আইসিইউ ও অক্সিজেনের জন্য হাহাকার

ভোরের আলো ডেষ্ক: করোনার সংক্রমণ তীব্রতর হচ্ছে। আক্রান্তের পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের চিকিৎসায় আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের শয্যার জন্য হাহাকার করছেন স্বজনরা। নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন আইসিইউতে রেখে রোগী চিকিৎসা দিতে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। রাজধানীর কোভিড নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর আইসিইউ শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। এছাড়া ঢাকার বাইরে সব জেলা হাসপাতালে নেই আইসিইউ শয্যা। আবার অনেক রোগীর অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ফলে এই সময়ে আইসিইউ এবং অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রোগীর চাহিদার বিপরীতে আইসিইউ শয্যা ও অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৩৭টি। এছাড়া ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৪৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলা হাসপাতালে ৩৪টি, ময়মনসিংহ বিভগের ৪টি জেলা হাসপাতালে ৭টি, বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা হাসপাতলে ১৮টি, সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা হাসপাতালে ১৬টি, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা হাসপাতলে ২৮টি, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা হাসপাতালে ১৮টি এবং রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা হাসপাতালে আছে ১৩টি আইসিইউ শয্যা। সব মিলিয়ে সারা দেশে সরকারি পর্যায়ে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ৩১৮টি। এছাড়া ঢাকায় বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ শয্যা আছে ৮১টি। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সারা দেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯। অথচ সারা দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৭৬৯ জন। এদের মধ্যে প্রায় আট হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা বাসায় চিকিৎসাধীন। মোট রোগীর ৫ শতাংশের বেশির আইসিইউ’র প্রয়োজন হয়। এতে প্রায় তিন হাজার রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট দরকার। অথচ সারা দেশে আছে মাত্র ৩৯৯টি। এর মধ্যে করোনার বাইরে অন্য রোগে আক্রান্তদেরও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র প্রয়োজন। সব মিলে এ ধরনের শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এদিকে ঢাকার বাইরে দেশের মাত্র ৫টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাকি সব হাসপাতালে সিলেন্ডারের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে হাসপাতালগুলো অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলেও বর্তমানে সেই অবস্থা নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। মানুষ অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ফিরে আসছে। এ সুযোগে দুই-তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।