করোনায় আক্রান্তের সঙ্গে মৃত্যুতেও শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টি করা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মৃত্যুতে ছিল ইতালি। শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল)  স্পেনকে ছাড়িয়ে মৃতের রেকর্ডে দ্বিতীয় পৌঁছে যায় যুক্তরাষ্ট্র।এরপর ২৪ ঘন্টায় ইতালিকেও টপকে এখন বিশ্বের শীর্ষে মার্কিন।
রয়টার্সের টালি অনুযায়ী প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে শনিবার ( ১১ এপ্রিল) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশ কখন ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন তা সতর্কভাবে বিবেচনা করছেন তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেল।
রয়টার্সের টালিতে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬০০ জন বলা হলেও শনিবার গভীর রাত নাগাদ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৮২ জন বলে দেখা গেছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়া নভেল করোনাভাইরাস সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; আক্রান্ত ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ১৭ লাখেরও বেশি।
এখন আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।
জনস হপকিন্সের পরিসংখ্যায় অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া ও দেশটির নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য অঞ্চল মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৪১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটিতে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবার দৈনিক মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়, একদিনে মারা যায় দুই হাজার ৭৪ জন। এদিন শনাক্ত হওয়া নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৫৫১ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র ওয়াইওমিং বাদে আর সবগুলো অঙ্গরাজ্য থেকে মৃত্যুর খবর এসেছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই আছে স্পেন এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি।
ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৬৮ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫২ হাজার ২৭১ জন। অপরদিকে স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ৮৫২ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৫৩ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘরবন্দি আদেশ, যা অধিকাংশ আমেরিকানকে বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য করছে, যদি ৩০ দিন পর তুলে নেওয়া হয় তাহলে গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই:
বিশ্বজুড়ে মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে।
শনিবার  ( ১১ এপ্রিল) করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ দেশটির হাসপাতালগুলোতে আরও ৯১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এতে যুক্তরাজ্যে এ মহামারীতে মৃতের মোট সংখ্যা নয় হাজার ৮৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
বিশ্বজেুড়ে মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাজ্য এখন পঞ্চম শীর্ষ দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এদিন দ্বিতীয় দিনের মতো ৯০০রও বেশি লোক মারা গেল।
এখন যুক্তরাজ্যে করোনভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও আছেন। তিন রাত লন্ডনের সেইন্ট টমাস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার পর জনসন এখন সেখানকার একটি ওয়ার্ডে আছেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন, ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র এমনটিই জানিয়েছেন। শুক্রবার তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, জনসন নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারছেন।
ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র দেখে ও তার গর্ভবতী বাগদত্তা ক্যারি সিমন্ডসের পাঠানো চিঠিপত্র পড়ে সময় পার করছেন।
ক্যারি সিমন্ডসের মধ্যেও কোভিড-১৯ এর লক্ষণ ধরা পড়েছিল।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে তিন সপ্তাহ আগে লকডাউন আরোপ করেছিল যুক্তরাজ্য। দেশটির মন্ত্রীরা ইস্টার সানডের বন্ধের মধ্যে ব্রিটিশদের সামাজিক জমায়েতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফআ