কানাডা চটেছে মুসলিম বিদ্বেষী ভারতীয়দের ওপর

ভোরের আলো ডেষ্ক: গত কয়েক বছর ধরে ভারতে নজিরবিহীন মাত্রায় ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমদের প্রতি ঘৃণার চাষাবাদ হয়েছে। কিন্তু পরিণতিতে কোনো ফল ভোগ করতে হয়নি কাউকে। এই গোঁড়ামি আর ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই। সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও ঘৃণা প্রদর্শন করেছেন ভারতীয়রা। তবে দেশে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি ও সরকারের প্রচ্ছন্ন আশকারায় বিনা বাধায় এই ঘৃণার চর্চা করে গেছে উগ্রবাদীরা। কিন্তু বিদেশে বসবাসরত ঘৃণাজীবী ভারতীয়রা মাশুল দিতে শুরু করেছেন। প্রথমে উপসাগরীয় দেশ, আর এখন কানাডা চটেছে ওই ভারতীয়দের ওপর। এ খবর দিয়েছে দ্য প্রিন্ট।
খবরে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য ভারতীয় প্রবাসীরা চিহ্নিত হয়েছেন। এমনকি চাকরি হারিয়েছেন। এবার কানাডাও একই পথে হাঁটছে।

কানাডার অন্টারিওর ব্রাম্পটন মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন ঘোষণা দিয়েছেন যে, শহরের শব্দ দূষণের বিষয়ে যেই বিধিনিষেধ ছিল, তা এতদিন গির্জার ঘণ্টার জন্য ছাড় দেওয়া হতো। এখন সকল ধর্মাবলম্বী এই ছাড় পাবেন। এর ফলে এই রমজানে মুসলিমরা মসজিদের আজান শুনতে পাবেন। মেয়রের এই সংক্রান্ত টুইটের নিচে রবি হুদা নামে এক ভারতীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি লিখেন, ‘এরপর কী আসবে? ছাগল ও দুম্বা সওয়ারীদের জন্য আলাদা লেন করা হবে? ত্যাগের নামে প্রাণি জবাই করতে দেওয়া হবে? সামান্য ক’টা ভোটের জন্য আইন করে মেয়েদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে বাধ্য করা হবে?’
এই ইসলামবিদ্বেষী ধরতেই পারেনি যে আগে থেকেই এই ব্যতিক্রম খ্রিস্টান গির্জার ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য ছিল। আর এখন খ্রিস্টান, ইসলাম সহ সব ধর্মের প্রার্থনালয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই ব্যক্তি বোধ হয় ভুলেই গিয়েছিল যে, তিনি ভারতে নয়, কানাডায় থাকছেন। ভারতে হলে হয়তো এই মন্তব্যের জন্য হাজার লাইক আর রিটুইট পেতেন। কিন্তু কানাডায় সেই সুযোগ নেই। খুব দ্রুতই উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন ভদ্রলোক।
পরে টুইট ডিলেট করে দেন হুদা নামে ওই লোক। কিন্তু তার আগেই অনেক টুইটার ব্যবহারকারী তার ওই টুইটের সমালোচনা করেন। কানাডার অ্যান্টি-হেইট নেটওয়ার্ক ওই টুইট শেয়ার করে কড়া সমালোচনা করে। খুব দ্রুতই যেই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির জন্য তিনি কাজ করতেন, তারা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে। ম্যাকভাইল পাবলিক স্কুলের স্কুল কাউন্সিলের চেয়ার পদে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেও তাকে অপসারণ করা হয়েছে।
একই ধরণের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে। ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্টের জন্য ভারতীয়দের চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।