হ‌ুমায়ূন আহমেদের যে কথাগুলো আপনার জানা দরকার

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের শব্দচয়ন, সংলাপ, চরিত্র সবকিছুই আজও মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে কোটি পাঠকের হৃদয়। মিসির আলি ও হিমুর লজিক-এন্টি লজিক, মধ্যবিত্তের সুখ-দুঃখ, বাংলার ইতিহাস, গৌরবজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ কোনো কিছুই বাদ যায়নি তার লেখনিতে।

মানুষ হুমায়ূন আহমেদ নেই; তবে লেখক হুমায়ূন অমর। তার কালজয়ী চরিত্রগুলো অম্লানভাবে টিকে আছে। ঘুরে বেড়ায় এ শহরে থেকে ও শহরে। বিস্ময়কর এ লেখকের সৃষ্ট চরিত্রগুলো শুধু সাহিত্যের পাতায় যেমন লেখা রয়েছে, তেমনি মানুষের মনেও দোলা দেয়।

হিমুস্রষ্টার জন্মদিনে তার কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

* জীবনে কখনো কাউকে বিশ্বাস করতে যেও না। কারণ, যাকেই তুমি বিশ্বাস করবে সেই তোমাকে ঠকাবে।

* যদি আপনি অন্তর থেকে কাউকে চান, জেনে রাখুন সেই মানুষটিও আপনাকে ভেবেই ঘুমাতে যায়।

* কাউকে প্রচণ্ডভাবে ভালোবাসার মধ্যে এক ধরনের দুর্বলতা আছে। নিজেকে তখন তুচ্ছ এবং সামান্য মনে হয়। এই ব্যাপারটা নিজেকে ছোট করে দেয়।

* পৃথিবীর সব মেয়ের ভেতর অলৌকিক একটা ক্ষমতা থাকে। কোনো পুরুষ তার প্রেমে পড়লে মেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারে। এই ক্ষমতা পুরুষদের নেই। তাদের কানের কাছে মুখ নিয়ে কোনো মেয়ে যদি বলে- ‘শোন আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। আমি মরে যাচ্ছি। তারপরেও পুরুষ মানুষ বোঝে না। সে ভাবে মেয়েটা বোধ হয় এপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় মরে যাচ্ছে!’

* ভালোবাসার মাঝে হালকা ভয় থাকলে, সেই ভালোবাসা মধূর হয়। কেননা, হারানোর ভয়ে প্রিয়য়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়।

* যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না।

* সঠিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা আছে শুধুই আল্লাহপাকের। মানুষকে মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে সে মানুষ।

* পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি করে আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে..!কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে।

* দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না।

* তুমি একটা খারাপ কাজ করেছো তার মানে তুমি একজন মানুষ, তুমি সেই খারাপ কাজটার জন্য অনুতপ্ত তার মানে তুমি একজন ভাল মানুষ।

* যেসব মানুষের নাক সেনসেটিভ হয় তাদের কান কম সেনসেটিভ হয়। প্রকৃতি একটা বেশি দিলে অন্যটা কমিয়ে দেয়।

* বিপদ যখন আসে একটার পর একটা আসে। বিপদরা পাঁচ ভাইবোন। এদের মধ্যে খুব মিল। এই ভাইবোনরা কখনো একা কারো কাছে যায় না। প্রথম একজন যায়, তারপর তার অন্য ভাইবোনরা উপস্থিত হয়।

* বিরক্তিকর কোনো মানুষ ফ্রড হতে পারে না । পৃথিবী তে ফ্রড মাত্রই ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হয়।

* এ জগতে যুক্তিহীন কিছু ঘটে না। অযুক্তি হল অবিদ্যা। এ পৃথিবীতে অবিদ্যার স্থান নেই।

* প্রতিটা মানুষের জীবনে কষ্ট আছে শুধু তা প্রকাশ করার পদ্ধতি ভিন্ন। নির্বোধরা প্রকাশ করে চোখের পানি দিয়ে আর বুদ্ধিমানরা প্রকাশ করে মৃদু হাসি দিয়ে।

* মনে রেখো, আজকের দিনটিই তোমার সেই ভবিষ্যৎ যা নিয়ে তুমি গতকাল চিন্তিত ছিলে।

* মানুষ হয়ে জন্মানোর সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে- মাঝে মাঝে তার সবকিছু পেছনে ফেলে চলে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সে যেতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। কিসের অপেক্ষা তাও সে ভালোমত জানে না।

* সন্দেহভাজন একজন মানুষ যত ভালো কাজই করুক তার কাজকে দেখা হয় সন্দেহের চোখে।

* কিছু মানুষের উপর আপনি কখনোই আস্থা রাখতে পারেন না। এরা নিজের সুখের জন্য ঝুলন্ত অবস্থায় পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনার হাত ছেড়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।

* কল্পনা শক্তি আছে বলেই সে মিথ্যা বলতে পারে । যে মানুষ মিথ্যা বলতে পারে না, সে সৃষ্টিশীল মানুষ না, রোবট টাইপ মানুষ।

* জীবনে কখনো কাউকে বিশ্বাস করতে যেও না। কারন, যাকেই তুমি বিশ্বাস করবে সেই তোমাকে ঠকাবে।

* সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা বলতে হয় অন্যদিকে তাকিয়ে।

* হাসিতে খুব সহজেই মানুষকে চেনা যায় । সব মানুষ একই ভঙ্গিতে কাঁদে কিন্তু হাসার সময় একেক জন একেক রকম করে হাসে।

* পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।

* ভালো মানুষের রাগ থাকে বেশি। যারা মিচকা শয়তান তারা রাগে না। পাছায় লাথি মারলেও লাথি খেয়ে হাসবে।

* অন্ধকার বলে কিছু নেই, আলোর অনুপস্থিতিকে অন্ধকার বলে। তেমনি কষ্ট বলেও কিছু নেই, সুখের সাময়িক অনুপস্থিতিকে কষ্ট বলে।

* মেয়েরা ব্যাক্তিগত চাহিদার কাছে কখনো পরাজিত হয় না।

* মেয়েদের আসল পরীক্ষা হচ্ছে সংসার, ঐ পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে সব পাশ!

* তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না।

* ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে কখনও প্রেম জাগে না। যা জাগে সেটা হল সহানুভূতি।

* একটি ছেলে যখন মিথ্যা বলে তখন বোঝা যায় ছেলেটি মিথ্যা বলছে। কিন্তু একটি মেয়ে যখন মিথ্যা বলে তখন বোঝার উপায়নেই মেয়েটি মিথ্যা বলছে।