হাসি, অহংকার এবং পদবী কথন

লিখেছেন আশফাক চৌধুরী

আমাদের চারপাশে অতি শহুরে আধুনিক নামধারী মুখোশ পরা কিছু মানুষ নামের মানুষ, তাঁরা হতে পারে আমাদের চেনা শোনা, অথবা জানা শোনা, অথবা আমারই বা আপনাদেরই অতি কাছের মানুষ, আপন স্বজন পরিজনদের ভিতরের কেউ তো বটেই I হতে পারে রক্ত সম্পর্কের নিকট জনের কেউ I

আর এই মানুষ নামের মানুষেরা আমাদের এই বর্তমান পৃথিবীতে বসবাস করছে সংখ্যাগরিষ্ঠ রূপে I সংখ্যাগরিষ্ঠরা অতি সঙ্গোপনে সংখ্যালঘুদের তাদের দলে বেড়াচ্ছে, আর এ কারণেই সৎ সঠিক সংখ্যালঘু মানুষের সংখ্যা এই পৃথিবীতে ইতিমধ্যেই শূন্যের কোটা স্পর্শ করার অপেক্ষায় !

তো অমানুষদের উদ্ভট হাস্যকর বিচিত্র মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু অসৎ উদ্দেশ্যে বা মনোভাবের কথা আজ আমি আপনাদের কাছে বলতে এসেছি I আমি আজ বলতে এসেছি তাঁদেরই কথা, যাদের কথা আমি,আপনি বা আমরা কতদিন থেকে বলবো বলবো করে আর বলা হয় না I বলা হয় না বললে ভুল বলা হবে, আমরা নিজেরাই কেউ বলতে চাই না I কারণ আমরা নিজেরাই একেকজন তলে তলে ভীষণভাবে লোভী, চালাক আর স্বার্থপর I কারণ ওদের কথা বললে, আমার পাতে, তোমার পাতে কিছু কম পরবে যে দাদা I মানে তেল মারা বা হিপক্রেসি I এই হিপোক্রেট বা মুনাফিকদের কথা আমি আজ বলতে এসেছি I আমি আজ বলতে এসেছি সেই পোকাদের কথা যারা আপনার অতি নিকটে সহবাস করে ধীরে ধীরে আপনার রক্ত চুষে খাচ্ছে ! যাদের কথা বলতে এসেছি, তাঁরা কে ? এরাই তারা যারা আমাদের রক্ত পিপাসু !

আমাদের অনেকেরই শরীরের রক্তচাপ উত্থান পতন এর মূল কারিগর I ওরা মানুষ নামের “ছারপোকা” I এসব মানুষের অহংকারের মাত্রা, লাফালাফি কিংবা হাসাহাসির রোগ ইদানিং মাত্রা ছাড়িয়ে আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে !আর একারণেই আমার এ ব্যাকুল মন মাঝে মাঝে পালিয়ে বেড়াতে চায় I তাই মাঝে সাজে আমার পরিবার নিয়ে আমি আমাদের শহরের শহরতলিতে লাফালাফি আর হাসাহাসির ক্লাবে চলে যাই I প্রাণভরে লাফালাফি আর প্রাণখুলে হাসাহাসি করে তারপর বাড়ি ফিরি I ক্লাবের প্রধান “হাসি,লাফালাফি ” বিশেষজ্ঞদের একজন আমায় জানিয়েছেন, সমাজের অন্যায়, অত্যাচার, আপত্তিকর বিষয়, অনৈতিক কর্মকান্ড এবং হিংসার ছড়াছড়ির কারনে যাদের জীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তাদের জন্যে হাসাহাসি, লাফালাফি থেরাপি একটি আদর্শ দাওয়াই I গ্রুপ হাসাহাসি, লাফালাফি তে শরীরের রক্ত এবং রগের সংযোগগুলিতে তাৎক্ষণিক দারুণ উদ্দীপনা এনে দেয় এবং মন প্রাণ প্রফুল্লময় হয়ে উঠে I মজার কান্ড এই যে, লাফালাফিতে আমার রেজাল্ট মন্দ নয় বৈকি, কিন্তু হাসাহাসির স্কোর যাচ্ছেতাই I হাসাহাসির ক্লাবের প্রবেশদ্বার এ প্রবেশ করার আগে থেকেই আমার প্রচন্ড হাসির বেগ পেতে থাকে I নিয়ন্ত্রণহীন এই হাসির চোটে অনেক সময় আমার প্যান্ট এর ভিতরে লুকিয়ে থাকা অন্তর্বাস ভিজে যায় ! আমার বাঁধ ভাঙ্গা হাসির আওয়াজ শুনে হাসি ক্লাবের অন্য সদস্যদের হা হা হা হি হির হাস্যকর পরিবেশ কয়েক মুহূর্ত নিস্তব্ধ হয়ে যায়, এর কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হয় বাঁধভাঙ্গা গ্রুপ উচ্চ কন্ঠে হা হা হি হি হাস্যকর বিচিত্র পরিবেশ I কিন্তু মুশকিল হলো ,ওরা যখন হাসে আমি তখন হাসি না I মানে, অনেক চেষ্টার পরও হাসতে পারি না I অদ্ভুত মনোভাব ঘিরে ফেলে আমাকে !

