সম্মিলিত বাংলা মেলায় দর্শকদের উল্লাস

দীন ইসলাম: আকাশের ঘুমরা মুখ। হালকা বাতাস। রোদের দেখা নেই। সব মিলিয়ে সকাল থেকেই পরিস্থিতি প্রতিকূল মনে হচ্ছিল। কিন্তু দিন বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। সম্মিলিত বাংলা মেলা সরগরম হয়ে উঠে। মেলা’র ৫০ টি স্টলে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। খাবারের স্টলে পড়ে লম্বা লাইন। মুহুর্তেই কয়েক হাজার দর্শনার্থী জড়ো হন। গত ৪ সেপ্টেম্বর টরেন্টোর ডেনফোর্থের ডেন্টোনিয়া পার্কের পরিবেশ ছিল এমন। যদিও করোনার দুই বছর ঝিমিয়ে পড়েছিল টরেন্টোর ডেনফোর্থের বাংলা টাউন। এদিন প্রাণভরে অনুষ্ঠান উপভোগ করলো কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা বাংলাদেশিরা। অনুষ্ঠানে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই নেচে গেয়ে একাকার হয়ে যান। বাসায় ফিরেন তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। সবাইকে বলতে শোনা যায়, অনেক দিন পর ফাটাফাটি একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করলাম। সম্মিলিত বাংলা মেলার ক্রেস্ট প্রদান ও আয়োজক কমিটি’র পরিচিতি পর্বে ফেডারেল সরকারের লিবারেল পার্টির এমপি সালমা জাহিদ এবং স্কারবো সাউথ ওয়েস্টের এমপিপি ডলি বেগম উপস্থিত ছিলেন। এমপি সালমা জাহিদ এবং এমপিপি ডলি বেগম এ রকম একটি মেলার আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে নিজেদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে বলেন, বাঙ্গালি কমিউনিটির সম্মিলিত বাংলা মেলা’র আয়োজন দেখে আমরা মুগ্ধ। আমাদের হৃদয় ছুঁয়েছে এমন একটি অনুষ্ঠান। আগামীতেও আপনাদের পাশে থাকবো। এ সময় সম্মিলিত বাংলা মেলা আয়োজক কমিটি’র কনভেনর শক্তি দেব, মেম্বার সেক্রেটারি একে আজাদ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাওন, প্রধান উপদেষ্টা মঈন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমান, মাহবুবুর রব চৌধুরী, ব্যারিস্টার রেজোয়ান আহমেদ, ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন, আয়োজক কমিটি’র অন্যতম সদস্য সাপ্তাহিক ভোরের আলো প্রকাশক রেশাদ চৌধুরী, ভোরের আলো সম্পাদক আহাদ খন্দকার, আজকাল সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী রনি, ভোরের আলো ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরিফ আহমেদ, বার্তা সম্পাদক দীন ইসলাম, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী জাকারিয়া রশীদ চৌধুরীসহ বাঙ্গালি কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কনভেন শক্তি দেব বলেন, সম্মিলিত বাংলা মেলা আমাদের কমিউনিটির প্রাণের মেলা। এ মেলায় দর্শনার্থীদের আগমন দেখে আমরা সত্যি আনন্দিত। মেম্বার সেক্রেটারি একে আজাদ আগত দর্শনার্থীদের রজনিগন্ধার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আপনারাই আমাদের অনুষ্ঠানের প্রাণ। আপনারা দলে দলে এসেছেন বলেই আমরা এমন মেলার আয়োজন করি। আগামীতে আরও ভাল কিছু করার প্রত্যাশা করি। আয়োজক কমিটি’র পক্ষ থেকে টাইটেল স্পন্সর ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন, ব্যারিস্টার ওমর হাসান আল জাহিদ ও রিয়েলটর শামসুল রেজাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। প্ল্যাটিনাম স্পন্সর মর্টগেজ এজেন্ট আনিসুর রহমান, ব্যারিস্টার রিজোয়ান রহমান, রিয়েলটর আজমল মিয়া এবং মোহাম্মদ জিলানীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি গোল্ড স্পন্সর রিয়েলটর শেখ হাসিব হোসেন, রিয়েলটর গৌতম পাল, রাসেল সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার শামস, রিয়েলটর অটল আরিফ, ব্যারিস্টার আরিফ ইমতিয়াজ, একাউনট্যান্ট তপন মাহমুদ, রিয়েলটর সরোয়ার আহমেদ, মর্টগেজ এজেন্ট পারভেজ আহমেদ মুহিত, রিয়েলটর বিটু হক, রিয়েলটর দেবব্রত দে তমাল, রিয়েলটর সাব্বির চৌধুরী লিটন, রিয়েলটর মেহেদী শরীফ, রিয়েলটর মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান মানিক, রিয়েলটর সুশীতল চৌধুরী, ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট এজাজ চৌধুরী, মর্টগেজ এজেন্ট ইলিয়াস খান, মর্টগেজ এজেন্ট তাসনুভা বাশার, মর্টগেজ এজেন্ট দীন ইসলাম, রিয়েলটর মঞ্জুর চৌধুরী, ব্যবসায়ি কামাল সারোয়ারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। আগামীতে তাদের সহায়তা যেন পাওয়া যায় সেই প্রত্যাশা করা হয়। এ পর্বে কমিউনিটি এক্টিভিস্ট অ্যাচিভমেন্ট প্রদান করা হয় অ্যাডভোকেট আফিয়া বেগমকে।
