ফেইসবুক উত্তাল, কবি টোকনের মুক্তি চাইলেন ফারুকী-অমিতাভ

সরকারি সম্পত্তি তছরুপের অভিযোগে কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক টোকন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছে নিউমার্কেট থানা-পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাঁটাবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত ২০১২-২০১৩ সালের সরকারি অনুদানে ‘কাঁটা’ চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান পান টোকন ঠাকুর। সময় মতো ছবিটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা না দেওয়ার কারণে অর্থ তছরুপের অভিযোগে টোকন ঠাকুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মন্ত্রণালয়।

এদিকে টোকন ঠাকুরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উত্তাল ফেসবুক। সিনেপ্রেমীরা টোকন ঠাকুরের সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। টোকন ঠাকুরের দ্রুত জামিন চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীও।

ফারুকী বলেন, ‘ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়ার পরও কত মানুষ রাজার হালে ঘোরে, আর সামান্য কয় লাখ টাকার একটা অনুদানের সিনেমা টাইমলি না দেয়াতে আমার বন্ধু কবি টোকন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হইছে! আমি বলছি না, অনুদানের টাকার ছবি টাইমলি না দেয়া উচিত কাজ! কিন্তু একটা ছবি বানাতে গিয়ে কত রকম ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটতে পারে! তাই আশা করি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাই-বোনেরা ব্যাপারটা আন্তরিকতার সঙ্গে দেখে একটা সুরাহা করবেন!এবং আদালতও ব্যাপারটা আন্তরিকভাবে দেখবেন যাতে টোকনের জামিন দ্রুত নিশ্চিত হয়! আপাতত এইটুকুই বলার!’

চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘কবি টোকন ঠাকুর ছবিটা নির্মাণ করতে পারছেন না হয়তো অর্থের অভাবে, তা ছাড়া কবি মানুষ সিনেমা নির্মাণের ভঙ্গি হয়তো বুঝতে পারেন নাই, তাই দয়া করে ওনাকে গ্রেপ্তার করে বিপদে না ফেলে, সবাই মিলে ওনার সিনেমাটা শেষ করার চেষ্টা করি। মুক্তি দেয়া হোক আমাদের কবিকে।’

কবি সরকার আমিন লিখেছেন, ‘‘দিন-পনেরো আগে টোকন এসেছিলেন। টগবগ করছে। ‘আমিন ভাই, শেষ করে আনছি। মুভিটা এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে।’ খুশি হইলাম শুনে। বললো, প্রচুর ক্যারেক্টার। প্রচুর খরচ। আর্টিস্টরা প্রায় মাগনা কাজ করেছেন। পুরোনো ঢাকায় কয়েক মাস থেকে শুটিং করতে হয়েছে। আজ শুনলাম টোকন গ্রেপ্তার হয়ে গেছে। অভিযোগ-সরকারি টাকা নিয়ে ঠিক টাইমে মুভি জমা দেয় নাই। যদি এটাই একমাত্র অভিযোগ হয়ে থাকে তবে তা দুঃখজনক। দুঃখ পেয়েছি-কারণ টোকন চেষ্টা করছিল কাজটা শেষ করতে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, গ্রেপ্তার না, ওকে মুভিটা বানাতে হেল্প করুন।’’

চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহমুদ দিদার লিখেছেন, ‘সিনেমা জীবন খায়! জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় ফুরায়ে যায় এই দেশে একটা সিনেমা ভেবে, বানিয়ে শেষ করতে।  কি এমন টাকা!  তার আবার তছরুপের অভিযোগ। নির্মাতা, কবি টোকন ঠাকুরকে হেনস্তা করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। টোকনদা হেসেই বুঝিয়ে দিলো এই আস্পর্ধা অমার্জনীয়।’