“অবিভক্ত বাংলার তিন মুসলিম প্রধানমন্ত্রীর অবদান এবং তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য।”

মাহবুবুর রব চৌধুরী, টরেন্টো

১৯৩৫ সালে The Government of India Act 1935, অনুযায়ী The Bengal Legislative Assembly- গঠিত হবার ভিত্তি তৈরী হয়। এই ঘোষণাটি ছিল ঐতিহাসিক এবং তাৎপর্য পূর্ন ।
ইংরেজ সরকারের জন্য এটি ছিল তৎ কালীন রাজনৈতিক অচল অবস্থা নিজ কতৃত্বতের মাঝে রেখেই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ এবং কুইট ইন্ডিয়া ও লড় কে লেঙে পাকিস্তান আন্দলনের সর্বত্তোম জবাব। একটি এসিড টেস্ট। একই সঙ্গে ওই সময়কার উত্তপ্ত জার্মান এবং নয়া ইউরোপ পরিস্থিতির মোকাবেলায় নিজ পক্ষে -আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখা।
মুসলিম লীগের জন্য এটি ছিল মন্দের ভালো। মুসলিম মেজরিটি বাংলায় মুসলিম মেজরিটির প্রকৃত প্রভাব শো করবার একটি সুযোগ। একই সাথে ইংরেজ নীতি ও কূটনীতির আলগা প্রেমের প্রকৃত অর্থ- কংগ্রেসকে দেখিয়ে দেবার মোক্ষম সময়। মুসলিম লীগ নেতৃত্ব অত্যান্ত বুদ্ধি মত্তার সাথে , পূর্ণ দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের রাজনীতির পক্ষে ফলাফল তুলে নিতে পেরেছিল। আর কংগ্রেসের জন্য এটি ছিল শাঁখের করাত বা দুধারী তলোয়ার। আসতেও কাটে আবার যেতেও। নাখেলেও পস্তান আবার খেলেও। হল উভয় সংকট। ঘটনাটির জন্য নেচারাল ইংরেজ খোশ ইন্ডিয়ান কংগ্রেস , বঙ্গ ভঙ্গের পর দ্বিতীয় বারের জন্য ইংরেজের প্রতি হল নাখোশ ।
পলাশীর পর হিন্দু নেতৃত্বের মূল অংশ, শত অপবাদ ও চক্ষু লজ্জা দূরে ঠেলে ইংরেজের সাথে দীর্ঘ দিনের মিতালীর যে সংম্পক্ র্গড়ে তুলেছিল সেখানে সন্দেহের চিড় ধরে। শেষ মেশ তাদের অভিমান করে নির্বাচন বর্জন। আশা থাকল এতে যদি ফাইনাল রাউন্ডে ঝুলিতে এক্সট্রা কিছু মেলে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দলীয় মার্কা না থাকলেও তাদের ভোট ণ্ডলি কিন্তু চলে যায় শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির , হিন্দু মহাসভার পক্ষে।
১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচনে শেরে এ বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং তার কৃষক প্রজা পার্টি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সহযোগিতায় সহজেই সরকার গঠন করেন। এবং শেরে এ বাংলা নিজেই হন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধান মন্ত্রী । ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ এই দশ বছর অবিভক্ত বাংলায় বা যুক্ত বাংলায় যে তিন জন প্রধান মন্ত্রী হন। তারা তিন জনই ছিলেন মুসলমান। এই ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এবং চিন্তা ভাবনার আনে নুতন বিন্যাস। মেলাতে হয় নুতন ভাবে রাজনীতির ছক। যেটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ইন্ডিয়া বিভক্তির পূর্ব পর্যন্ত চালু ছিল। এই ঘটনাটি বাংলার রাজনীতিতে রেখে যায় স্থায়ী ছাপ।
ক্ষমতার প্রথম চার বছর পর মুসলিম লীগ নিজ দলীয় হিসাব মত- কৃষক প্রজা পার্টি র উপর থেকে তাদের সমর্থন তুলে নেন। এটি ছিল রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। আর তা ছিল মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবির পক্ষে নিজ শক্তি এবং সমর্থনের ভিত্তি শক্ত করবার প্রচেষ্টারই অংশ। এই ধাক্কা সামলাতে এ কে ফজলুল হক তখন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির , হিন্দু মহা সভার সমর্থন নিয়ে সরকারে টিকে যান । এই নুতন কোয়ালিশন টিকেছিল ১৯৪১ থেকে ১৯৪৩ দু বছর।
