দুর্নীতিবাজ লুটেরা সরকারের মিথ্যাচারে মহাবিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ

ভোরের আলো ডেস্ক: সমগ্র বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। প্রাণঘাতী করোনার থাবায় বিপর্যস্ত ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, চীন সহ বিশ্বের পরাক্রমশালী অনেক দেশ। বিশ্বের ১৯৫ দেশে দেশে করোনার বিস্তার ঘটেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সময়ে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের আক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করেন। পর্যায়ক্রমে এটা মহামারির রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রায় ৩ মাস সময় পেলেও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এই সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা এবং সরকারের মুখপাত্ররা জাতিকে মিথ্যা প্রস্তুতির আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। এসকল দুর্নীতিবাজ, দায়িত্বজ্ঞানহীন, অকর্মাদের বিভিন্ন সময়ে নানারকম বক্তব্য জনমনে ক্ষোভ ও হাস্যারসের উদ্রেক করে। সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন করোনাকে সর্দি জ্বরের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন এটা কোন মারাত্মক রোগ নয়। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিউইর্য়কে পাচারকারী স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ মোহাম্মদ নাসিম করোনায় আঘাত হানার শুরুতেই বলেছেন ‘‘শেখ হাসিনার মতো নেত্রী পেয়েছি বলেই করোনা প্রতিরোধ করতে পারছি।’’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে ঢাকা বিমান বন্দরের ব্যাবস্থা উন্নত দেশণ্ডলোতে নেই। তাহলে প্রশ্ন জাগে এতো উন্নত ব্যবস্থার মধ্যে কিভাবে করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিরা দেশে প্রবেশ করে করোনা ছড়ালো। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো রীতিমতো প্রলাপ বকছেন কখনো বলছেন করোনা নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ইতালির চেয়েও বাংলাদেশ বেশী সফল আবার ডাক্তারদের পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) ছাড়াই চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশ দিচ্ছেন। মুজিব বর্ষে শতকোটি টাকার আতশবাজি করতে পারলেও জাতির এই চরম দুঃসময়ে চিকিৎসকদের হাতে প্রয়োজনীয় পিপিই সরবরাহ করতে না পারা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা বলেই অনেকে গণ্য করছেন। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে ডাক্তার অনেক রোগীকে পরীক্ষা করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে রোগী মারা যাওয়ার পর পরীক্ষা করা হচ্ছে, সে কি করোনা আক্রান্ত ছিল কিনা। এক পর্যায়ে পিপিই ছাড়া চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে চিকিৎসকরা প্রতিবাদী হয়ে উঠলে পরবর্তীতে এ আদেশটি বাতিল করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারী তথ্য অনুযায়ী দেশে ৪৪ জন করোনা আক্রান্ত এবং ৫ জন মরা যাওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশী। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে করোনার চিকিৎসা সেবা এখনো রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ৬৩টি জেলায় এখনো ভেন্টিলেশন সুবিধা নাই। বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের দেশে আছে মাত্র ২৯টি আইসিউ বেড। সবকিছুতেই সরকারী প্রচারের সাথে বাস্তবের বড় অমিল। সরকারের আরেক বাঁচাল মন্ত্রী তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাসান মাহমুদ করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের দাবী করলেও এ সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য আড়াল করার জন্য একটি টেলিভিশন মনিটরিং সেল গঠন করেন। এ সেল গঠনের সংবাদ জনমনে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম নিলে পরবর্তীতে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে তা বাতিল করে সরকার। গত সংসদ নির্বাচনে পুলিশের সহায়তায় রাতের আধাঁরে ব্যালট বাঙ্ ভর্তি করে জালিয়াতির নির্বাচনে তথাকথিত জয়লাভের পর এই সরকারের পুলিশ বাহিনী বেপরোয়াভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ওসি, এসপি থেকে ডিআইজি পর্যন্ত কর্মকর্তাদের নানা অপকীর্তির সংবাদ আসতে থাকে। পুরো বিশ্ব যখন এক ভয়াবহতম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তখনও আমাদের পুলিশের হিংস্রতা মুহুর্তের জন্য থেমে থাকেনি। সর্বশেষ পুলিশের এই হিংস্রতার শিকার হয়েছেন বরণ্ডনার শানু হাওলাদার নামক ব্যাক্তি।
শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর হাওলাদার একটি হত্যা মামলার আসামী। সন্দেহ ভাজন হিসাবে শানু হাওলাদারকে ধরে এনে বরণ্ডনা থানার ওসি মনোরঞ্জন মিস্ত্রী ৩ লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা না পেয়ে তিনদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেন বলে শানু হাওলাদারের পরিবার জানিয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ওসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।