পায়ে হেঁটে সিসিলি থেকে লন্ডন

লকডাউন শুরু হওয়ায় ইতালির ১০ বছর বয়সী রোমিও কক্স লন্ডনে তার দাদির সঙ্গে দেখা করতে  যেতে পারেনি। অসুস্থ দাদিকে দেখতে তাই নিজেই ম্যাপ দেখে, পরিকল্পনা সাজিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় হেঁটে হেঁটে লন্ডন যাওয়ার। ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে রোমিওর সঙ্গী হয়েছিলেন তার বাবা ফিল। বাবা-ছেলের রোমাঞ্চকর এই অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

পরিকল্পনা

বিশ্বকে অবিশ্বাস্যভাবে বদলে দিয়েছে কভিড। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হয় না অনেক মাস, ভ্রমণকারীদের বাধ্য হয়েই বাড়িতে থাকতে হচ্ছে, ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি বলতে গেলে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। করোনায় অন্যান্য দেশের তুলনায় কঠিন অবস্থা পার করতে হয়েছে ইতালিকে। অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, যা চলছে সেগুলোর গতিও খুব ধীর। অন্য সবার মতো ইতালির রোমিও কক্সও লকডাউনে বাড়িতে বন্দি ছিল। রোমিও কক্স ১০ বছর বয়সী ইতালিয়ান-ইংলিশ এক বালক। লন্ডনে জন্ম হলেও কয়েক বছর আগে পরিবারের সঙ্গে সে ইতালির সিসিলির পালেরমোতে চলে যায়। এই বছরের শুরুতে রোমিওর পরিকল্পনা ছিল গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সে লন্ডনে তার দাদির কাছে যাবে। তার দাদির শরীরও খুব একটা ভালো নয়। এ ছাড়া দাদিকে তার ভীষণভাবে মনে পড়ছিল। দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সব ভেস্তে যায় করোনা মহামারীতে। ভ্রমণ নিয়ে বিশ্বের সব জায়গাতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সব ধরনের যান চলাচল ও ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়।

রোমিও মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়ে। একে তো দাদির সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য মন খারাপ, এরপর এই ফ্লাইটের নিষেধাজ্ঞা কত দিন চলবে সে বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু না জানা। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য তেমন কোনো ভাবনাই মাথায় আসছিল না ছোট্ট রোমিওর। কিন্তু এত অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষাও করতে চাচ্ছিল না সে। তাই নিজে নিজেই কিছু পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলে। রোমিও প্রথমে একটি ম্যাপ আঁকায়, এরপর কীভাবে যাওয়া যায় সেটি নিয়ে পরিকল্পনা করে, কোন কোন এলাকা পাড়ি দিতে হবে সেসব নিয়ে একটি তালিকা বানায়, এরপর সবচেয়ে জরুরি যে বিষয় বাবা-মায়ের অনুমতি সেটি নিয়ে ভাবে। কোন কোন বিষয় নিয়ে বাবা-মা প্রশ্ন তুলতে পারে আর যেতে নিষেধ করতে পারে, সেগুলোর উত্তর সে নিজে নিজে গুছিয়ে ফেলে। রোমিও জানত তার এই পরিকল্পনা বেশ জটিল। স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মা শুনেও শুরুতে নিষেধ করে দিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর, বাবা ফিল বিষয়টি নিয়ে ভাবলেন। বাবার সঙ্গে চলল আলোচনা। ফিল একজন সাংবাদিক, সঙ্গে তথ্যচিত্র বানানোর কাজও করেন। একা যাওয়ার চেয়ে বাবার সঙ্গে গেলে অচেনা রাস্তা পাড়ি দেওয়া যেমন সহজ হবে, তেমনই পুরো ভ্রমণের একটি তথ্যচিত্রও বানানো যাবে। বাবা-ছেলে মিলে পরিকল্পনা করে ফেললেন। এই ভ্রমণ-পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে কভিডের নিষেধাজ্ঞা মেনেই করা হয়েছিল। রোমিও চেয়েছিল পৃথিবীকে গাড়ি বা বিমানের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি না করে হেঁটে বা বাইকে যেতে। তবে রাস্তাও কম দূরত্বের নয়, সিসিলি থেকে লন্ডন, ২৮০০ কিলোমিটারের যাত্রা।

যাত্রা শুরু

১৮ জুন বাবা ও ছেলের অভিনব এ যাত্রা সিসিলি থেকে ন্যাপলস পর্যন্ত নৌকা ভ্রমণ দিয়ে শুরু হয়। এরপর পাড়ি দিতে হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকাসহ ক্যানটারবেরি ও রোমের মধ্যবর্তী প্রাচীন তীর্থ এলাকা ফ্রান্সিজেনা। এই এলাকার ট্রেকিং রুট অনেকের কাছেই এখন আগ্রহের জায়গা। আগ্রহের হলেও পাহাড়ি এই জায়গায় চলাচল করা বেশ কঠিন। অভিযাত্রীদের আসা-যাওয়া রয়েছে বলে অনেক জায়গায় ঘুমানো আর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ঘর আর তাঁবুর ব্যবস্থা করা আছে। প্রতিদিন সকালে ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে ২০ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটতে হতো তাদের। বন, পাহাড়, মাঠ সব পেরিয়ে চলত এ যাত্রা। দিন শেষে কোনো সন্ন্যাসীদের মঠ, চার্চ বা হোস্টেল যেখানেই সুযোগ হতো রোমিও বাবার সঙ্গে সেখানেই থেকে যেত। বিবিসির এক ইন্টারভিউতে রোমিও জানায়, ‘রাস্তায় চলতে চলতে কখনো হয়তো বাবা আর আমি মিলে কোনো খোলা জায়গায় শুয়ে পড়তাম। মাথার ওপর আকাশ-ভর্তি তারা আর আশপাশে অসংখ্য গাছ সব মিলিয়ে অন্য রকম একটি পরিবেশে আমরা থেকেছি।’

সব রাস্তা ভালোভাবে না চেনা থাকায় বিপদের সম্ভাবনাও ছিল। দ্রুত পৌঁছানোর জন্য ফিল অনেক শর্টকাট রাস্তা দিয়ে যেতে চেয়েছেন, কিন্তু সেখানে কোথায় কেমন ঝামেলায় পড়তে হয় সেটা তাদের কেউই জানত না বলে সেই পরিকল্পনাও বাদ দেওয়া হয়েছে। রোমিও চেয়েছে সময় বেশি লাগলেও নিরাপদে লন্ডন পৌঁছাতে। তবে বিপদ তো সব সময় বলে কয়ে আসে না। অচেনা মানুষের দ্বারা ক্ষতি হওয়ার ভয় ছাড়াও ছিল বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা। ন্যাপলস এলাকা ছেড়ে আসার সময় তাদের ওপর সাতটি বন্য কুকুর আক্রমণ করে। ভয়ংকর সে অভিজ্ঞতার বর্ণনায় রোমিও জানায়, ‘বন্য কুকুরের সে অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ংকর। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি আর আমরা সেখান থেকে নিরাপদে সরে আসতে পেরেছিলাম। লাগো বলসেনায় তাঁবুতে ঘুমানোর সময় চিংঘিয়ালের (বন্য শূকর) আক্রমণের মুখে পড়েছিলাম। আবার হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা হারানোর সম্ভাবনা তো ছিলই, সঙ্গে থাকা পানিও অনেক সময় শেষ হয়ে যেত। সিসিলির পাহাড়ে ওঠার সময় বেশ কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমি আর বাবা সব সময় গান গাইতাম আর হাসতাম। প্রতিবারই এমন হয়েছে যে, বিপদে পড়লে পরক্ষণেই আমরা বেঁচে ফিরেছি।’

এত রাস্তা যেতে যেসব জিনিসের প্রয়োজন বিশেষ করে মহামারীর এ সময় মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ সবই রোমিওদের সঙ্গে ছিল। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চলাচল করেছে তারা। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় বর্ডার পার হওয়া বা জিনিস বহনে রোমিওর খুব বেশি কষ্ট হয়নি। এত দূর যেতে রোমিওর অনেক সময় লাগবে এটা সে জানত। এরপরও সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যাত্রাপথে যদি বিমান চলাচলের ঘোষণাও দেওয়া হয়, তবু সে তাতে চড়বে না। একে তো পৃথিবীর জন্য বিমান ভালো কিছু নয়, এ ছাড়া জানালা দিয়ে মনমতো সব দেখা যায় না। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে কখনো সাইকেল ভাড়া করে, কখনো গাধার পিঠে চড়ে, কখনো মোটরসাইকেল ভাড়া করে, কখনোবা নৌকা ছিল তার রাস্তা পাড়ি দেওয়ার অন্যতম উপায়।

