চাঁদাবাজ কামরুল, অথচ জেলে অভিযোগকারী

চাঁদাবাজির কথা ফাঁস করে দেয়ায় নিজ দলের কর্মীকেও রেহাই দেয়নি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। কামরুল ইসলামের চাঁদাবাজি বিষয়ক কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কামরুল ইসলাম ডিজিটাল আইনে মামলা করেন আওয়ামী লীগের ওই নেতার বিরুদ্ধে। এখন কামরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে চাঁদাবাজির শিকার বেচারা আলী আহমেদকেই শেখ হাসিনার সরকার জেলে ঢুকিয়েছে। নিজ দলের স্থানীয় এ নেতার কাছ থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন ঢাকা-২ আসনের এমপি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। চাঁদার টাকা নিজে ভোগ করা ছাড়াও উপর মহল পর্যন্ত বণ্টন করতেন। উপর মহলে ঘুষ দেয়ার কথা কামরুল নিজেই স্বীকার করেছেন ফাঁস হওয়া অডিওতে। এক পর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কামরুল ইসলাম ক্ষেপে যান কথোপকথনে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি আলী আহমদ। শুধু তাঁর কাছ থেকেই প্রতি মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন কামরুল ইসলাম। অনুরূপ চাঁদা স্থানীয় অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকেও এই এমপি সাহেব আদায় করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলী আহমদ ও কামরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া কথোপকথনে আওয়ামী নেতাদের চাঁদাবাজির এই চিত্রই ফুটে উঠেছে। ফাঁস হওয়া কথোপকথনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আলী আহমদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত ১২ সেপ্টেম্বর মামলা ঠুকে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সেই মামলায় পুলিশ আলী আহমদকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার হওয়ার আগে আলী আহমদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নিবেদন জানিয়েছেন তাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আলী আহমদ। তাঁর লিখিত আবেদনে বিষয় হচ্ছে- সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও কিডন্যাপারদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আবেদন। কিন্তু কোন আবেদন, নিবেদনে কাজ হয়নি। বর্তমান দুর্নীতিবাজ সরকার চোরকে না ধরে ভিকটিমকেই জেলে পুড়ে দিয়েছে।





প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা আলী আহমদের চিঠি

পলিটিকো বিডি নিউজ ইউটিউবে ইতোমধ্যে প্রকাশিত এবং ইউকে আমার দেশ অনলাইনের হাতে আসা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও আলী আহমদের অডিও কথোপকথন নিম্নরূপ। (আলী আহমদের সঙ্গে টেলিফোনে দুই দফায় কথা বলেন কামরুল ইসলাম। প্রথম দফায় ৫:০৪ মিনিট। দ্বিতীয় দফায় ২:২৯ মিনিট):

প্রথম দফার ফোনালাপ, ফোন করেছেন কামরুল।

অ্যাডভোকেট কামরুল: -হ্যালো

আলী আহমদ: -হ্যাঁ

অ্যাডভোকেট কামরুল: (নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন) -অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এমপি।

আলী আহমদ: সালামালাকুম, বলেন।

অ্যাডভোকেট কামরুল: ওয়ালেকুম সালাম। ভালো আছো?

আলী আহমদ: ভালো আছি।

অ্যাডভোকেট কামরুল: তো তুমি টাকা দাওনা কেন? ডিশের টাকা দাও না কেন? টাকা-পয়সা দাও না কেন?

আলী আহমদ: টাকা পয়সা দিলাম … কিন্তু, এতো বছর কিয়ের আওয়ামী লীগ করলাম?

অ্যাডভোকেট কামরুল: কিয়ের আওয়ামী লীগ করলা? অ্যাঁ,,

(অ্যাডভোকেট কামরুলকে থামিয়ে একটু ক্ষোভের সঙ্গে আলী আহমদ বলতে শুরু করলেন)

আলী আহমদ: বিএনপি-আলারা দেয় ৩০ হাজার, ৪০ হাজার .. আর আমি আওয়ামী লীগ কইরা.. পদে থাইকা এই মাসে দিমু এক লাখ? কন!

অ্যাডভোকেট কামরুল: (কামরুল একটু থেমে) না তোমার যতটুকু দেয়ার কথা

(কামরুলকে থামিয়ে আলী আহমদে বলতে শুরু করলেন)

আলী আহমদ: না কিয়ের আওয়ামী লীগ… আমি এই যে আগস্টের সময় ১০ ডেক-১৫ ডেক খিচুড়ি পাকাই, কিল্লেইগা পাকাই?

