পরীর জলসাঘরে পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদসহ যাদের আনাগোনা

এদেশে রাজা-বাদশাহি গত হয়েছে বহু বছর। কিন্তু হেরেমখানা, জলসাঘর, বাইজীঘর, রংমহল এখনও রয়ে গেছে। অতীতের ইতিহাস স্মরণ করে এসব ঘরে মাতম চলে না। বরং এখনও বেশুমার ফুর্তি চলে। ফুর্তির রসদ সরবরাহ করে অনেকে জীবিকাও নির্বাহ করছেন।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিও তেমন ক্যাটাগরির! তাকে গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এমনটাই জানতে পেরেছে এই প্রতিবেদক।

সূত্র বলছে, ঢাকায় যারা পরীমনিসহ এই সিন্ডিকেটের পার্টি কালচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের মধ্যে অনেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় পার্টিতে অংশ নিতেন। অনেক সময় ধনাঢ্য পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানরা এসব মডেলকে নিয়ে বিদেশে যেতেন। আবার অনেক সময় বিদেশি নাগরিকদের আমন্ত্রণে একটি সিন্ডিকেট বাংলাদেশ থেকে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশের বাইরে নিতেন।

এখন পর্যন্ত ১০ জন শিল্পপতি, পাঁচজন ব্যবসায়ী, একজন ব্যাংকের কর্ণধারসহ ১৭-১৮ জনের একটি সিন্ডিকেট পাওয়া গেছে, যারা নিয়মিত এসব পার্টিতে যেতেন।

গত বুধবার রাতে বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়।

সূত্র বলছে, সিনেমা শুটিংয়ের আড়ালে পরী মূলত প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হতেই বেশি পছন্দ করতেন। রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলে তাকে লাস্যময়ী ভঙ্গিতে দেখা যায়। প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি শেষে মদ্যপ অবস্থায় বের হতেন তিনি।

এছাড়া পরী ধূমপানে অভ্যস্ত (চেইন স্মোকার)। তার ফ্ল্যাটে বিদেশি সিগারেট ও মদের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। বলা যায় ছোটখাটো বার। তার ফ্ল্যাট থেকে রাশিয়ান ভদকা, জিন, টাকিলা, হুইস্কি ও বহু মূল্যবান রেড ওয়াইন উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, কয়েকটি ব্যাংকে পরীর মোটা অঙ্কের টাকা রয়েছে। যার বেশিরভাগই তিনি পেয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে। টাকার নেশা তাকে ছাড়ে না। একপর্যায়ে নাম লেখান পর্নোগ্রাফির নিষিদ্ধ জগতে।

এজন্য পরী তার ঘনিষ্ঠ মডেলদের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তোলেন। উঠতি মডেল এবং চিত্রনায়িকাদের পর্নোছবি তুলে পাঠানো হতো কথিত হাই-প্রোফাইলদের কাছে। তার মাধ্যমে অনেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হন।

পরীর ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আছেন-পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদসহ অনেক প্রভাবশালীর নাম। এদের কেউ কেউ দেশের বাইরে পরীর সঙ্গে ঘুরতে যান। একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাকে হ্যারিয়ার গাড়ি উপহার দেন। চেয়ারম্যানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া পরীর বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

পরীমনিকে গ্ল্যামার জগতে নিয়ে আসেন রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার কথিত চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। সিনেমায় নাম লেখানোর আগে দীর্ঘদিন তার কাছেই থাকতেন পরী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, পরীমনি ছাড়াও বেশ কয়েকজন মডেল-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া পরীমনি পার্টি কালচারেও যুক্ত। তার বাসার গ্যারেজে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। গুলশানে রয়েছে তার একটি ফ্ল্যাটও। এসব গাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার কোনো বৈধ সোর্স দেখাতে পারেননি তিনি।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পরীমনি বিশ্বাস করতেন, ভিন্ন জগতে যাতায়াত করলেও কখনও আটকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করলেও প্রভাবশালী ওই মহল তাকে অভয় দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা পরীমনিকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।