ঘর বানানোর ১০,০০০ টাকা ত্রাণ তহবিলে দিলেন ভিক্ষুক

করোনাভাইরাসে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সাধারণ ছুটিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় কর্মহীন বেশিরভাগ মানুষ। কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সরকার ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। বিত্তবান অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন (৮০) গতকাল মঙ্গলবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বসতঘর মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জমানো ১০ হাজার টাকা ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হাতে তুলে দিলেন।

তিন ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে উপজেলার গান্ধীগাঁও গ্রামে বাস করেন নাজিমুদ্দিন। ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় চলে তার সংসার। বসতঘর মেরামতের জন্য নাজিমুদ্দিন তিলে তিলে টাকা জমিয়েছিলেন। করোনা সংকটে সেটিই কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের দিলেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলার দি প্যাসিফিক ক্লাবের সভাপতি ও নাট্যনির্মাতা রায়হান জুয়েল জানান, গত রবিবার ইউএনওর নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা করতে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। সেখানে তারা নাজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে ইউএনওর খাদ্যসামগ্রী দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। সবাইকে চমকে দিয়ে নাজিমুদ্দিন তালিকায় তার নাম না দিতে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে ভিক্ষা করে  জমানো টাকা দান করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে গতকাল নিজে সেই টাকা নাজিমুদ্দিন ইউএনওর হাতে তুলে দেন।

এ সময় নাজিমুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইচরে দুই বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙ্গে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন (মানুষ) কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেক, খাইয়ে বাঁচুক।’

এ বিষয়ে ইউএনও রুবলে মাহমুদ বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন। তাদের সহায়তায় সরকারি চালের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে তহবিল খুলেছি। আজ (গতকাল) নাজিমুদ্দিন ভিক্ষাবৃত্তি করে উপার্জিত ১০ হাজার টাকা তহবিলে জমা দিলেন। এটি মহানুভবতার অনন্য উদাহরণ। সমাজের বিত্তশালীদেরও এই দুর্যোগে এগিয়ে আসা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে নাজিমুদ্দিনের কোনো প্রয়োজনে হলে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’