অ্যাডভোকেট কামরুল: তুমি.. তোমারে ১৫ আগস্ট করতে কইসে কেডা? মাসে মাসে যেটা (অস্পষ্ট)

এ সময় আলী আহমেদ কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে থামিয়ে দিয়ে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন:

অ্যাডভোকেট কামরুল: দাঁড়াও দাঁড়াও”।

তারপর অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলতে শুরু করেন…

অ্যাডভোকেট কামরুল: এই টাকাটাতো আমি সবাইরে ভাগ কইরা দেই।

আলী আহমদ: লাস্ট টাইম আমি তো বলছি… আমি চান্দার টাকা দিমুনা

অ্যাডভোকেট কামরুল: হ্যাঁঅঅঅঅঅ (উঁচু স্বরে বললেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম )

আলী আহমদ: আমি চান্দার টাকা দিমুনা।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম চুপ রইলে কিছুক্ষণ। এ সময় আলী হোসেন বলতে শুরু করলেন … ।

আলী আহমদ: আপনারে তো বলসি… আপনারে তো অনেকবার বলসি। আপনে শোনেন না। আমি বলসি, সবাই যা দেয়, আমি তা দিমুনে। কিন্তু, আমার… তাও আপনি শোনেন নাই।

অ্যাডভোকেট কামরুল: কত দিসো.. কত দিসো? সবাই কতো দেয়?

আলী আহমদ: হ্যালো (আলী হোসেন)

অ্যাডভোকেট কামরুল: তোমার যেই চেয়ার আছে, সেই অনুযায়ী তুমি টাকা দিবা না তুমি?

আলী আহমদ: আমি তো দেই…। এই যে আমার যেই চান্দাটা জুলুম কইরা নিতাসে … বুঝছেন? …চান্দা জুলুম কইরা নিতাসে… বিএনপি-ওলারা ওরা দেয় ৩০ হাজার …

(এ সময় আলী আহমেদকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।)

আলী আহমদকে ধমক দিয়ে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ সময় বলেন,

অ্যাডভোকেট কামরুল : হোসেনকে কেন টাকা দিবা তুমি? তুমি তো ইউসুফরে দিবা টাকা!

আলী আহমদ: ওর মাধ্যমেই তো আমি টাকাটা দেই। আমি আওয়ামী লীগ করলাম কিল্লাাইগ্যা তাইলে।

অ্যাডভোকেট কামরুল: (শব্দদূষণ) (কামরুল) অন্যরা দেয় না?

আলী আহমদ: অন্যরা দেয় ৩০ হাজার, ৪০ হাজার। তা আমি কিল্লাইগ্যা দিমু ১ লাখ কন দি?

অ্যাডভোকেট কামরুল: তুমি কত দেও.. তুমি কত দেও।

আলী আহমদ: আমি এক লাখ দেই, ৮০ হাজার দেই।

(কামরুলের অস্পষ্ট কণ্ঠ)

আলী আহমদ: যারা বিএনপি করে তারা দেয় কম, আর আমি দিমু বেশি! আমার উপর জুলুম! আবার আমার লাইন ..

(অ্যাডভোকেট কামরুল ও আলী আহমেদের দুজনেই এসময় কথা বলতে থাকেন। আলী আহমদ এসময় কামরুল ইসলামকে থামিয়ে দিয়ে বলেন)

আলী আহমদ: ভাই.. ভাই শোনেন। আমার দুই লাখ টাকার লাইন লইয়া গেসে গা.. দুই লাখ টাকা। আমার লাইন ফিরাইয়া দিতে কন। আমি দেই (মানে ১ লাখ টাকা চাঁদা দেবেন)। আমার লাইন ফিরাইয়া দিতে কন।

অ্যাডভোকেট কামরুল: কে লাইন নিয়া গেসে? কে লাইন নিয়া গেসে?

আলী আহমদ: হোসেন! হোসেন বিপ্লব!

অ্যাডভোকেট কামরুল: কোন লাইন নিয়া গেসে?

আলী আহমদ: এ্যাঁ আপনে! ইউসুফরে জিগাইয়া দেখেন! আওলাদরে জিগাইয়া দেখেন!

অ্যাডভোকেট কামরুল: আমার কথা হইলো.. এখন তোমার যেই টাকা দেয়ার কথা সেই টাকাটা …

(এ সময় অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কথা থামিয়ে আলী আহমদ বলতে শুরু করেন…)

আলী আহমদ: আমি কইত্থেকে দিমু? আমার লাইন লইয়া গেলে আমি কইত্থেকে দিমু? কন?

অ্যাডভোকেট কামরুল: হ্যাঁ কে লাইন নিয়া গেসে? কে লাইন নিয়া গেসে?

আলী আহমদ: হোসেন নিসে!

অ্যাডভোকেট কামরুল: কবে নিসে?

আলী আহমদ: এই যে.. জুলাই মাসের ৮ তারিখে …জুলাই মাসের ৮ তারিখে

অ্যাডভোকেট কামরুল: জুন মাসের ৮ তারিখ?

