আলবার্টায় ক্রমবর্ধমান হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি

কানাডার আলবার্টায় ১৩ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত দুই সপ্তাহের জন্য প্রদেশে ইনডোর গ্রুপ ফিটনেস প্রোগ্রাম, টিম স্পোর্টস, গ্রুপ পারফরম্যান্স কার্যক্রম স্থগিত করা হবে, পাশাপাশি বার এবং পাবগুলির নিয়মিত কার্যক্রমের সময় কমিয়ে আনা হবে। এর মধ্যে এডমন্টন এবং আশেপাশের অঞ্চল, ক্যালগেরি এবং আশেপাশের অঞ্চল, গ্র্যান্ডে প্রাইরি, লেথব্রিজ, ফোর্ট ম্যাকমুরে এবং রেড ডেয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ আপডেট দিতে গিয়ে আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন কেনি এবং চিফ মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ ডা. ডীনা হিন্সাও বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন কেনি নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, আমাদের প্রদেশে আমরা একটি বিপজ্জনক মুহুর্তে রয়েছি। করোনা শনাক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আবার আমাদের আইসোলেশন নিতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ আমাদের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে এবং আমাদের কে এই চ্যালেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন শুক্রবার থেকে যে সমস্ত অঞ্চলে ৫০ জনেরও অধিক পরিমাণে করোনা শনাক্ত রোগী রয়েছে সেই সকল স্থানে রেস্তোঁরা, বার, লাউঞ্জ এবং পাব দশটার মধ্যে লিকার বিক্রি বন্ধ করতে হবে। বিবাহ ও জানাজায় ৫০-ব্যক্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিধি-নিষেধের পাশাপাশি আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন কেনি আলবার্টানদের বাড়িতে সামাজিক সমাবেশ না করার জন্যও জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য আলবার্টায় প্রতিদিনই রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে হাসপাতালে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রেকর্ড সংখ্যক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, আলবার্টা প্রদেশে ৮ শত ৬০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৩০৫ জন। ২২৫ জন হাসপাতালে রয়েছে, তাদের মধ্যে ৫১ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছে। ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।মহামারীটি শুরু হওয়ার পরে একদিনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি। আলবার্টায় কোভিড-১৯ এ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৯৩ জন।

অন্যদিকে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় প্রদেশের হেলথ অফিসার ডাক্তার বনি হেনরি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাড্রিয়ান ডিক্স

জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৩ জন, মারা গেছে আরও চারজন। বর্তমানে হাসপাতালে ১৫৫ জন ভর্তি রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৪ জন গুরুতর।

অন্যদিকে অন্টারিওতে করোনার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ প্রতিদিনে ৬ হাজার ৫শত জন নতুন করে সংক্রমিত হতে পারে। প্রদেশটি এর আগে নভেম্বরের মাঝামাঝির মধ্যে এক হাজার দুইশত জনের পূর্বাভাস দিয়েছিল যা এই সপ্তাহে ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার কুইবেক প্রদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩ শত ৬৫ জন, নতুন করে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহামারী শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত এই প্রদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৫শত ৫৭ জনের। হাসপাতালে ৫৮৩ জন ভর্তি এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৮৬ জন রয়েছেন।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে ক্রমবর্ধমান হারে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কানাডাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে কানাডার কয়েকটি প্রদেশের অবস্থা নজরদারিতে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেকক্ষেত্রে প্রদেশের প্রিমিয়ারদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইতিমধ্যেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিমিয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথাও তিনি বলেছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৭ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ হাজার ৭ শ’ ৬৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৫ জন।