নতুনের সঙ্গে পরিচয়

রোমিও খুব আগ্রহী একটি ছেলে। আচরণেও বেশ পরিপক্ব। এই ভ্রমণে প্রতিদিনই সে নতুন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করেছে। জরুরি যে জিনিসটি সে শিখেছে সেটি হলো হারিয়ে গেলেও সমস্যা নেই। মানুষকে জিজ্ঞেস করতে করতেই সঠিক জায়গায় পৌঁছে যাওয়া যায়। রোমিও জানায়, ‘আমি সব সময় হারিয়ে যাওয়ার ভয় করতাম। আর এখন এটা রোজ হয়েছে। রাতের বেলা আমি দারুণ একটা জিনিস খেয়াল করেছি। রাতে যখন চারপাশ নীরব হয়ে যায়, তখন গাছদের কাছ থেকেও এক ধরনের নীরব শব্দ আসে, আমার ধারণা ওরা নিজেরা নিজেদের ভেতর কথা বলে।’

রোমিওর জন্য এই ভ্রমণ অনেক অ্যাডভেঞ্চার আর অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ ছিল। ইতালি আর ফ্রান্স পাড়ি দেওয়ার সময় অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনা নিয়ে রোমিও জানায়, ‘ন্যাপলসের পিয়াজ্জা দান্তেতে অভিভাবকহীন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে আমি ফুটবল খেলছিলাম। দুই গোল আমি করলেও ওরাও ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিল। ভাইটারবোর জার্ডিনো ডি ফিলিপোতে একটি জায়গা আছে, যেখানে স্পেশাল শিশুদের সাহায্য করার জন্য প্রাণীদের ব্যবহার করা হয়। সেখানে আমার দেখা হয়েছিল মালি থেকে আসা ফিলির সঙ্গে। সে আমাকে ঘোড়া সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আর অন্য প্রাণীদের যতœ নিয়ে জানিয়েছিল। প্রতিদিনই ছিল আসলে কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার।’ নতুন যেকোনো জায়গায় গেলেই রোমিও ফুটবল হাতে তার বয়সী ছেলে খুঁজত। তার মতে, ‘ইতালিতে বন্ধু বানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ফুটবল খেলতে খেলতে পরিচয় হওয়া। আমি সব সময় আমার সঙ্গে একটা ফুটবল রাখি। এই পদ্ধতিটা দারুণ কাজে দেয়। ন্যাপলসে যেখানে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করা অনেক কঠিন এমন জায়গাতেও এই পদ্ধতি বেশ কাজে দিয়েছিল।’

রোমিও যখন বাবার সঙ্গে পালেরমো থেকে লন্ডন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার আগে তাদের দুজনকে কয়েক ধরনের ট্রেনিং, প্রস্তুতি আর পরিকল্পনা করতে হয়। এ সময় অন্যদের কাছ থেকে কীভাবে সাহায্য পেয়েছিল, তা নিয়ে রোমিও জানায়, ‘আমি যখন পালেরমোতে পৌঁছাই তখন আমি কাউকে জানতাম না, ইতালিয়ান ভাষা বলতে পারতাম না। আমি জানি নিজের আত্মবিশ্বাস আর দিকনির্দেশনার জন্য কারও কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে এখানে সবাই সাহায্য করেছে।’

তহবিল সংগ্রহ

রোমিও আর ফিলের দীর্ঘ এই পথের ডকুমেন্টারি বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। ফেইসবুকে ‘রোমিও’স বিগ জার্নি হোম’ নামে পেজ খোলা হয়। রোমিও যে শুধু দাদির সঙ্গে দেখা করতেই এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে তা নয়, পথযাত্রায় রোমিওর মায়ের চালানো দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘রিফিউজি এডুকেশন অ্যাক্রস কনফ্লিক্টস ট্রাস্টের (রিয়্যাক্ট-জঊঅঈঞ) জন্য অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টাও করেছে। রিয়্যাক্ট মূলত কাজ করে শিশু ও নারী শরণার্থীদের নিয়ে। এই প্রতিষ্ঠানটি পালেরমোতেই অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোমিও বিশ্বজুড়ে অনেক বন্ধু বানিয়েছে। কারও যদি শরণার্থীবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য যেমন কোথায় কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কে সমস্যার সমাধান করে দিতে সাহায্য করতে পারবে, ঘুমানোর সমস্যা বা রিফিউজি পেপার কোথায় মিলবে এমন সব তথ্য এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এখানে আসা থেকে শুরু করে চলে যাওয়া পর্যন্ত সবাই সবাইকে সাহায্য করে।

