মহামারির বিশ্বে বাঙালির নববর্ষ আজ

আজ (মঙ্গলবার) বাংলা বছরের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জিকার নতুন বছরের প্রথমদিনে আজ। আজ বাঙালি মেতে ওঠার কথা ছিল বর্ষবরণের উৎসবে। কিন্তু বাঁধ সেধেছে বৈশ্বিক মহামারি; করোনাভাইরাস।

করোনা আক্রান্ত বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশ; বাংলাদেশও। বিশ্বের ১৯ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। মারা গেছেন লক্ষাধিক লোক। বাংলাদেশেও এই রোগের বিস্তার লাভ করেছে। সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮০৩, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৯ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন।

বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে বাঁচতে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশে সরকার। তাই এবার জামজমকপূর্ণ ভাবে হচ্ছে না নববর্ষের আয়োজন। এবার থাকছে না মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ অন্য সকল আয়োজন।

তবু জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করবে বাঙালি জাতি। পয়লা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে না মাতলেও সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে।

এবার বর্ষবরণের দিন ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যায় নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঘরে বসেই এবারের নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করবো। কবিগুরুর কালজয়ী গান ‘‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা” গেয়ে আহ্বান করবো নতুন বছরকে। অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই: মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়/ আড়ালে তার সূর্য হাসে/ হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সবাইকে অনুরোধ করবো কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজ-সহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।

করোনাকালের নববর্ষ, তবু আশা মহামারিমুক্ত বিশ্বের, মহামারিমুক্ত বাংলাদেশের। চিকিৎসক, সেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, র‍্যাব, সশস্ত্রবাহিনী, ব্যাংকার, স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক, কুরিয়ারকর্মী, পরিচ্ছন্নকর্মী, পরিবহনশ্রমিক, জরুরি সেবায় নিয়োজিত শ্রমিকসহ যত শ্রেণিপেশার মানুষেরা নানাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সুস্থ বিশ্বের, সুস্থ বাংলাদেশের। তাদের চোখে দেখা যায় করোনামুক্ত বিশ্বের।

শুভ হোক বাংলা নববর্ষ ১৪২৭!