প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বুদ্ধি লোপ পেয়েছে ঃ অমিত শাহ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র মন্তব্য নিয়ে ওয়েব দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক প্রথম বোমা ফাটিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, অমিত শাহ তাকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।

সত্যপালের ওই বক্তব্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও এ নিয়ে সরব হয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো বক্তব্য দেয়নি। মন্তব্য পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) হরিয়ানায় কৃষক সমাজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক প্রথমবার অমিত শাহের ওই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে দাম্ভিক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এরপরই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে হুলুস্থুল পড়ে যায়। অবশ্য সন্ধ্যার দিকেই নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন সত্যপাল।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কৃষক সমাজের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সত্যপাল বলছেন, তিনি কৃষকদের হয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনা তর্কবিতর্কে গড়ায়। কৃষকদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বাঁধে তার। কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত দাম্ভিক বলে মনে হয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, পাঁচশ লোক মারা গেছেন। আপনি তো কুকুর মারা গেলেও চিঠি দেন।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা কি আমার জন্য মারা গেছে? সত্যপাল বলেন, হ্যাঁ। আপনার জন্যই মারা গেছে। কেন না আপনি রাজা।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সত্যপাল দাবি করছেন, দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরে তাকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। অমিত শাহ তাকে তখন প্রধানমন্ত্রীর বুদ্ধি লোপ নিয়ে সেসব বলেন।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, বেশ কিছু দিন ধরেই সত্যপালের কথাবার্তায় অসন্তোষ টের পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের দাবি করলেন। তবে সত্যপালের ওই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই অমিত শাহের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন কথাবার্তা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সত্যপাল।

তিনি বলেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও বিরোধীরা বলছেন, চাপে পড়েই নিজের বক্তব্য অস্বীকার করছেন রাজ্যপাল।