কি আর করা, আমি তখন চলে যাই , “মেঘের বাড়ি I “মেঘের বাড়ি বসে বসে আমি তখন রোদ্দুরের কথা ভাবতে থাকি I রোদ্দুর মানে আমাদের “সোনালি সময় !”যারা আমার বা আমাদের সোনালি সময়, স্বপ্নের সময় ছিনিয়ে নিয়ে এখন দিব্যি সমাজের ,পরিবারের বা রাষ্ট্রের অধিপতি, অধিকর্তা হয়ে বসে আছে এবং বিকট শব্দে বিষের হাসি হাসছে I ওদের বিকট সুরের হাসির ধ্বনি আমাদের নির্মল হাসিখুশি মধুর জীবন কে বিকল করে দিয়েছে I ওরা সমাজের নিরীহদের নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসে, তুচ্ছতাচ্ছিল্যর হাসি হাসে I বিপত্তিটার মূল কেন্দ্র বিন্দু যেখানে রয়েছে সেদিকে আমাদের মস্তিষ্কের ভাবনা আর ডানা মেলে না I ওদের কার্যকলাপ আমরা মেনে নিচ্ছি কিন্তু মনে নিতে পারছি না I আমার আপনার জীবনের একটি মূল্যবান উপহার “হাসি ” ! হাসি হচ্ছে এমন একটা মূল্যবান উপহার যেটা সর্বোত্তম উপহার হিসেবে আমরা যেকোনো সময় যে কাউকে দিতে পারি ! যে হাসির কল্যাণে আমরা জয় করতে পারতাম আমাদের সোনার হরিণ, যে হাসির কল্যাণে আমরা একে অপরের সাথে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা দেখাতে পারতাম, যে হাসির শক্তিতে আমাদের হৃদয় কে প্রশস্ত করতে পারতাম, প্রশান্তি বইয়ে দিতে পারতাম, একে অন্যের সঙ্গে সহমর্মিতা, মনোবল , মমত্তবোধ তৈরি করতে পারতাম সে নির্মল হাসি মনের অজান্তেই আমরা আর হাসি না !

আমাদের হাসি ও এখন চোখের জলের মতো শুকিয়ে গেছে !যে হাসি আমাকে আপনাকে সঠিক পথে রাখতে পারতো, যে হাসি আমার আপনার ঘর, পরিজন,পরিবার এবং আমাদের বিশ্ব কে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারতো ,সে হাসি আজ আমরা নিজেরাই ভুলে গেছি, আমরা হারিয়ে ফেলেছি ! বাংলাদেশ বলুন আর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বলুন, সব দেশের মোটামুটি একই চিত্র, সকল স্তরের সর্বসাধারণ এর ঠোঁটের কোণে সমানতালে হাসির দুর্ভিক্ষ চলছে !পাশ্চাত্যের মেঘা সিটি গুলির সন্ধ্যায় তো রীতিমত চড়া মূল্য টিকেট কেটে, হাসি দেখতে মানুষের ঢল নামে I নিজেকে হাসানোর জন্যে হাসি ক্লাবে এখন মানুষ ভর্তি হতে চায় I এখন এর সদস্যদের সংখ্যা তালিকা বেশ দীর্ঘ I মনে পরে কি বন্ধুরা ,আমাদের প্রথম তারুণ্যের কথা !তারুণ্যের শুরুতে, যে হাসিতে আমরা খুঁজে পেতাম আমাদের আশ্রয়, আমাদের ভালবাসা I যে প্রিয় মানুষের মুখের মিষ্টি হাসি আমাদের দিনটাকে করে তুলতো আরো রঙিন I সেই মিষ্টি হাসি আজকের তারুণ্যরা দেখেইনি I

