স্বপ্নের কানাডায় এসে দুঃস্বপ্নে শতাধিক বাংলাদেশি

দীন ইসলাম: অনেক স্বপ্ন নিয়ে কানাডায় এসেছিলেন মিনহাজ (ছদ্মনাম)।
ইচ্ছা ছিল নিজে স্থায়ী হবেন। স্ত্রী ও সন্তানদের স্থায়ী করবেন। সন্তানরা
উচ্চ শিক্ষিত হয়ে কানাডায় বড় পদে চাকুরি করবেন। কিন্তু তার আশায়
গুড়েবালি। নয় বছর ধরে নিজের টানাহেঁচড়া জীবন নিয়ে মানসিকভাবে
ভেঙ্গে পড়েছেন। এখন কি করবেন তার কুল কিনারা করতে পারছেন না।
কারন কানাডার জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে দেশে স্ত্রী
ও সন্তানদের আহাজারি মানতে কষ্ট হয়। এজন্য সব কিছু ছেড়ে কানাডা
থেকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু বাংলাদেশে বিরোধী
মতের রাজনীতি করার কারনে মামলার খড়গ রয়েছে তার উপর।
সরকারি দলের কিছু নেতা তাকে ফলো করে। এজন্য তল্পিতল্পাসহ
বাংলাদেশে চলে যাওয়ার চিন্তা করতে সাহস পান না। মিনহাজের মতো
আরও শতাধিক বাংলাদেশি অনেক স্বপ্ন নিয়ে কানাডায় এসেছিলেন।
‘রিফিউজি ক্লেমেন্ট’ হিসেবে আশ্রয় চেয়েছিলেন কানাডা সরকারের কাছে।
অনেকে রিফিউজি বোর্ডের শুনানীতে জিতে ‘প্রোটেক্টেট পার্সন-এর মযাদা
পান। এরপর‘প্রোটেক্টট পার্সন হিসেবে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট (পিআর) এর
জন্য আবেদনও করেন। কিন্তু তাদের জানিয়ে দেয়া হয়, আপনাদের
পার্মানেন্ট রেসিডেন্স দেওয়া যাবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কানাডার
টরেন্টো ও মন্ট্রিল শহরে এমন ভূক্তভোগীর সংখ্যা বেশি। টরেন্টো ও
মন্ট্রিলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগী ১০ জনের সঙ্গে আলাপ করে
জানা গেছে ভয়ঙ্কর চিত্র। টরেন্টোতে বসবাসকারি এক ভূক্তভোগী
বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সিলেট অঞ্চলের নেতা ছিলেন। ওই
ভূক্তভোগী দুঃখ করে ভোরের আলোকে জানান, কানাডা আসার পর নিজের
সত্য জীবনের কথা উল্লেখ করে রিফিউজি ক্লেইম করি। কিন্তু শুনানীর
আগে আমাকে জানানো হয় তুমি ছাড়া শুধু তোমার পরিবারের শুনানী
নেওয়া যাবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের শুনানী
হয়। তারা রিফিউজি ক্লেইমে উইন করে। পিআরের আবেদন করার পর
পিআর কার্ড্ও পেয়েছে। এখন কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায়

আছেন। কিন্তু আমার অবস্থা কি দেখেন। আমার আবেদন রিফিউজি
হেয়ারিং, আপীল ও ফেডারেল কোর্টে রিজেক্ট হওয়ার পর এখন মানবিক
বিবেচনায় পিআর কার্ডের জন্য ঘরছি। প্রতি মাসে মিসিসাগায় হাজিরা
দিতে যাই। এটা কি জীবন? অন্যদিকে আরও কয়েক জন ভূক্তভোগী
আছেন যারা প্রোটেক্টেট পার্সন হলেও তাদেরকে পিআর দেয়া হচ্ছে না।
তারা শঙ্কায় আছেন, প্রোটেক্টেট পার্সন হিসেবেই তাদের কানাডায় আজীবন
থাকতে হবে। নিজ দেশে একবার ফিরে গেলে আর কানাডায় ঢুকতে
পারবেন না। টরেন্টোর ডেনফোর্থ এলাকায় বাস করেন হালিম (ছদ্মনাম)।
তিনি নিজের এক সন্তানের মুখ এখনও দেখতে পারেননি। তিনি ভোরের
আলোকে জানান, যৌবনে এসেছিলাম কানাডায়। এখন দিন দিন দ্রুত বৃদ্ধ
হয়ে যাচ্ছি। চিন্তায় ঘুম আসে না। ফোন করে স্ত্রী ও সন্তানরা কান্নাকাটি
করে। কিন্তু কি করবো বলুন। দেশে গিয়ে কি নিজের জীবনটাকে বিলিয়ে
দেব। তার চেয়ে ভাল অসুখ বিসুখ নিয়ে কানাডায়ই থাকি। তিনি বলেন,
সুস্থভাবে বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম। এখন শরীরে নানা অসুখ বাসা বেধেছে।
হার্টের অসুখ ভোগাচ্ছে। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। ভোরের আলোর
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে
রিফিউজি ক্লেইম করার কারনে অনেকেই ধুকছেঁন। বাংলাদেশে নিজের
পরিবারের কাছে তার পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায় এমন আশঙ্কায় নিজের
স্ট্যাটাসের কথা বলতে চান না।
কানাডার ইমিগ্রেশন নিয়ে ভূক্তভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে
চাইলে ৬৪৭৭৬৫০৫৫২ নাম্বারে বা [email protected] এই ই-মেইলে
যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার নাম, পরিচয় গোপন রাখা হবে।