প্রবাসীদের দাবি বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-মন্ট্রিয়ল-ঢাকা ফ্লাইটের

মাহমুদুল হাসান রুবেল

গত ২৬ মার্চ ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা রুটে পরীক্ষামূলক সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ। এ ফ্লাইটে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা, ২ জন সংসদ সদস্য ওই ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন। যা নিয়ে দেশে ও বিদেশে আলোচনা এবং সমালোচনা হয়। তবে সবশেষে জাতীয় পতাকাবাহী বিমানটি টরন্টোতে দেখে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভালো লাগে তা ফেইসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দেখে জানা যায়।

জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সূত্রে জানা যায়, বহুল আলোচিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-টরন্টো রুটের ফ্লাইটটি সরাসরি ফ্লাইট হিসেবে পরিচালিত হবে না। এই রুটটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে না বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। ইউরোপ কিংবা এশিয়ার কোন দেশে স্টপওভার পরিকল্পনা করে এগুচ্ছে বিমান কর্তৃপক্ষ।


মন্ট্রিয়লের প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন এ বিষয় নিয়ে ভোরের আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের সাম্প্রতিক ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা রুটের ফ্লাইট নিয়ে আমি বেশ উল্লসিত ছিলাম। কিন্তু যেভাবে ফ্লাইটটি পরিচালিত হল তাতে অনেকটা হতাশ হলাম। বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ট্যাকনিকেল এবং সেলস কোন দিকই ক্লিয়ার না করে হুদাই কয়েকজন ভিআইপি নিয়ে ‘শো-ডাউন’ সূচক যে ফ্লাইটটি সম্পন্ন হলো তাতে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ছাড়া আমি আর কিছু দেখি না। বিমানের টরন্টো ফ্লাইটের প্রাক্কালে এ নিয়ে কোন ‘নেতিবাচক’ মন্তব্য না করার জন্য যখনই একটি স্বপ্রনোদিত বার্তা দেখলাম তাতে পুরো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।’


সিলেট জেলা সমিতির সভাপতি এম এ হাই বলেন, টরন্টোতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী বিমান দেখে খুব ভালো লাগলো। আমাদের অনেক দিনের এ দাবি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। তবে আরো ভালো হতো যদি ঢাকা-মন্ট্রিয়ল-ঢাকা এর ফ্লাইটও থাকতো টরন্টোর পাশাপাশি। এ দিকটা বিবেচনা করা উচিত বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ মন্ট্রিয়ল এর সভাপতি ও সেইমডে এক্সপ্রেস এর স্বত্ত্বাধিকারী রনি মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, টরন্টোর পর মন্ট্রিয়লে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী থাকেন। আমরা মন্ট্রিয়লবাসী প্রথম দিকে মাসে অন্তত একটি ফ্লাইট মন্ট্রিয়ল থেকে আশা করতেই পারি। যা পরবর্তীতে বাড়ানো যেতে পারে।

বেদান্ত সোসাইটি অব মন্ট্রিয়লের সাধারন সম্পাদক শক্তিব্রত হালদার মানু বলেন, বাংলাদেশ বিমানের টরন্টো-ঢাকা ফ্লাইটের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ যদি টরন্টোর পাশাপাশি মন্ট্রিয়ল থেকে সপ্তাহে একটি কিংবা মাসে দুইটি ফ্লাইট পরিচালনা করে তবে এ রুটটি ব্যাপক জনপ্রিয় হবে বলে আমার বিশ্বাস। মন্ট্রিয়ল থেকে পরিচালনা করলে অটোয়ার পাশাপাশি নভো স্কশিয়া, নিউ ব্রান্সউইক এবং নিউ ফাউন্ডল্যান্ড এর প্রবাসীরা সহজেই এ ফ্লাইটটি ব্যবহার করতে পারবেন।

মন্ট্রিয়লের ফ্লাই অন ট্রাভেল্স এর সত্ত্বাধিকারী নূর তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, বিমান ল্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে টরন্টোর পিয়ারসন এয়ারপোর্ট বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল একটি এয়ারপোর্ট। প্রতি ১০০০ কেজির ল্যান্ডিং ফি হচ্ছে ১৭.৭১ ডলার। অন্যদিকে মন্ট্রিয়লের পি.ই ট্রুডো এয়ারপোর্টের ল্যান্ডিং ফি হচ্ছে প্রতি ১০০০ কেজির জন্য ১০.৮১ ডলার। পাশাপাশি আমরা যদি দেখি কাতার এয়ারওয়েজের ব্যাপারটা। তারা বলা যায় একতরফা ব্যবসা করে যাচ্ছে কেবলমাত্র মন্ট্রিয়ল থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে। আকাশ পথের দূরত্বের দিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকা থেকে টরন্টোর দূরত্ব ১২৪৫৯ কি.মি এবং মন্ট্রিয়লের দূরত্ব হচ্ছে ১২১৫২ কি.মি। এসব সমীকরণ থেকে মন্ট্রিয়ল থেকে বিমান সাপ্তাহিক কিংবা পাক্ষিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। আর যদি বাংলাদেশ বিমান মধ্যপ্রাচ্যের কোন শহরে স্টপওভার করে তবে এ রুটটি ব্যবসা সফল হবে বলে আমার বিশ্বাস।


অটোয়া প্রবাসী শামসুন নাহার শিমু আক্ষেপ করে বলেন, ‘মন্ট্রিয়ল থেকে যদি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট থাকতো, তবে আমরা অটোয়াবাসী দেড় দুই ঘন্টা ড্রাইভ করে সরাসরি সহজেই বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে পারতাম নিজেদের বিমানে করে।’


বাংলাদেশ বিমানের কানাডা থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের যেহেতু আরো কয়েক মাস পর শুরু হবে, তাই টরন্টোর পাশাপাশি মন্ট্রিয়ল থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করার বিষয়টি বিমান কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারেন। কানাডিয়ান বাংলাদেশীদের একটাই চাওয়া বাংলাদেশ বিমান যেন এ রুটে ব্যবসা করতে পারে এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। এ রুটটি যেন নিউইয়র্কের মতো বন্ধ না হয়।