এরপর মুসলিম লীগ নিজেই সরকার গঠনে তৎপর হয় এবং ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দুই বছর , খাজা নাজিমুদ্দিদের নেতৃত্বে নিজ দলীয় সরকার গঠিন করে । অল রেডি তখন ইউরোপে শুরু হয়ে গেছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ডামাডোল। স্বার্থ পর ব্রিটিশের ভুল এবং ত্রুটি পূর্ন খাদ্য নীতির কারনে এ সময় বাংলায় প্রচন্ড খাদ্য ঘাটতি ও দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয় এই প্রচন্ড দুর্ভিক্ষ কালীন সময় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল- দুই বছর , খাজা নাজিমুদ্দিদের নেতৃত্বে গঠিত মুসলিম লীগ সরকার শত চেষ্টাতেও পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারেনি । নুতন সরকারের জন্য এটিই ছিল সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। হঠাৎ করেই ইংরেজ এই সময় এক বছর গভর্নরের ডাইরেক্ট শাসন জারি করে। অতঃপর ২৩ শে , এপ্রিল’ ১৯৪৬ – হোসেন শহীদ সুহরাওয়ার্দির নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পুনরায় মেজরিটি আসন নিয়ে একক ভাবে শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসে। দুর্ভিক্ষ কালীন সময় মুসলিম লীগ সরকার ও দলের প্রচেষ্টা ও কর্মের প্রতি কৃতজ্ঞতার ফল জনগনের নিকট থেকে তারা হাতে হাতেই পেয়ে ছিলেন। এবং এটি ১৯৪৭ এর ১৪ আগস্ট ভারত ভাগ পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় ছিল।
অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধান মন্ত্রী:
শেরে এ বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। তিনি কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র ছিলেন।
জন দরদী, কৃষক, প্রজার জনপ্রিয় নেতা। তার জীবনী কথা গল্পের মত সারা বাংলায় ছড়িয়ে আছে। অল্প কথায় যা বলে শেষ করবার নয়। তার কীর্তি বাংলার চারিদিকে। ১৯৩৭ সালের মার্চে অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি নিয়ে তিনি নির্বাচন করেন।
এই নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৯টি আসন ও মুসলিম লীগ ৩৮ টি আসন লাভ করে। নির্বাচন শেষে- মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে এ. কে. ফজলুল হক ১১ সদস্য বিশিষ্ট যুক্ত মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। মন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন কৃষক প্রজা পার্টির, তিন জন মুসলিম লীগের, তিন জন বর্ণ হিন্দুর এবং দুই জন তফসিলি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রী পরিষদ গভর্নর এন্ডারসনের কাছে শপথ গ্রহণ করেন।
মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান আন্দলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক:
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স আহবান করেন। এই সম্মেলন উপলক্ষে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ নিজে এবং যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন নবাব ভিকারুল মুলক এবংশেরে এ বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। ঢাকার আহসান মঞ্জিলে -এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবং এই কনফারেন্সে নবাব সলিমুল্লাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অবশেষে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগে গঠিত হয় । ১৯১২ সালে এ. কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন। কিন্তু এই সংগঠনের সাথে সাংগঠনিক বিষয়ে তার বিরোধ হয়। ১৯১৪ সালের ঢাকার আহসান-উল্লাহ-ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল বর্তমানে বুয়েট প্রাঙ্গণে মুসলিম লীগের প্রাদেশিক বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে এ. কে. ফজলুল হক প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯১৮ সালে দিল্লীতে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাঙালিদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯১৯ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট পদ লাভ করেন।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর সভাপতিত্বে মুসলিম লীগের পক্ষ হতে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পাশ হয়। প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন এ. কে. ফজলুল হক। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি জানিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবনা।। এই লাহোর প্রস্তাবই পরবর্তীকালে পাকিস্তান প্রস্তাব আখ্যায়িত হয়.
