনশীল চিন্তাবোধে। গণতন্ত্রের প্রতি সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসে। গণতন্ত্রের নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ত্রুটি বিচ্যুতি সত্বেও বলা যায় – বর্তমান বিশ্বে সরকার পরিচালনায় যত ণ্ডলি ব্যবস্থা বা সিস্টেম আছে তার মাঝে তুলনা মূলক বিচারে গণতন্ত্রই উত্তম। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা পনায় গণতন্ত্রকেই গ্রহণযোগ্য হিসাবে বেছে নিয়েছেন। এবিষয়ে বিতর্ক নেই।
গণতন্ত্র : গণতন্ত্র হল জনগণের পছন্দে, জনগণের দ্বারা জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকার গঠনের সিস্টেম। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিষ্কার, স্বচ্ছ, জবাবদিহি, দক্ষ, যোগ্য, গতিশীল সরকার ও প্রশাসন চালাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। যা পর্যায়ক্রমে সেবামুখী, গনমুখী, সময় সচেতন এবং দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করতে জনমতের চাপে বাধ্য। অনুরূপ চেক এন্ড বেলান্স পদ্ধতির প্রয়োগে স্বাধীন ভাবে চলতে সক্ষম। এটি তখনই সম্ভব যখন একটি দেশে গণতন্ত্র সুষ্ঠ ও কার্যকর ভাবে চলতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল তিনটি ধাপ বা স্তম্ভকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন ভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া। বিভাগ তিনটি হল।
প্রথমত: আইন বিভাগ। (সংসদ-পার্লামেন্ট।)
দ্বিতীয়ত: নির্বাহী বিভাগ। (সরকার ও সমগ্র প্রশাসন।)
তৃতীয়ত: বিচার বিভাগ। (আইন-আদালত)
দেশে দেখা যায় আলোকেও- সরল রেখায় প্রবাহিত হতে না দিয়ে, অনেক সময় তাকে বক্র রেখায় প্রবাহিত করবার চেষ্টা করা হয়। এটি বস্তুত অন্ধকারই ডেকে আনে। অর্থাৎ গণতন্ত্রে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় সরকার ও প্রশাসনের জন্য তৈরী করা সুন্দর, সুদৃশ্য রীতি নীতি ণ্ডলি খাতা কলমে রেখে- নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী তা চালাতে গিয়ে সর্বত্র কঠিন জটলা পাকিয়ে তোলা হয়। একই ভাবে নিজস্ব সুবিধা নিতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার তিনটি পৃথক ধাপ বা কাঠামো পিলারকেও তাদের নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রকে স্বাধীন ভাবে চলতে না দিয়ে, চেক এন্ড বেলেন্সের শৃঙ্খলা, চেন অফ কমান্ডকে সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে তছ নছ করা হয়। ফলশ্রুতিতে পূর্বের তৈরী করা জটলার সাথে তৈরী হয় নুতন ভাবে সমস্যার খেচুড়ি। আপাতঃ সুবিধার মনে হলেও নিজে খোঁড়া এই গর্তে দিন শেষে নিজেকেই পড়তে হয়। তথাপি গথামের জ্ঞানীদের মতই দেশের মহাজনেরাও সর্বদা গর্তের গভীরতা আর বিভেদ বেড়ার উচ্চতা বাড়াতেই আগ্রহী।
এটি সম্ভব হয় এবং হচ্ছে গঠনতন্ত্রের ফাক ফোকরের অনেয্য সুযোগ নিয়ে। আর সর্বত্র নিয়োগ, বরখাস্ত ও বদলির সর্বময় ক্ষমতা কৌশলে কুক্ষিগত করে। জব বা চাকরিতে নিয়োগ প্রদান এবং বরখাস্তের ক্ষমতা একবার কুক্ষিগত করা গেলে নিয়োগ প্রাপ্ত অধিনস্তরা জি হুজুর মার্কাই হন। যাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায় নিয়োগ কারীর সব ধরনের ন্যায় অন্যায় আবদার রক্ষা করা। নিজের জব বাঁচাতে -সব ধরনের হুকুম পালন। নিয়োগ দানের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ক্ষমতা এক হাতে কেদ্রীভূত হতে পারলে সরকারও প্রশাসন স্বেচ্ছাচারি হতে আর কোন বাধা থাকেনা। এটি গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা, বাধা। এ অবস্থায় সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এইরূপ পরিস্থিতি কখনই কাম্য নয়। এখন সময় এসেছে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাকে ত্রুটি মুক্ত করতে এবং ত্রুটি মুক্ত রাখতে তাই প্রয়োজন গঠনতন্ত্রের এই ফাক ফোকর ণ্ডলি দ্রুত সংশোধন ও পরিবর্তন করা।
