নেপালের ৩ টাকার নয় বরং ভারতের ৫টাকার বিদ্যুৎ আনছে সরকার!

বাংলাদেশে যে কয়টি সেবা খাত রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎখাত। অথনৈতিকভাবেও এখাতটি অনেক বড়। স্বাধীনতার পর যখনই যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই লুটপাটের জন্য বিদ্যুৎখাতকে বেছে নিয়েছে। তবে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বিদ্যুৎখাত থেকে যে পরিমাণ লুটপাট হয়েছে অতীতে কখনো এমনটা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিদ্যুৎখাত থেকে শেখ হাসিনার পরিবারের লোকজনের মোটা অংকের টাকা লুটপাটের খবর জানার পর সাংবাদিক সম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে। এই লুটপাটের সাথে শেখ হাসিনার ছেলে জয় সরাসরি জড়িত ছিল। এই তথ্য প্রকাশ হলে শেখ হাসিনার ওই সময় ক্ষমতায় থাকায় কঠিন হয়ে পড়তো। যার কারণে পথের কাটা দূর করতে সাংবাদিক সাগর-রুনিকে চির বিদায় করে দেয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীনরা এখন বিভিন্নভাবে এই খাত থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। লুটপাটের একটি বড় মাধ্যম হলো-ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি। দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে সরকার ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। আর অজুহাত দেখাচ্ছে যে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে নাকি খরচ বেশি পড়ে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২০ হাজার ৮১৩ মেগাওয়াট। গত জুনে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হয় ১২ হাজার ৭০ মেগাওয়াট। চাহিদা না থাকায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে স্থাপিত বেশকিছু কেন্দ্র বসিয়ে রাখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, স্বাভাবিকভাবে গ্রীষ্মকালীন সময়ে ১১ থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তবে করোনাকালীন সময়ে তা আট হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে গিয়েছিল। এছাড়া শীত মৌসুমেও সাত থেকে আট হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

অথচ ভারত থেকে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এরপর আবার এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য চারটি পৃথক চুক্তি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি।

এদিকে শুধু সক্ষমতাই নয়, দেশে নিট সরবরাহকৃত বিদ্যুতেরও প্রায় ১০ শতাংশ আসছে ভারত থেকে। পিডিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে নিট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৬৪ কোটি ৯ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এর মধ্যে পিডিবির নিজস্ব উৎপাদন ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি আট লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বা ৫০ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এ সময় বেসরকারি খাত থেকে কেনা হয়েছে দুই হাজার ৮১১ কোটি ৬১ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বা ৪০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বিদ্যুৎ। আর ভারত থেকে আমদানি করা হয় ৬৬৭ কোটি ৩৯ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। অর্থাৎ গত অর্থবছর ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ।

পিডিবি দাবি করছে, দেশের তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর চেয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সাশ্রয়ী। এক্ষেত্রে মোট খরচ পড়ে পাঁচ টাকার মতো। দেশের ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রে শুধু জ্বালানি ব্যয়ই পড়ে পাঁচ টাকার বেশি। তাই নিজস্ব সক্ষমতা থাকার পরও ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সাশ্রয় হচ্ছে, তবে ভারতও বিদ্যুৎ বিক্রি করে মুনাফা করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয় মূল্যে যদি বিদ্যুৎ কিনতে হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে চুক্তি কেন? নেপাল-ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনকে খরচ পড়বে তিন টাকারও কম। যেটা ভারতের তুলনায় খরচ অর্ধেকে নেমে আসে। আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আনতে খরচ পড়ছে ৮ টাকা করে। যেটা নেপাল-ভুটানের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।

তারা বলছেন, সরকার এখানে রাষ্ট্রের সাশ্রয় দেখছে না। দেখছে নিজেদের ব্যক্তিগত মুনাফা ও ভারতের ব্যবসা। আর প্রতি বছর দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে।

তারপর, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খরচ বেশি পড়লে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে খরচ অনেক কম পড়ে। কিন্তু, সরকার ইচ্ছে করেই গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখেছে। কারণ, আমাদনি করলেই এখান থেকে বিভিন্ন সিস্টেম দেখিয়ে পকেটে নিতে পারছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

আসল কথা হলো-বিদ্যুৎখাত এখন সরকারের লুটপাটের কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের লুটপাটের কারণে কিছু দিন পর পরই বাড়াতে হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। সোজা কথা-সরকারের লোকজন জনগণের পকেট কেটে টাকাগুলো শুধু তাদের পকেটে নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্যই থাকছে।