তিনি জীবনে অনেক রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠান করেছেন, তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল শুক্রবার এ. কে. ফজলুল হক ঢাকায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।
খাজা নাজিমুদ্দীন: খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯ সে জুলাই ১৮৯৪ সনে ঢাকায় নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার পিতা খাজা নিজামউদ্দীন এবং মাতা নওয়াবজাদী বিলকিস বানু। খাজা ফখরউদ্দীন তার পিতামহ ও নওয়াব খাজা আহসানুল্লাহ ছিলেন তার মাতামহ। ছাত্র জীবনে তিনি ইংল্যান্ডের ডানস্টাবল গ্রামার স্কুল, ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি এবং ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করেছিলেন। মুসলিম লীগ রাজনীতির পথ ধরে তিনি বাংলার রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯২২ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মিউনিসিপালটির চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রাদেশিক রাজনীতিতে নাজিমুদ্দিন প্রথমে বাংলার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি পূর্ব বাংলা মুসলিম লীগের সভাপতিও হয়েছিলেন।
অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরে এ বাংলা এ কে ফজলুল হকের পর তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ অবিভক্ত বাংলার ২য় প্রধান মন্ত্রী হন। ১৯৪৮ সনে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর মৃত্যুর পর তিনি পাকিস্তানের ২য় গভর্নর জেনারেল হন। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান ১৯৫১ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হবার পর খাজা নাজিমুদ্দিন হন পাকিস্তানের ২য় প্রধানমন্ত্রী।
জীবনে তিনি অনেক উচ্চ সন্মানীয় পদ অলংকৃত করেছেন। তবে সমস্যা এবং দুর্ভাগ্যকখনই তার পিছু ছাড়েনি। জন সংশ্লিষ্ঠ থেকেও জনপ্রিয়তা তার সংগ দেয় নি। তার ক্ষমতার আমলে বাংলা দুর্ভিক্ষ কবলিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাংলা ভাষার জন্য ছাত্রদের রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছে। আর ১৯৫৩ সনে পাঞ্জাবের লাহোরে রক্তাক্ত ধর্মীয় দাঙ্গার ফলে সেখানে জারি করতে হয়েছে হয়েছে মার্শাল ল’ । মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর হটাৎ মৃত্যুর পর এবং লিয়াকত আলি খানের হত্যার পর তাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। আর তুলে নিতে হয়েছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। অভন্তরীন এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখেই তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৯৬৪ সালের ২২ অক্টোবর ঢাকাতেই তিনি ৭০ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।
ব্যক্তি জীবনে কনজারভেটিভ আদর্শের অনুসারী এবং রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন হওয়ায় তিনি ইচ্ছা থাকলেও প্রগতিবাদী চিন্তার সাথে সহজে তাল মিলাতে পারতেন না। তার মাতৃভাষা ছিল উর্দু এবং বাংলা জানলেও তত ভাল জানতেন না। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাবেন বলে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথেতিনি চুক্তি করেন। কিন্তু চাপের মুখে সে চুক্তি বাস্তবায়িত করে যেতে পারেননি । পরবর্তীতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এটি বাস্তবায়িত করেন। শহীদ সাহেব ই উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি দেন। চ্যালেঞ্জের মাঝেও তার রাজনৈতিক কর্ম জীবনের উল্লেখ করবার মত বিষয় ণ্ডলি হল। তাঁর মন্ত্রিত্বকালে প্রাথমিক শিক্ষা বিল পাস হয়। তাঁর বিশেষ উদ্যোগে ১৯৩৫ সালে ‘বঙ্গীয় ঋণ সালিশি বোর্ড’ বিল এবং ১৯৩৬ সালে ‘বঙ্গীয় পল্লী উন্নয়ন বিল’ পাস হয়। বাংলায় মুসলিম লীগকে সংগঠিত করতে এবং সুসংহত রাখতে সফল হন। যেদিন সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ১৯১১ সালে এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দেন। কলকাতায় তাকে সেদিন নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা সভার সভাপতিত্ব করেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ। তার মৃত্যুর পর
তার সম্মানে ঢাকা ও ইসলামাবাদে নাজিমুদ্দিন রোড নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। নাজিমাবাদ নামে করাচিতে আবাসিক শহর গড়ে উঠেছে। এবং পাকিস্তান ডাকবিভাগ তার স্মরণমূলক ডাকটিকেটও প্রকাশ করেছে।তার সময়ই পাকিস্তানের রাজনীতিতে আরো একজন বাঙালি – বাংলার মোহাম্মদ আলী বণ্ডড়া (১৯০৯ – ১৯৬৩) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন ।
অবিভক্ত বাংলার তৃতীয় ও শেষ প্রধান মন্ত্রী। পাকিস্তানের ৫ ম প্রধান মন্ত্রী।
গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় ৮ই সেপ্টেম্বর ১৮৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে গেছেন।
গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শাসনে বিশ্বাসী ও বাস্তববাদী রাজনীতিবিদ হিসেবেই এ দেশের ইতিহাসে তিনি সুপরিচিত।
পাকিস্তান আন্দলোন ও আজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দলনের একজন সফল নেতা। এই উপমহাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি নায়ক। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার ছিল ণ্ডরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।
মহান এই নেতা স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৬৩ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তে মৃত্যু বরণ করেন।
অবিভক্ত বাংলার এই তিন নেতা ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুপরিচিত রাজনীতিবিদ। জাতি গঠনে তারা রেখেছেন তাদের অবদান।
জাতীয় এই তিন নেতার মাজার’ এ ( কবর স্থানে ) নির্মিত স্মৃতিসৌধটি ঢাকার অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। বলা চলে -আধুনিক স্থাপত্য রীতিতে তৈরী এই স্মৃতিসৌধ এদেশের নিজস্ব স্থাপত্য কলার অন্যতম নিদর্শন
ঢাকার শাহবাগে : বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বরের উত্তর পাশে এই স্মৃতিসৌধটি অবস্থিত। স্থপতি মাসুদ আহমেদ এবং এস এ জহিরুদ্দিনের তৈরী নকশায় ১৯৬৩ সালে এটি নির্মিত হয় ।
মাহবুবুর রব চৌধুরী -টরন্টো, কানাডা
সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরন্টো।
(আহবায়ক-২০০০- উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন- ফোবানা টরন্টো- কানাডা।)