খালেদা জিয়ার সম্মাননা ও কিছু তথ্য

দ্বীন ইসলাম: বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক শান্তিতে অবদান রাখার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসি ও ডেমোক্রেসি হিরো এওয়ার্ড প্রদান করেছে কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস্ ইন্টারন্যাশনাল ওরগেনাইজেনশন। এওয়ার্ডটি ২০১৮ সালে প্রদান করলেও বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী ও অসুস্থতা এবং করোনা মহামারীর কারণে দেরীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরস্কারের বিষয়টি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশ করেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

এওয়ার্ড প্রদানকারী সংস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস্ ইন্টারন্যাশনাল ওরগেনাইজেশন (CHRIO) একটি অলাভজনক চ্যারিটেবল সংগঠন। সংগঠনটি পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাশ্রমে গত প্রায় ২০ বৎসর যাবৎ পরিচালিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য যে, কানাডার আইন অনুযায়ী চ্যারিটেবল সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সেজন্য কানাডিয়ানরা চ্যারিটেবল সংগঠনের কার্যক্রমকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে থাকে।


সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মারিও গলম্বো জানান, CHRIO উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি সহ মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে থাকে। এই সংগঠন তাদের টরেন্টোর অফিস থেকে ফুড ব্যাংক, মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট, স্টুডেন্ট প্লেসমেন্ট সার্ভিস, ইয়থ ট্রেনিং প্রোগ্রাম, নিউ কামার স্যাটেলম্যান্ট, কমিউনিটি সার্ভিস, পার্ডন এন্ড ওয়েভার সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে।
সরজমিনে প্রতিষ্ঠানে ১৭২৫ ফিঞ্চ এভিনিউর কার্যালয়ে গেলে দেখা যায়, ওয়ালমার্টের মালবাহী ট্রাক থেকে খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী নামাচ্ছেন সংগঠনের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। এ সময় ফুড ব্যাংক থেকে খাবার নিতে কয়েকটি পরিবারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অফিস ঢুকার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সনদ, কানাডার জাতীয় পতাকা সহ বিভিন্ন পতাকা দেয়ালে টানানো অবস্থায় দেখা যায়। রিসিপশনের সামনেই প্রেসিডেন্ট ও ডিরেক্টরের রুম তার ডানপাশে রয়েছে সেমিনার রুম, অন্যপাশে রয়েছে দশটি কম্পিউটার নিয়ে সজ্জিত একটি রুম যেখানে বসে কয়েকজন কাজ করছিলেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মারিও বলেন, আমাদের অফিসে সপ্তাহে চারদিন পালা করে ২৫ জন কাজ করে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক হাজার মানবাধিকার কর্মী কাজ করে। মারিও বলেন গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান কানাডায় হারপার সরকারের বিল সি-২৪ বিরুদ্ধেও তারা সোচ্চার ছিলেন।