মেলায় সকাল থেকে স্টল সাজাতে শুরু করে শাড়ী হাউজ, কানিজ বুটিক, নাজ ফ্যাশন, শাকের শাড়ী, সাথী কিচেন, মহুয়ার ঝাল মুড়ি, তাহের টয় ষ্টোর, মিতালী এন্টারপ্রাইজ, হাদিয়া মানিক বুটিক, কাশফী ড্রেস অঙ্গন, দেশাল শাড়ী ও টেইলার্স এবং অনিক ফ্যাশনসহ বিভিন্ন স্টল। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ৫০টির বেশি স্টল দিতে পারেননি আয়োজকরা। ৫০ টি স্টলের মধ্যে খাবারের স্টল ছিল সাতটি। বাকী ৪৩ টি স্টল শাড়ি এবং জুয়েলারিসহ বিভিন্ন ধরনের স্টল ছিল। দুপুরের মধ্যেই স্টল সাজানো শেষ হয়ে যায়। এরপরই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। লেবার উইকেন্ডের কারনে অনেক বাঙ্গালিরা ছুটি কাটাতে টরন্টোর বাইরে চলে যান। অনেকে অন্টারিও’র বাইরে বিভিন্ন প্রদেশে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যান। এরপরও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকাল সাড়ে চারটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরো পর্বটি উপস্থাপনা করেন কামরান করিম, আবু সাঈদ নাঈম এবং মির্জা রিফাত নুয়েরিন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নুসাইবা চৌধুরী তায়েব্যা সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবন্য এবং ওরে নীল দরিয়া পরিবেশন করেন। এরপর আইরিন আলম কোন বা পথে নিতাইগঞ্জে যাই, মৈত্রী দেবি খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, শিরীন চৌধুরী সাধের লাউ এবং সুন্দরী কমলা নাচে, সুমাইয়া আহমেদ হৃদি বন্দে মায়া লাগাইছে ও সাদা সাদা কালা কালা, তাসনুভা বাশার তোমরা একতারা বাজাইওনা ও রুপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া গান উপস্থিত দর্শকদের উন্মাতাল বাড়িয়ে দেয়। গাচের পাশাপাশি নাচ মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রুপ যেন এক ঝলক বাড়িয়ে দেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে সর্বশেষ আকর্ষণ ছিল সায়েরা রেজা এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল-এর গান। সায়েরা রেজা শাহ আব্দুল করিম এবং লিজেন্ড ব্যান্ড শিল্পীদের গান পরিবেশন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। বাদশা বুলবুল পুরনো ও নতুন মিলিয়ে বেশ কটি গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের গানের ক্ষুধা যেন কয়েক ণ্ডন বাড়িয়ে দেন। শিল্পীদের গানের সাথে বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গ দেন জাহিদ হাসান, রনি পালমার, ডি কস্তা এবং আজিম অপূর্ব। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় রাত ১০ টা ২০ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব শেষ করতে হয়। সর্বশেষ আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র পর্ব। র্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরষ্কার ছিল স্মার্ট টিভি। পুরষ্কারটি সারোয়ার কামাল এর সৌজন্যে প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পুরষ্কার ছিল ল্যাপটপ। রিয়েলটর কবিরুল ইসলাম এর সৌজন্যে দ্বিতীয় পুরষ্কার প্রদান করা হয়। তৃতীয় পুরষ্কার ড. হানিফ এর সৌজন্যে প্রদান করা হয়। পুরো মেলার আয়োজনকে সুন্দরভাবে করতে সৈয়দ নজমুল হক, রাফে চৌধুরী, মাহবুব, মকবুল হোসেন মঞ্জু, হাবিব চৌধুরী মারুফ, আলী হোসেন, আবু জহির সাকিব, শাকিল আহমেদ, আলীম, মাহিন, মাহি উদ্দিন, অলিউর রহমান লিমন, তানভীর ফরাজী, ফারুক আহমেদ, এডভোকেট মালেক, রিমন ইসলাম, রাব্বি চৌধুরী, কবির, সেলিম রহমানসহ অনেকেই নিরন্তর পরিশ্রম করেন।