তহবিল সংগ্রহ থেকে যে অর্থ আসে, তা খরচ করা হয় শরণার্থীদের ওষুধ কেনা ও ওয়াইফাই কানেকশনের ব্যবস্থার জন্য এবং স্থানীয় যে শিশুরা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের সুরক্ষায়। রোমিও জানে পালেরমোতে তার বয়সী অনেক ছেলেমেয়ে আছে, যারা লকডাউনে লেখাপড়া থেকে এক রকম দূরে সরে গিয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেটের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরের দুনিয়া থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। এজন্য অনলাইনে লেখাপড়া তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজের এ যাত্রায় অন্য সবাইকেই সে উৎসাহিত করে এসেছে অর্থ প্রদানের জন্য যেন বিনিময়ে আরও কিছু মানুষের জীবন বাঁচে। সিসিলি থেকে লন্ডনের এ যাত্রায় শরণার্থীদের জন্য রোমিও ১৩,৫০০ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করেছে। সিসিলি, পালেরমোতে যারা রোমিওকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে সেই শরণার্থীদের জন্যও সে তহবিল সংগ্রহ করেছে। ঘানা থেকে আসা র‌্যান্ডফ নামের ছেলেটার মতো অনেককেই সে ফিরে গিয়ে সাহায্য করতে চায়।

যাত্রাপথে অনেক শরণার্থী জোর করেছে তাদের ভিডিও করার জন্য। ‘আমি যখন ক্যালাইসে হোস্টেল থেকে বের হয়ে খাঁড়া বাঁধ পার হচ্ছিলাম, সেখানে একজন সুদানিজ ছেলের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। ক্যালাইসের বর্ডার পার হয়ে মা আর ভাইকে দেখার জন্য সে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আমার নিজের কাছেই বিষয়টি খুব অমানবিক লাগত যদি আমিও আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা না করতে পারতাম।’ এ ভিডিওগুলো করেছি সবাইকে শরণার্থীদের কঠিন অবস্থার কথা জানাতে। আমাদের সবারই উচিত সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করা।

৯৩ দিনের সফর শেষে

২০ সেপ্টেম্বর রোমিও ও ফিল লন্ডন পৌঁছায়। তাদের এই পুরো জার্নি ইন্সটাগ্রাম, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ড খণ্ড করে প্রকাশ করায় অনেকেই তাদের নিয়মিত ফলো করছিল। সবগুলো ভিডিওতেই সিসিলি থেকে লন্ডন যাওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে সে। শেষ পর্যন্ত লন্ডন এসে পৌঁছালে ট্রাফেলগার স্কয়ারে অনেক মানুষ একত্র হয়ে তাদের অভিবাদন জানায়। অক্সফোর্ডশায়ারের উইটনিতে দাদি রোজমেরিকে জড়িয়ে ধরার আগে রোমিও দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনেও ছিল। এতগুলো দিন দাদি শুধু দিন গুনেছেন নাতি রোমিওকে একবার জড়িয়ে ধরার জন্য। দাদি বলেন, ‘এভাবে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে রোমিওর এখানে আসাটা আমার জন্য সত্যিই অনেক স্পেশাল। আমি ভীষণ আপ্লুত। শিশুরা সত্যিই তাদের কাজ দিয়ে আমাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’  রোমিওর ভিডিওগুলো সবাইকে বেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, সঙ্গে যারা কোনো কাজ শুরু করতে গিয়েও করতে পারছেন না তাদেরও। রোমিওর এমন কাজে নতুন করে আমরা আবারও জেনেছি যে, শিশুদের মধ্যে যে কোনো কাজের শক্তি অনেক বেশি, বড় বড় যেকোনো কাজ করার জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে। সত্যি বলতে তারা সেটা করেও দেখায়। দীর্ঘ এ পথ অতিক্রম করার পর রোমিও জানায়, ‘আমি সত্যিই আনন্দিত যে মা-বাবা আমাকে এমনটি করতে দিয়েছেন। আমি অনেক মানুষের সঙ্গে মিশেছি। অনেকেই একা থাকে, যদি তারা ঘুরতে বের হয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তবে তাদের আর একা লাগবে না।’

রোমিও আমাদের শিখিয়েছে অভিজ্ঞতা শুধু বইয়ের পাতায় আর সিনেমার জন্য নয়। প্রতিটি মুহূর্তই বাঁচার জন্য। পরিকল্পনা করলে কখনো হয়তো বাবা-মা শুধু হ্যাঁ বলবেন, আবার কখনো তারা নিজেরাই সঙ্গে করে চলে যেতে পারেন রোমিওর বাবা ফিলের মতো। তাই সুযোগ পেলে কখনোই ভ্রমণের সুযোগ বাদ দেওয়া উচিত নয়।