মনে পরে একদা একসময় ওই দূর দিগন্তে দূর আকাশের “মেঘ পরীরা” মুচকি হাসলেই আমাদের সারা তনূমন আর হৃদয়ের শাখায় শাখায় রঙিন ফুল ফুটতো, আমাদের স্বপ্নরা মশগুল হয়ে যেতো ! ঘুম ঘোরের “মনোহর” সুখের সাগরে সাঁতার কাটতে কাটতে সারা শরীরের সর্বত্র এক আবেশ বইয়ে দিতো I মেঘ পরীর দেশের পরীরা যখন নেমে আসতো আমার, আপনার উঠোনে, কি অপরূপ ঝর ঝর অঝর ধারায় আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরতো ! ওদের মিষ্টি হাসিতে আমাদের মনে দক্ষিণা বাতাস বইয়ে যেতো I অদ্ভুত সুন্দর উত্তেজনার এক শিহরণ সারা শরীরে জাগিয়ে তুলতো I মনে পড়ে কি বন্ধুরা, আমার ও আমাদের প্রথম প্রেমের সূত্রপাত তো সেই গোলাপী ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা মিষ্টি হাসি দিয়েই I তাই নয় কি ?

জীবনের ঘানি টানতে টানতে, ঘামে চুপষে যাওয়া জীবনে, বেদনা আর অশ্রু জলের মধ্যে দিয়ে লড়াই করতে করতে টিকে থাকা বর্তমানের এই আমি, আপনি, আমরা আজ ক্লান্ত, ভারাক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়া এক “অসহায় নাবিক I “বর্তমানের এই আমিকে “আমি” নিজেই মাঝে মাঝে “হাসি ক্লাবের” মনোরম পরিবেশের মধ্যে, “মেঘের দেশের মনের বাড়িতে” বসে প্রশ্ন করি, কোথায় হারালো আমাদের অকৃত্রিম সেই মিষ্টি অমলিন হাসি I আমাদের জীবন আজ বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন ! পেয়ে হারানোর বেদনায় আমরা পুরে চলেছি সারাক্ষণ I ফিরিয়ে দাও আমার সেই অমলিন হাসি, ফিরিয়ে দাও !

আমি যেহেতু আজ তাদের কথাই বলতে এসেছি সেই রক্তচোষা “ছারপোকারা” এর জন্যে দায়ী I সেই রক্তচোষারা আমার, আপনার চোখে “অপটিক্যাল ইলিউশন” এমন ভাবে সাজিয়ে রেখেছে যা আমাদের চোখ কে ধাঁধা লাগিয়ে মনকে বিভ্রান্ত করে রেখেছে I যা কিনা প্রতিনিয়ত আমরা অনেক কিছু ভালো করে দেখার পর ও এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় I ওদের লাফালাফি, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যর হাসাহাসি আর অহংকার এর কারণে, লাফালাফি আর হাসাহাসি ক্লাবের উত্তম বিকল্প পন্থা আর কি হতে পারে I

আমাদের মধ্যে কেউ ডাক্তার হয়েছি কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ উকিল, কেউ দোকানদার ,কেউ মাস্টার, কেউ মন্ত্রী, কেউবা শিল্পপতি এটা সেটা আরো কতো কি I কিন্তু যারা কিছুই হতে পারেনি তাঁরা কি এই সমাজের নোংরা পঁচা কীট ? এই কীটরা কি এই পৃথিবীর বুকে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ নক্ষত্রের নীচে স্থান পায়নি I লক্ষ কোটি প্রাণের মাঝে তার ও তো অবস্থান রয়েছে এই গ্রহের বুকে !তাঁরা কি এই পৃথিবীর অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছে না ? তাদের জন্যে আকাশ থেকে ঝাঁপিয়ে পরছে নিয়মিত , নিয়ামতের ভান্ডার ! যেটা আমি, আপনি, আমরা আর ছারপোকারা টের ও পাচ্ছি না I কারণ আমাদের চোখের আলোয় রয়েছে “অপটিকেল ইলিউশন” !না হলে ওরা কি রকম ভাবে বেঁচে আছে টিকে আছে I পদবী বা সার্টিফিকেট,হরিলুট, চুরি, ডাকাতি ছাড়াই ওরা ওদের জীবন যাপন করে যাচ্ছে দিব্যি I

