আড়াই কোটি টাকার চোরাই খুলি কিনে বিপদে পড়েছিলেন তিনি

নিকোলাস কেজ ছবি: রয়টার্স

ভাবনার অতীত কিছু গল্প নিয়ে হলিউড যখন ছবি বানাতে শুরু করে, নিকোলাস কেজ সেই সময় থেকেই অভিনয় শুরু করেন। ধরা যাক ‘দ্য উইকার ম্যান’ বা ‘ফেস অফ’ ছবি দুটির কথা। মুক্তির সময় এ ছবিগুলো রীতিমতো ঘুম কেড়ে নিয়েছিল মানুষের। ‘ঘোস্ট রাইডার’ বা ‘লর্ড অব ওয়ার’–এর মতো ছবিও রয়েছে এই অভিনেতার ঝুলিতে। শতাধিক হলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন নিকোলাস কেজ। এগুলোর মধ্যে কিছু ছবিতে আবার ছিল কণ্ঠাভিনয়। ১৯৯৫ সালের ‘লিভিং লাস ভেগাস’ ছবির জন্য ১৯৯৬ সালে প্রথমবার অস্কার পান তিনি। আজ কেজের ৫৮তম জন্মদিন। বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এত কাজ করে রোজগার করা বিপুল অর্থের খুব কমই নিজের কাছে রাখতে পেরেছেন তিনি। এমনকি সংসারগুলোও বেশি দিন টেকেনি এই অভিনেতার। নানা রকম খামখেয়ালিপনা আর অকারণে পয়সা নষ্ট করার ব্যাপারে দুর্নাম আছে তাঁর। খরুচে স্বভাবের নিকোলাস কেজ এখনো ঋণের জালে জড়িয়ে আছেন। অভিনয় করে রোজগারের টাকা এক হাতে নিয়ে তুলে দেন পাওনাদারের হাতে। ২০১৭ সালের হিসাব অনুসারে কেজ মাত্র আড়াই কোটি ডলারের মালিক! কিন্তু এত টাকা কোথায় খরচ করেন তিনি?

‘রাইজিং আরিজোনা’ ছবিতে কেজ
‘রাইজিং আরিজোনা’ ছবিতে কেজ

বাজে খরচের রাজা নিকোলাস কেজ ২০০৭ সালে এক নিলাম থেকে একটা ডাইনোসরের খুলি কিনে ফেলেন। খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। কিনেই পড়লেন বিপদে। ভদ্রলোকের জানাই ছিল না, সেটি মঙ্গোলিয়া থেকে চুরি গিয়েছিল। চোরাই ডাইনোসরের খুলি কিনে তিনি পড়লেন বিপদে। ২০১৪ সালে মানে মানে জিনিসটা তিনি সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। নিউ অরলেন্সের এক কবরস্থানের একবার দুই টুকরা জায়গা কিনলেন কেজ। ২০১০ সালে একটার ওপর পিরামিড বানিয়ে রেখে দিলেন। কেন? এ নিয়ে কোনো দিন কাউকে কিছু বলেননি তিনি।বিজ্ঞাপন

দ্য লালারে ম্যানসন
দ্য লালারে ম্যানসন

২০০৭ সালে একবার একটা আস্ত বাড়ি কিনে ফেলেছিলেন কেজ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলেন্সের ওই বাড়ির নাম ছিল দ্য লালারে ম্যানসন। ডেলফিনে লালারে নামের এক নারীর বাড়ি ছিল এটি। এই লালারে ছিলেন পৃথিবীর প্রথম নারী সিরিয়াল কিলার। এই বাড়িকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অভিশপ্ত বাড়ি। হলিউড অভিনেতা কেজ বাড়িটি কিনেছিলেন সেখানে বসে একটি ভয়ের উপন্যাস লিখবেন বলে। উপন্যাসটি আদৌ লিখতে পেরেছিলেন কি না, সেটা আর জানা যায়নি। তবে ২০০৯ সালে বাড়িটি তিনি বিক্রিও করে দেন।

রিকো শিবাতা ও নিকোলাস কেজ
রিকো শিবাতা ও নিকোলাস কেজ

কেজ বিয়ে করেছেন মোট পাঁচবার। তাঁর প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী প্যাট্রিসিয়া আর্কেট। এই সংসার স্থায়ী হয় ছয় বছর। দ্বিতীয় স্ত্রী শিল্পী এলভিস প্রিসলির মেয়ে শিল্পী ও গীতিকার লিসা ম্যারি প্রিসলি। কেজ নিজে এলভিস প্রিসলির ভক্ত ছিলেন। ২০০২ সালে বিয়ে করার মাত্র ১০৭ দিন পরই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তৃতীয়বার তিনি বিয়ে করেন ২০০৪ সালে এলিস কিমকে। তাঁর গর্ভেই জন্মে কেজের প্রথম সন্তান। ২০১৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৯ সালে কেজ বিয়ে করেন এরিকা কৈকে নামের এক নারীকে। মার্চে বিয়ে করার পর জুন মাসেই বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানি প্রেমিকা রিকো শিবাতাকে বিয়ে করেন কেজ। শিগগিরই বাবা–মা হতে যাচ্ছেন তাঁরা।