আলী আহমদ: জুলাই। জুলাই মাসের ৮ তারিখে

অ্যাডভোকেট কামরুল: গত মাসে নিসে?

আলী আহমদ: হ্যাঁ গত মাসে। ইউসুফরে বারবার বলসি। এর আগে আমার কাছে লোক পাঠাইসে। আমার কাছে লোক পাঠাইসে… আমার লাইন লইয়া যাইবো গা.. আমার কাছে টাকা-এমাউন্ট চায়। আমি দেই নাই।

অ্যাডভোকেট কামরুল: যা বলার আমার কাছে কও তুমি। তোমার লাইন-টাইন কেউ কিচ্ছু নিবো না।

আলী আহমদ: আপনারে তো কইসি। আপনে তো আমারে ঢ্যাবঢ্যাব কইরা তাড়াইয়া দেন।

(এ সময় আলী আহমদকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।)

অ্যাডভোকেট কামরুল: এটা তুমি আমার সঙ্গে এক্ষণ কথা কইলা। এর আগে কথা কইসো? কবে?

আলী আহমদ: আমি আপনার কাছে মিনহাজ আর মিন্টু ভাইরে নিয়া গেছি। ইউসুফ ভাইরে লইয়া গেছি। আপনি শুনসেন আমার কথা? আপনি তো আমার ঢ্যাবঢ্যাব কইরা বাইর কইরা দিলেন।

অ্যাডভোকেট কামরুল: কবে .. তুমি নিয়া গেসো আমার কাছে? কবে আইসো তুমি?

আলী আহমদ: মিনহাজ-মিন্টুরে আপনি জিগাইয়া দেখেন আমি আপনার অফিসে গেসি। আপনি আমারে কুত্তার মতো তাড়াইয়া দিসেন। আমারে মূল্যায়ন করসেন কোনো? কন?

কিছুক্ষণ সব চুপচাপ…

আলী আহমদ: আমি ৪০ বছর আওয়ামী লীগ করতাসি ..

অ্যাডভোকেট কামরুল: কোন সময় আমার কাছে আইসো এইটা আমার খেয়াল নাই।

আলী আহমদ: আপনার কাছে গেসি। আপনার অফিস ভরা লোক আসিলো। কিন্তু, আপনে আমার একটা কথা… আ করতে (মুখ খুলতে বুঝিয়েছেন) দেন নাই। আমারে আ করতে দেন নাই।

অ্যাডভোকেট কামরুল: এখন তুমি কি করতে চাও? এখন তুমি কি কইতে চাও?

আলী আহমদ: এখন আমার লাইনটা ফিরাইয়া দিলে আমি টাকা (চাঁদা) দিমু! আমার লাইন না হইলে আমি টাকা দিমু কইত্থেকে কন?

অ্যাডভোকেট কামরুল: তোমার কতটুক লাইন নিসে? কতটা লাইন নিসে?

আলী আহমদ: আমার নতুন ঘাট এলাকায় লাইন নিসে আর কুড়াঘাট এলাকায় লাইন নিসে। আমার লাইন ফিরাইয়া দিতে কন! আমি দিমু টাকা।

(কিছুক্ষণ চুপচাপ)

অ্যাডভোকেট কামরুল: কুড়াঘাট এলাকায় কতটুক লাইন নিসে?

আলী আহমদ: আমার … আমার অন্তত ৫০০ ঘর নিসে

অ্যাডভোকেট কামরুল: হ্যাঁঅঅঅঅ (উচুস্বরে)

আলী আহমদ: ৫০০ ঘর নিসে। আমি এলাকায় গইন্না গইন্না দেখাইয়া দিমু! আমার কথা যদি মিছা হয় আপনি লোক দেন! আমি গইন্না গইন্না দেখাইয়া দেই।

(কিছুক্ষণ চুপচাপ)

আলী আহমদ: আমি গইন্না গইন্না দেখাইয়া দেই। আমার লাইন ফিরাইয়া দেন?

অ্যাডভোকেট কামরুল: এই মাসে কত টাকা দিসো

আলী আহমদ: না আমি কোনো টাকাই দেই নাই এই মাসে?

অ্যাডভোকেট কামরুল: কোনো টাকাই দিবা না? তোমার কাছে কত লাইন আছে? তোমার কাছে যেই লাইন আছে সেই লাইনেরও টাকা দিবা না?

আলী আহমদ: না ক্যামনে দিমু? আমারই তো হয় না!

