একজন মেজর, একজন ইউএনও’র ন্যায়বিচার পেতে এই অবস্থা হয়, আমজনতার অবস্থাটা কি?

ড. তুহিন মালিক

তিনদিন আগে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন: ‘ইউএনও’র ওপর হামলাকারী ও হামলার নেপথ্যে যারাই থাকুক, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ অথচ আজকেই ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর তাঁরই অফিসের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী হামলার দায় স্বীকার করেছে? যেমনটা এর আগে হুবহু একইভাবে যুবলীগের নেতারাও একই দায় স্বীকার করেছিল। যুবলীগের তিন নেতাকে তখন দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিল।

দেখুন, ক’দিন আগে নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অথচ ধর্ষণের পর হত্যা করা সেই মেয়েটি জীবিত আছে। এ ঘটনায় গোটা জাতি অবাক বিস্ময়ে দেখলো, এদেশে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কিভাবে আদায় করা যায়। কিন্তু তখন দেশের মানুষ ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি, এর অল্প ক’দিন পরেই প্রজাতন্ত্রের একজন বিশ্বস্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে এরকম হরেক রকমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নির্মম শিকার হতে হবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত কোন কাজে আসলো না! দেশের একজন মেজর, একজন ইউএনও’র যদি ন্যায়বিচার পেতে এই অবস্থা হয়। তাহলে দেশের আমজনতার অবস্থাটা নারায়ণগঞ্জের গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া সেই হতভাগা মানুষগুলোর মতই।