এমপির নির্দেশে পত্রিকা অফিসে হামলা

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহিরের নির্দেশে আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। শাহ আরজুর ডাকা সচেতন নাগরিক সমাজের নামে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে গতকাল সোমবার বেলা ১ টার দিকে চিড়াকান্দিস্থ অফিসে হামলা করে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী। সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয় বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আবু জাহির এমপি’র প্রত্যক্ষ নির্দেশে দুপুর থেকেই জেলা যুবলীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম ও জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মহিবুর রহমান মাহির নেতৃত্বে নোয়াবাদ, শংকরের মুখসহ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার অফিসের প্রবেশদ্বারে আশেপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জড়ো হয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। জড়ো হওয়ার একপর্যায়ে তাদের নেতৃত্বে পত্রিকা অফিসে হামলা করা উদ্দেশ্যে আসতে থাকে তারা। পথিমধ্যে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত’র শ্বশুড়ের বাসায় হামলা চালায়। হামলায় তার শ্বশুড়ের বাসার বিভিন্ন দরজা জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। এমনকি বাসার পানির টেংকি ও পানির পাইপ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় বাসায় থাকা তার বৃদ্ধ শ্বশুড় শ্বাশুড়ি ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আসবাবপত্র ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয় মূল্যবান স্বর্ণালাকার, নগদ টাকা, ব্যাংকের চেকসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। এ সময় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ওই বাসার ছাদের উপর আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তিনি তার লোকদের নিয়ে হামলার মোকাবেলা করেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষ হয়। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আশেপাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫টি হিন্দু বাসা-বাড়িতে হামলা করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আর নিচে থাকা যুবলীগের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা সম্পাদক সুশান্ত দাস গুপ্তকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।অন্যদিকে নোয়াবাদের মুখ হতে হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কলি’র নেতৃত্তে¡ দৈনিক জননী পত্রিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি রাসেল, উৎপল রায়, জেলা যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী সুমন, শেখ নিজাম, মুক্তার হোসেন, হাবিবুর রহমান তারা বাসায় ঢুকে তান্ডব ও লুটপাট চালায়। আর বাসার বাহিরে ছিলো ইমরান নাজির, রিপন হাসান, ইয়াকুব, তারেক, তানভির, চিহ্নিত ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল আলমপুর গ্রামের সাবাজ ও সাকিল, উমেদনগরের নয়াহাটির সবুজ, সেলিমসহ দুই থেকে আড়াইশত সন্ত্রাসী ।শংকরের মুখ দিয়ে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গৌতম কুমার রায়, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মহিবুর রহমান মাহি এবং সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহমেদ রনি, পৌর ছাত্রলীগের ফয়জুর রহমান রবিনের নেতৃত্বে আজিমুল হক জনি, আমীর উদ্দিন জিসান, শাহ বাহার, ধ্রুব জ্যোতি দাস টিটু, আব্দুর রকিব, বিপ্লব রায় সুজন, সাইদুর রহমান, আকাশ রহমান, জোবায়ের আহমেদ, ইমতিয়াজ শাওন, আবু বক্কর সিদ্দিকি রাহুল, জাকির আহমেদ, ইকবাল খানসহ ১০০/১৫০ জন উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পত্রিকা অফিসে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঢুকার চেষ্টা করে। পরে ঢুকতে না পেরে অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। এতে অফিসে থাকা দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার ৪/৫জন সাংবাদিক ইটের আঘাতে আহত হন।কর্মকার পট্টির মুখ দিয়ে পৌর যুবলীগের আহবায়ক ইসতিয়াক রাজ চৌধুরী, জেলা যুবলীগ নেতা জলিলুর রহমান বদরুল, আলম মিয়াসহ আরো শ’খানেক লোক হামলা ভাংচুরে অংশ নেয়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মাসুক আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিভৃত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা অফিসে হামলা চালায় তারা। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশসহ র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এন ডি সি ও একজন মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তে আমাদের বাসা ভাংচুর ও লুটপাট রুখে দেওয়া হয়। যদি জেলা প্রশাসন আর ৫ মিনিট দেরীতে আসতো তাহলে সুশান্ত দাস গুপ্ত আজ মৃত থাকতো।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি মন্দিরের জায়গা দখল নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহিরকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ। এই সব সংবাদের জের ধরেই এমপি আবু জাহিরের নির্দেশে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা অফিসে হামলা ও সম্পাদক সুশান্ত দাস গুপ্তকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের সস্ত্রাসীরা।

দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা প্রেরিত প্রেস রিলিজ