নীড়মন্ট্রিয়লমন্ট্রিয়লে এবার অন্যরকম দুর্গাপূজা

মন্ট্রিয়লে এবার অন্যরকম দুর্গাপূজা

বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো মন্ট্রিয়লেও এবার অন্যরকম শারদোৎসব উদযাপিত হয়েছে। শত ভক্তের মিলনমেলায় উৎসবের যে আড়ম্বরতা থাকতো সবসময়, সেটি এবার অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল ।করোনা ভাইরাস মুক্ত সুন্দর পৃথিবী ফিরে আসার প্রার্থনা জানিয়ে এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা মূলত কেবল যথাযথ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছে।

সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে এখানে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। গত ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিন ব্যাপী মন্ট্রিয়ল প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দুরা বরাবরের মতো তাঁদের নিজস্ব মন্দিরে পূজার আয়োজন করেন। মন্ক স্ট্রীটের সনাতন ধর্ম মন্দিরে পূজার প্রধান কর্মসূচি শুরু হয় ২৩ অক্টোবর শুক্রবার, শেষ হয় ২৬ অক্টোবর সোমবার আর এলার্ড স্ট্রীটের বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরে ২২ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার শুরু হয়ে তা শেষ হয় ২৫ অক্টোবর রোববার। কোভিড ১৯ জনিত মহামারীর কারণে মন্দির কর্তৃপক্ষকে এবার পূজায় স্বাস্থ্য সতর্কতা বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছর শতশত ভক্তের উপস্থিতিতে মন্দিরে যে উৎসবমুখরতা থাকতো এবার তা সম্ভব হয়নি। সরকারি বিধি মেনে এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে একসাথে সীমিত সংখ্যক ভক্তের উপস্থিতির ব্যবস্থা করা হয়। উভয় মন্দিরেই পূজার শাষ্ত্রীয় কর্মকান্ড যথারীতি পালন করা হয়। যেমন প্রতিমা স্থাপন, অর্চনা, অন্জলি, ভোগ, আরতী, প্রতিদিন দুবেলা প্রসাদ বিতরণ ,বিজয়ার আশীর্বাদ গ্রহন ইত্যাদি ছিল বিগত বছরগুলোর মতোই। ঘন্টায় ঘন্টায় সীমিত সংখ্যক ভক্তকে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়, অন্জলি দেয়া হয়, টেইক আউট কন্টেইনারে নিরামিষ প্রসাদ বিতরণ করা হয়। মন্দিরে ভক্তদের আগমনের প্রক্রিয়াটি রিজার্ভেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।উল্লেখ্য, করোনার কারণে কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী উপাসনালয় ( গির্জা, সেনেগাল, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা )’এ পঁচিশ জনের বেশি লোকের সমাবেশ নিষিদ্ধ, মাস্ক পরা এবং পরষ্পর দুই মিটার দূরত্বে অবস্থান বাধ্যতামূলক। মন্দিরে পূজার প্রতিটি কর্মসূচি সেভাবেই পালন করা হয়।


সনাতন ধর্ম মন্দিরে প্রতি ঘন্টায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। এছাড়া প্রবেশ পথে নেয়া হয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সর্বোচ্চ
নিরাপত্তা ব্যবস্থা।এবার মন্দির অডিটরিয়ামে দর্শক শ্রোতাদের সামনে সরাসরি সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্বটি বাদ দেয়া হলেও সনাতন ধর্ম মন্দির কর্তৃপক্ষ তিনদিনই ডিজিটাল সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেয়। তিনদিনের এই ডিজিটাল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ছিল কলকাতার মহিলা ঢাকী দলের অপরূপ বাজনা ও সাক্সোফোনের লহরী, দ্বিতীয় দিন স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ বিচিত্রানুষ্ঠান ও তৃতীয় দিন কলকাতার শিল্পী দেবাদৃত চট্টোপাধ্যায় ও সোহিনী সোহার সঙ্গীত সন্ধ্যা। স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অনুপ চৌধুরী মিঠু, কারিগরী সহযোগিতায় আরিফ সিদ্দিকী সেতু এবং উপস্থাপনায় শক্তিব্রত হালদার মানু। বিজয়া দশমীর রাতে উপস্থিত ভক্তরা  ধামাইল ও ভক্তিগীতি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্ম মন্দিরে এবারের অন্যরকম দুর্গা পূজার সমাপ্তি করেন। সনাতন ধর্ম মন্দিরে পূজায় পুরোহিত্য করেন শ্রী রীতিশ চক্রবর্তী এবং  বাংলাদেশ হিন্দু মন্দিরে শ্রী অলক ভট্টাচার্য্য।


সনাতন ধর্ম মন্দিরের পক্ষ থেকে এবারও ‘উৎসব’ নামে সুন্দর একটি শারদীয় সংকলন প্রকাশিত হয়। এটি সম্পাদনা করেন শ্রী গোপেন দেব। প্রথম পূজার দিন থেকেই ম্যাগাজিনটি মন্দিরে আগত ভক্তদের মাঝে বিলি করা হয়। পাঠকদের বেশ প্রশংসা কুড়োয় ‘উৎসব’।


এছাড়া গত ৩০ অক্টোবর দুটি মন্দিরেই লক্ষ্মী পূজা করা হয়। আগামি ১৪ নভেম্বর শনিবার স্বাস্থ্য বিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে শ্যামা পূজা ও দীপাবলী উৎসব।

সর্বশেষ খবর

মাসিক আর্কাইভ