অ্যাডভোকেট কামরুল: আধা ঘণ্টা পর আমি তোমারে ফোন দিমু

আলী আহমদ: আচ্ছা দেন।

এরপর আবার আলী আহমেদকে দ্বিতীয় দফায় ফোন করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তাদের এই অডিও কথোপকথনটিতে অনেক বেশি শব্দদূষণ রয়েছে। তবে এই আলাপেও আলী আহমদকে চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল।

দুইজনের আলাপে আলী আহমদ সাবেক খাদ্যমন্ত্রীকে একবার ভাই, একবার স্যার বলে সম্বোধন করেন।

দ্বিতীয় কথোপকথন নিচে দেয়া হলো:

আলী আহমদ: আমার লাইন দেক। আমার তো ২ লাখ, ৩ লাখ আয় গেসে গা। আমি কইত্থে দিমু কন!

কামরুল কিছু বলার চেষ্টা করলেন। অস্পষ্ট। তাকে থামিয়ে আলী আহমদ বললেন…

আলী আহমদ: ভাই হোনেন আমি যে ওয়ার্ডের একজন নেতা… ওয়ার্ডের একজন সহ-সভাপতি। আমারওতো কর্মীগো চালাইতে হয়। এই যে কেলাবে গরু খাওয়াইলাম…

তার কথা শেষ না করতে দিয়ে কামরুল বলতে শুরু করলেন.

অ্যাডভোকেট কামরুল: তোমার লাইন নিলো ক্যামনে?

আলী আহমদ: আমার লাইন কাইট্যা নিয়া গেসে। কাইটা। কাইটা ওরা নিজেরটা ঢুকাইয়া দিসে ওইটার ভিতরে। ইউসুফরে কইসি, আওলাদরে কইসি, জসিমরে কইসি। আফজালরে কইসি। সবটেরে জানাইসি। থানায় কইসি। বুঝলেন? সব জায়গায় কইসি আমি।

অ্যাডভোকেট কামরুল: এটা তো হোসেন করে নাই!

আলী আহমদ: হোসেন (স্থানীয় কাউন্সিলর। কামরুলের মদদপুষ্ট) করসে। হোসেন আর বিপ্লব। আমারে আবার মাইরা ফালাইবো এই হুমকি দিসে আবার। আমি বাড়াবাড়ি করলে আমারে মাইরা ফালাইবো। বুঝসেন? আমারে অনেক হুমকি দিসে। এখন স্যার আমার তো.. আমার তো কেলাব (ক্লাব) চালাইতে হয়, আমার তো লোকজন চালাইতে হয়…

অ্যাডভোকেট কামরুল: তুমি কম দেও, বেশি দেও – টাকা দেও.. টাকা দেও।

আলী আহমদ: না এটা আপনার লগে খাড়া হইয়া কথা কইতে হইবো। কথা না হইলে কেউ বুঝবো না।

অ্যাডভোকেট কামরুল: হ্যাঁঅঅঅ

আলী আহমদ: আমার কথা হইলো ভাই, আমি ৪০ বছর ধইরা আওয়ামী লীগ করি। আমি একটা ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি। আমি ক্যান দিমু (চাঁদা)। আমি চান্দার টাকা কিল্যাইগা দিমু? ওরা দিবো.. ওরা বিএনপি করে

আলী আহমেদ কেবল কামরুলকেই চাঁদা দিতেন না। এলাকার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকেও প্রতিমাসে চাঁদা দিতে হত। মোহাম্মদ হোসেনকে এলাকার সবাই কামরুলের লোক এবং তাঁর চাঁদাবাজির এজেন্ট হিসাবেই জানেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কামরুলই মোহাম্মদ হোসেনকে দাড় করান এবং নতজানু নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তাঁর নির্বাচনে জেতারও বন্দোবস্ত করে দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ মানে না পুলিশ!

উল্লেখ্য, নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন আলী আহমদ।

এছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরও একই আবেদন করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করতে লালবাগ জোনের ডিসিকে নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ (আইন-২ শাখা) থেকেও গত ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও বলা হয়।

কিন্তু, এসব কিছুই কাজে আসেনি। উল্টো ৪০ বছর আওয়ামী লীগ করা এই নেতাকেই গ্রেপ্তারের পর ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আর এ কাজে সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগকে সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে।

সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হক জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী তার সংসদীয় এলাকার ইউসুফ ও আলী আহমেদের মধ্যে ডিশ ব্যবসার দেনা-পাওনা নিয়ে মীমাংসার জন্য ফোন দিয়েছিলেন আলী আহমেদকে।

অথচ ফাঁস হওয়া কথোপকথনে এটা স্পষ্ট যে চাঁদাবাজির জন্যই ফোন করেছিলেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী। কথোপকথনের অডিও পুলিশের হস্তগত হওয়ার পরও এমন মিথ্যাচারে এটা প্রমাণ হয় যে মন্ত্রী-এমপিদের চাঁদাবাজি সহ সব অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতা করছে পুলিশ।