আমাদের মধ্যে যারা ডাক্তার হয়েছে, আসলে তাদের কথা ছিল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় বা আয়া হওয়ার, যে উকিল হয়েছে সে মুহূরি হওয়ার ও যোগ্যতা রাখে না I যে মাস্টার হয়েছে তার কথা ছিল স্কুল কলেজের দারোয়ান বা ক্লিনার হওয়ার ,আর যে শিল্পপতি হয়েছে ,তার তো পথের শেষে অবশেষে উলঙ্গ হয়ে “নুনূ “দেখিয়ে নোংটা হয়ে চলার কথা I কারণ ওরা নিজেরা একেকজন চুরি বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ এবং সার্টিফিকেট এর শিক্ষায় শিক্ষিত, জ্ঞানের আলোকে শিক্ষিত নয় I

অহংকারী পেশাদার বা পদবী ওয়ালাদের কিসের এতো অহংকার ? পদবী গুলো কি চিরকালের জন্য স্থায়ী এই অস্থায়ী পৃথিবীতে I দিন শেষে, পথের ও শেষে অবশেষে ওরা ও মানুষ, আমরা ও মানুষ !আমাদের শৌচাগারে যেতে হয় ওদের ও যেতে হয় I তফাৎ শুধু পরিচ্ছন্ন আর অপরিচ্ছন্নতার I ওরা শৌচকর্ম করে আমাদের ও তাই, নাকি আমাদের শৌচ কর্মকান্ড টা অটোমেটিক ডিজিটাল ? সবাই কে পরিচ্ছন্ন তো হতেই হয়, তাই নয় কি I তাহলে কিসের এতো অহংকার I

সিলেটি ভাষায় একটা জনপ্রিয় প্রবাদ আছে ” কম পানির মাছ বেশ পানিত আইলে বেশি ফাল মারে ” I কথাটা একদম ওদের জন্যেই প্রযোজ্য I কারণ ওদের স্ট্যান্ডার্ড যেখানে থাকার কথা ছিলো, সেখানে ওরা অবস্থান না করে ওরা আমাদের সঙ্গে বসবাস করতে এসে, খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না, তাই শুধু তরপাতে বা লাফাতে ব্যস্ত I কারণ একজন মানুষের যোগ্যতা অনুযায়ী তার জন্যে নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে সে যখন আবাসন বা অবস্থান করবে ,তখনই নাটকীয় মোড় নেয় জীবন I সমাজের সর্বত্র দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা I যাদের ভিতরে বা মগজে, “মামলত” যত কম, তাদের ফুটানির মাত্রা তত বেশি I আসলেই ভরা কলস বাজে কম I

আমি এখন আমার শেষ যে কথাটা বলতে এসেছি, তা হলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু কিছু অভিশপ্ত পরিবারের একটা ঘৃণ্য চর্চা , লালন বা অহংকার ও বলতে পারেন, যা তাঁরা এখনো চর্চা করে এবং আঁকড়ে ধরে আছে Iপৃথিবী বদলে গেছে কিন্তু ওরা এখনো বদলে যায় নি I ওদের কার্যকলাপ ও মন মানসিকতা এখনো সেই বর্বর যুগে বসবাস করছে I আমি তার বাস্তুচ্যুত বা মূলোৎপাটন করতে চাই,এবং তার ভিতরের ছিন্নমূল শেকর কে সমূলে উৎপাটিত করতে চাই I আমার মনে হয় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তেমন হয়নি I আমি তো এখনো অপেক্ষায় এ প্রসঙ্গের লেখা বা আলোচনার!যদি কেউ এ প্রসঙ্গে লেখালেখি করে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই I এই উপমহাদেশে বংশ পদবী নিয়ে অহংকার,বরাই বা লড়াই নতুন কিছু নয় I পদবী অহংকার নিয়ে আমাদের মধ্যেঅনেকেরই শ্লাঘনীয়তার শেষ নেই Iআবার বিশেষ বিশেষ কিছু পদবীর প্রতি বিদ্বেষ বা শ্লাঘার ও শেষ নেই I পদবীর আরেকটা নাম উপাধি বা উপনাম ও বলতে পারেন, আমরা বিদেশের সর্বত্র “সারনেম” বলি !

