রেড জোনে টরন্টো: রেস্তোরাঁ, সিনেমা বন্ধ

রেস্তোরাঁ বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল ও ক্যাসিনো শনিবার থেকে ২৮ দিন বন্ধ থাকবে। গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার জরিমানা।

কানাডার টরন্টোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বেড়ে গেছে। গত পাঁচ দিনে নতুন করে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এমন বাস্তবতায় শনিবার রেড জোনে প্রবেশ করল টরন্টো। সংক্রমণ প্রতিরোধে শনিবার থেকে শহরটির সব রেস্তোরাঁ (ডেলিভারি সার্ভিস ছাড়া), বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল ও ক্যাসিনো ২৮ দিন বন্ধ থাকবে।

গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ঘরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ জন ও বাইরে সর্বোচ্চ ২৫ জন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সমবেত হতে পারবেন।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ধারণা, টরন্টোতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

টরন্টো মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ (এমওএইচ) আইলিন ডে ভিলা ঘোষণা করেছেন, ১৪ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরটিতে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের আওতায় রেড-কোডেড সিস্টেম চালু হবে।

রেড-কোডেড সিস্টেম স্থানীয় একটি ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে অবস্থাভেদে প্রতিটি অঞ্চলকে পাঁচটি (সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল, ধূসর) পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়।

সবুজ মানে প্রতিরোধ, হলুদ বোঝায় সুরক্ষা। অন্যদিকে কমলা মানে সীমাবদ্ধ, লাল বোঝায় নিয়ন্ত্রণ ও ধূসর মানে লকডাউন।

অন্টারিও প্রদেশের প্রধান ডাগ ফোর্ড বলেন, ‘টরন্টোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ খুবই উদ্বেগজনক। তাই এ ব্যবস্থার শুরু থেকেই এখানে কমলা রং, অর্থাৎ সীমাবদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।’

করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেছে।

অবস্থাভেদে সরকার বিনা সুদে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করেছে। বছরের শেষে ৬০ হাজারের মধ্যে ৫০ হাজার ফিরিয়ে দিতে পারলে অবশিষ্ট অংশ মওকুফ করে দেয়া হবে।

এ লক্ষ্যে কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার ‘ইউনাইটেড স্মল বিজনেস রিলিফ ফান্ড’-এ অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

Canada-pic-finalটরন্টোর বাংলাদেশি পাড়া বলে পরিচিত ডানফোর্থ ও ভিক্টোরিয়া পার্কে এখন খুব কম বাংলাদেশির আনাগোনা। বাংলাদেশিদের মধ্যেও এখন অনেকেই করোনায় আক্রান্ত।

বাংলাদেশি মর্টগেজ ব্রোকার মোহাম্মদ মাহবুব কওসর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। জানি না কবে আমরা এর থেকে মুক্তি পাব।’

কানাডার বিভিন্ন শহরের মধ্যে কুবেকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন, ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ২০ হাজার ৩৬৮, সাস্কাচুয়ানে ৪ হাজার ৪৩৭ ও ম্যানিটোবায় ৩৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৬৩২ জনের। সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ২৭৯ জন।