গোবেচারা কেরাণীর উপর খেপছেন কেন ?

মিনার রশিদ

১.

জাতি হিসাবে আমরা আসলেই আজব কিছিমের ! কখন কার উপরে কেন রাগি , তা নিজেরাও জানি না । শাহেদের উপর রাগ ঝাড়ি কিন্তু যারা বা যিনি শাহেদ বানানোর মূল হোতা – তাকে সকল দায় থেকে মুক্ত করে দেই ।

যে নির্বাচনে দেশের আঠার কোটি মানুষের কেউ ভোট দিতে পারে নি সেই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করার জন্যে জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয় । এতবড় বাটপারি নিয়ে জাতির কোনো মাথা ব্যথা নাই । সমস্ত মাথা ব্যথা শাহেদ ও সাবরিনার ছোটখাটো বাটপারি নিয়ে !

ওয়াশিংটন পোষ্ট , নিউইয়র্ক টাইমস , দা গার্ডিয়ানের মত পত্রিকা যখন আমাদের নির্বাচনকে উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনের সাথে তুলনা করে ঠাট্টা মশকরা করেছে তখন আমরা মাইন্ড করি নাই । এখন বিশ্ব মিডিয়ায়

শাহেদ / সাবরিনার ছোটখাটো বাটপারি নিয়ে কথা বলায় লজ্জায় আমাদের ‘ মাথা হেট হয়ে গেছে’ ।

এই অবৈধ সরকার টিকে থাকার জন্যে অনেক শাহেদ তৈরি করেছে , এখনও করছে, ভবিষ্যতেও করবে ।

ভাগ্য দোষে এই শাহেদ ভুল জায়গায় ভুল কাজটি করেছিলেন ।

এই শাহেদ শুধু নমশুদ্রদের টক- শো তেই জায়গা করে নেন নি । তৃতীয় মাত্রার মত এলিট টক- শোতেও অংশ গ্রহনের সুযোগ পেয়েছেন । মূলত: এই জিল্লুর রহমানরা বর্তমান ফ্যাসিবাদকে সর্বোচ্চ সেবাটি দিয়ে যাচ্ছেন । অথচ বিরোধী দল সহ সকল মহলের সম্মান ও সমীহ থেকেও বঞ্চিত থাকছেন না ।এটি সত্যিই এক আজব খেলা ! এই জিল্লুর রহমানরা অনেক শাহেদদের পুত পবিত্র হিসাবে আমাদের সম্মুখে উপস্থাপন করছেন । এখন শাহেদের জন্যে একটু মন্দ কথা শুনতে হলেও সম শ্রেণীর অন্য বাটপারদের জন্যে তা শুনতে হচ্ছে না ।

এখন আমরা শুধু শাহেদকে নিয়েই ট্রল করছি । র্যাব/ পুলিশ তার কোমড়ে রশি বেঁধেছে , অনেক জিল্লতি ( অপমান) করেছে । আমরা বাহ্বা দিচ্ছি ।

অন্যদিকে

এখনও সুভাষ সিংহ রায়ের মত ( সোনালী ব্যাংককে ফতুর করায় তার অনেক অবদানের কথা শোনা গেছে ) অনেকের সক্রেটিস / এরিস্টটলের তাত্বিক আলোচনা শুনে নিজেরা আপ্লুত হচ্ছি , আলোকিত হচ্ছি ।

২.

সম্প্রতি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চট্টগ্রাম পোর্টের সচিবের উপর অনেকেই খেপে যাচ্ছেন বলে মালুম হচ্ছে । ইনারা এতদিন ঘুমিয়ে ছিলেন! অথচ এই বেচারা শুধু দুই সরকারের মধ্যকার চুক্তির ধারাটি অত্যন্ত আনন্দ / আহ্লাদ / সন্তুষ্টির সাথে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মাত্র !

কে চুক্তিটি করলো ? কেন করলো ?

সে ব্যাপারে আমরা কোন খোঁজ নেই নি , আর নিতেও চাই নি !

এখন খেপছি এই গোবেচারা সচিব বা রাষ্ট্রের

কেরাণীর উপর !

চট্টগ্রাম পোর্টের ট্রানশিপমেন্টের কাজটি ইতোমধ্যে পরীক্ষণমূলক ভাবে চালু হয়েছে / হবে । আপনাদের স্মরণ থাকার কথা যে ১৯৭৪ সালে ফারাক্কা বাঁধটিও কিন্তু

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ! সেই ‘ পরীক্ষামূলক ‘ কর্মটি

এখনও শেষ হয় নি !!

আগে বলা হয়েছিল , এই ট্রানশিপমেন্ট চালু হলে আমরা নাকি সিঙ্গাপুরের মত ধনী হয়ে পড়ব । তারপর এক উপদেষ্টা বললেন , ট্রানজিটের টাকা চাওয়া ছোট লোকদের কাজ । এখন এই কেরাণী সাহেব জাতিকে বুঝাচ্ছেন , কিভাবে মেহমানদের আপ্যায়ন করতে হয় । নিজের প্লেইটে খাবার দেয়ার আগে কিভাবে মেহমানের প্লেইটে তা তুলে দিতে হয় ! কিন্তু মেহমানের প্লেটে খাবার দেয়া আর মেহমানের মনোরন্জনে নিজের পাছার কাপড় খুলে দেয়ার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য

ইনারা ভুলে গেছেন !

একটা জাতি আত্ম সম্মান , আত্ম সম্ভ্রম ও স্বাধীন চেতনা হারিয়ে ফেললে এই কিছিমের গোলাম হাজার হাজার পয়দা হয় ।

এদের কয়টার বিরুদ্ধে লাগবেন ?

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো ,

এদেশের চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দীরা ক্ষমতায় বা চেয়ারে থাকতে বিবেক বা বোধ জাগ্রত হয় না । সেটা জাগ্রত / উথ্থিত হয় ক্ষমতা ছাড়ার পর ।