প্রতিটি দপ্তরের সকল কাজে সারনেমের বাধ্যতামূলক ছড়াছড়ি I বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সবাই একে অন্যের সঙ্গে আমরা সারনেম নিয়ে ডাকাডাকি করি, যেমন ওরা আমায় বলে মি: চৌধুরী I আমার পঁচিশ বছরের বিদেশ জীবনে ওদের মধ্যে ওদের পদবী বা উপাধি কিংবা সারনেম নিয়ে কখনো কোথাও অহংকার বা মাতামাতি করতে দেখিনি !কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে কিছু কিছু পরিবারের ভিতরে এই হাস্যকর উপাধি নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই I সেই ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি বিশেষ করে বিয়ের সম্বন্ধ আসার পর শুরু হয় কে খাঁটি চৌধুরী কে লাগানো চৌধুরী, কে তালুকদার, কে মাইমল কে কিরান , কমজাত বেশ জাত, আমি জমিদার তুমি রাইঅত ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কতো কি !এখনকার প্রজন্ম তো এসব জানেই না, মানবে কি ! ওরা কমজাত , বেশ জাত, মাইমল , কিরান বিয়ে করছে নির্দ্বিধায় এবং অভিভাবকদের ভালো করে চপেটাঘাত করছে! আমার পরিবারের বাবা চাচার ভিতরে কখনো তা নিয়ে বেশি মাতামাতি ভ্রুক্ষেপ হতে দেখিনি I

বাঙালি সমাজে সেই সেন রাজবংশ হতে সেন পদবী দিয়ে শুরু হয় অন্ধকার কালো উপাধি,পদবী প্রথা I তারপর ব্রিটিশরা এসে ষোলোকলা পূর্ন করে I সেই সময়ের অত্যাচারী ,নির্মম এবং নিষ্ঠুর ব্যাক্তি যারা ব্রিটিশদের খুব ভালো করে পদলেহন করতে পারতো, দালালি করতে পারতো তাদের তাঁরা ডেকে ডেকে পদবী প্রদান করতো I ব্রিটিশদেরকে কে কতটুকু তেল বেশি দিতো তার উপর নির্ভর করতো পদবী বিতরণ এর মানদণ্ড Iঠিক যেনো বর্তমানের শাসকদের স্টাইল I চোর, ডাকাত,বাটপারের জয় জয়কার I কে কিভাবে শাসকদের বাইপাস সার্জারি করবে তার উপর নির্ভর করে ভুয়া সম্মান প্রদান এবং সম্মাননা প্রদান I জন্ম দিয়ে নয়, কর্ম দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান ,এই আদর্শটি বেশির ভাগ শাসকদের মধ্যে কোন কালেই ছিলো না I ভালো করে তেল মারার উপর নির্ভর করতো সবকিছুই I আসলে যারা চৌধুরী,তালুকদার ইত্যাদির পদবীর অহংকার করে, তাঁরা এককালে দালাল ছিলো কিংবা হয়তোবা লাটিয়াল বাহিনীর নির্যাতন কমিটির সদস্য ছিলো !আর যারা জমিদারির অহংকার করে আমি নিশ্চিত তাদের আগের পুরুষরা ছিলো, শরাবখোর, পতিতা প্রেমিক এবং নির্লজ্জ ,নিষ্ঠুর অত্যাচারী উন্মাদ এবং উদ্ভ্রান্ত পুরুষ ! তা ছাড়া আর কিছু নয় বৈকি I সেই পদবী প্রেমিক অত্যাচারী জমিদার, চৌধুরী, সৈয়দ, তালুকদার ইত্যাদি উদ্ভ্রান্ত পুরুষরা কি নির্যাতনই না করেছিল, আগের যুগের নিরীহ সৎ সাধারণ মানুষদের উপর ! যা আমরা না দেখলে ও কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করলেই যেনো ঠিক বুঝতে পারি সকলেই, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে I

যারা কখনো কোথাও , অহংকার, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যর হাসি এবং পদবী উপাধি নিয়ে ভাব দেখাননি কিংবা কোন কালেই ভাব দেখাননি এবং ভবিষ্যতেও দেখাবেন না, তাঁদের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও গভীর ভালবাসা I সবাই প্রাণবন্ত থাকুন I প্রাণ খুলে হাসুন, মন খুলে হাসুন এবং অন্যের জীবন কে হাস্যরস দিয়ে ভরিয়ে তুলুন I নিশ্চয়ই আপনার সুন্দর হাসি আপনার সেরা সৌন্দর্য ! মনে রাখবেন, আপনার সুন্দর হাসিইনির্মূল করতে পারে বিষের হাসি কে I

লেখক : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মন্টিয়ল, কানাডা