রাষ্ট্র ও সরকারি সকল কর্মকান্ডে শৃঙ্খলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এটি জরুরি। তাই আবারও বলতে হয়, এটি সম্ভব যদি কিনা রাষ্ট্র পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সকল স্তরকে দুর্নীতি মুক্ত সিস্টেমের আওতায় আনা যায়। অর্থাৎ সরকার এবং প্রশাসন – যেন অন্য বিভাগকে অণেয্য ভাবে প্রভাবিত করবার সুযোগ না পায়। নুতন সংষ্কার যেন অভিষ্ঠ এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। সে ভাবেই সংষ্কার তুলে ধরা আবশ্যক। জন আকাঙ্খা বা প্রত্যাশা পূরণে শত সমস্যার বেড়াজালে মনে হতে পারে সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষুধ দেব কোথা? এইরূপ হতাশার বাণীতে প্রভাবিত না হয়ে নেগেটিভ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। এটি জাতীয় আশা, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি অর্জনের সাথে জড়িত। আর পজেটিভ ভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়ণ্ডলো ক্রম অনুসারে সাজিয়ে নিতে হবে। জন কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে করণীয় জরুরি তালিকায় অন্য বিষয় ণ্ডলির সাথে নিম্ন লিখিত ২০ টি দফায়ও অবশ্যই যুক্ত করতে হবে জাতীয় মুক্তির স্বার্থে।
(১) গণতন্ত্র : গণতান্ত্রিক দেশ ও গণতান্ত্রিক সরকার পেতে নির্বাচন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহকে স্বাধীন ভাবে চলবার সক্ষমতায় গড়ে তোলা।
(২) সংবিধানে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ দুই টার্মে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। এবং সত্যিকার জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
(৩) দুর্নীতি মুক্ত সিস্টেম চালু করা। সুশাসন এবং দুর্নীতি মুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনের লক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্ম কান্ড স্বচ্ছ, সুপষ্ট নীতিমালা অনুসরণে পরিচালিত হবার অঙ্গীকার। এবং প্রতিটি কর্ম কান্ড সেবা দাতা এবং সেবা গ্রহিতার মাঝে লিখিত ভাবে কর্মের উল্লেখ এবং দিন, সময় উল্লেখ পূর্বক লিখিত ভাবে হবার নীতি প্রণয়ন। প্রয়োজন অনুসারে সময় সীমা বেঁধে দেওয়া।
(৪) মান সম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব শীল অফিসারকে শত ভাগ- জবাব দিহি করবার বিধি বিধান প্রচলন।
(৫) উন্নয়ন কর্ম কাণ্ডের মান, বরাদ্ধ অর্থ, সময় ও মনিটরিং সিস্টেম বিশ্বমানের করা। জাতীয় অপচয় ও দুর্নীতির বিপক্ষে এটি ণ্ডরুত্ব পূর্ন পদক্ষেপ ।
(৬ ) জন ভোগান্তির সকল দিক, সকল ক্ষেত্র সমূলে উৎপাটন করা।
(৭) জন নিরাপত্তা, কর্ম সংস্থান, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার সকল দিক বিশ্ব মানে উন্নীত করা।
(৮) পেশা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা : গড়ে তোলার নীতি মালা গ্রহণ। দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায় ক্রমে একটি করে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। দ্রুত কম পক্ষে যে কোন একটি প্রতিষ্ঠা করা।
(৯) বিশ্ব মানের পূর্ণাঙ্গ একটি মহিলা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এই বিশ্ব বিদ্যালয় মহিলা বিষয়ক স্পেশিয়াল বিষয় ণ্ডলি সহ বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয় ণ্ডলিতে পূর্ন সক্ষমতায় গড়ে তোলা। এ বিষয়ে ভিন্ন মতকে- দেখতে হবে এবং বুঝতে হবে কেন দেশে জাতীয় পরিষদে এখনও পৃথক মহিলা আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট আছে!
(১০) দেশের প্রতিটি বিভাগীয় সদরে একটি করে পৃথক পূর্ণাঙ্গ মহিলা থানা প্রতিষ্ঠা। এটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে থানারকর্মকান্ড, জিডি অন লাইনে ইলেক্ট্রনিক্যালি করবার সুযোগ রাখা।
(১১) দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি “ইসলামিক কৃষ্টি, কালচার বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করা। এই বিশ্ববিদ্যালয় নীতি, নৈতিকতা, মুল্যবোধ পুন্: প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সহ ,দেশে মুসলিম ঐতিহ্য, ইসলামিক কৃষ্টি, কালচারের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে কাজ করবে। ইসলাম ও মুসলিম কৃষ্টির আলোকে রাষ্ট্রের সকল ধর্মমত পথের সঙ্গে ইসলামিক কালচারের প্রকৃত ঐতিহ্য অনুযায়ী ন্যায্য সামাজিক সু-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে। যা বিভিন্ন প্রকার অপ প্রচার ও অপ বেখ্যার সঠিক জবাব তুলে ধরবে। একই সাথে দেশকে বিদেশী অপ সংস্ককৃতি প্রতিরোধ করবার সক্ষমতা গড়ে তুলবে। সর্বপরি বাংদেশের নিজস্ব কালচারের বিকাশে গবেষণার কাজ করবে।
(১২) প্রতি জেলায় একটি ন্যায় সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা, ন্যায় সালিশি বোর্ড অর্থাৎ আদালত পূর্ব আপোষ মীমাংসার অফিস হিসাবে কাজ করবে। যে অফিস মীমাংশা যোগ্য সাধারণ বিষয় ণ্ডলি, আদালতের যাবার পূর্বেই দীর্ঘ এবং ব্যয় বহুল আদালতিক প্রসেসের বাইরে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থাঃ করতে পারবে।
(১৩) মানব সম্পদ সহ দেশের সকল সম্পদের যথাযথ উন্নয়ন কল্পে। জাতীয় গবেষণা ব্যুরো স্থাপন। সর্ব পর্যায়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কে ণ্ডরুত্বের সাথে নেওয়া।
(১৪) স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া উন্নয়নে প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেঙ্ গড়ে তোলা।
(১৫) সকল ধর্ম ও মতের শান্তি পূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা। দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিশ্ব মডেল হিসাবে গড়ে তোলা।
(১৬) আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে, ধনী, গরিব ব্যবধানকে যুক্তি সম্মত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ।
(১৭) দেশে বিবাহ পূর্ব ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী সকল যুবক যুবতীকে বাধ্যতা মূলক ৮ সপ্তাহের সুনাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। সু-পরিবার গঠন, পারিবারিক অর্থনীতি এবং বেবি ও বয়স্ক কেয়ার ট্রেনিং এর আওতায় এনে উপযুক্ত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। উপযুক্ত ভাতা সহ ৮ সপ্তাহ পূর্ণ কর্ম ঘন্টা হিসাবে পে করা। জাতি গঠন ও উন্নয়ন প্রকল্পে এটি হবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয় ব্যয় বাজেট।
(১৮) দেশের সকল বয়স্ক , শিশু, এতিম, বিধবা, ডিজাবেল্ড, শারীরিক অক্ষম কে সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা।
(১৯) নীতি, নৈতিকতা, সততা, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যত্নশীল থাকা।
(২০) লক্ষ্য হতে হবে দেশকে পর্যায়ক্রমে একটি সোশ্যাল অয়েল ফেয়ার রাষ্ট্রে উন্নত করা।
বাংলাদেশীদের নিজস্ব স্বকীয়তায় বিশ্ব সভা নিজস্ব কৌশল ও কর্মে উজ্জ্বল হয়ে উঠবার সক্ষমতা আছে। এ লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলে পুনরায় তা প্রমাণিত হবে !
মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরন্টো।
(লেখক পরিচিতি : ইতিহাস গবেষক, রাজনীতি বিশ্লেষক)