মূত্র নয়, মদত্যাগ করেন তিনি!

শরীরের বাড়তি তরল হিসেবে যে মূত্র বা প্রস্রাব বেরিয়ে আসে, তার উপাদান নিয়ে কে-ই বা মাথা ঘামায়। তবে শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রস্রাবও পরীক্ষা করাতে হয়। তবে এবারে যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যিনি তার এই মূত্র বা প্রস্রাব দিয়েই রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। গবেষণাগারে তার প্রস্রাব পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আর দশ জন মানুষের মতো স্বাভাবিক প্রস্রাব নয়, তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে অ্যালকোহল বা মদ!

ওই নারীর বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এটা-ওটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়েই দেখা গেছে, তার শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই ইস্ট ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে তৈরি হয় অ্যালকোহল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার মূত্রথলি থেকে যা বেরিয়ে আসে, তা মদ।

গবেষকরা এই সমস্যার নাম দিয়েছেন ‘ব্লাডার ফারমেন্টেশন সিনড্রোম’। এই অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কখনো অ্যালকোহল পান না করলেও শরীরে তৈরি হবে অ্যালকোহল। মূলত শরীরের কার্বোহাইড্রেটগুলো বিরল এক ধরনের বিক্রিয়ার মাধ্যমে মূত্রথলিতে এই অ্যালকোহল উৎপাদন করে থাকে।

৬১ বছর বয়সী ওই নারী লিভার ও ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন পিটসবার্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে চেয়েছিলেন। প্রস্রাব পরীক্ষায় বারবার তিনি ‘অ্যালকোহল পজিটিভ’ হিসেবে ধরা পড়েছিলেন। চিকিৎসকরা সন্দেহ করেছিলেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণে তার শরীরের এই অবস্থা।

তবে চিকিৎসকদের সে ধারণা উড়িয়ে দেন ওই নারী। তিনি একাধিকবার চিকিৎসকদের জানিয়েছেন, তিনি জীবদ্দশায় কখনো অ্যালকোহল পান করেননি। তবে চিকিৎসকরা ভেবেছিলেন, মদপানের তথ্য গোপনের চেষ্টা করছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ওই নারীকে ইথানলের প্লাজমা টেস্ট করতে বলা হয় এবং প্রস্রাবের ইথাইল গ্লুকুরোনাইড ও ইথাইল সালফেট পরীক্ষা করতে বলা হয়। এই দুই পরীক্ষায় ইথানলের অস্তিত্ত্ব পাওয়া না গেলেও প্রস্রাবের পরীক্ষায় ইথানলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তার প্রস্রাবে প্রচুর গ্লুকোজ আর ইস্টের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।

এই রিপোর্টের পর চিকিৎসকরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে নিশ্চিত হন, অ্যালকোহল কখনো খেতে হয়নি, ওই নারীর শরীরই অ্যালকোহল তৈরি করছে। তারা জানান, তার মূত্রথলিতেই ইস্ট ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে অ্যাালকোহল তৈরি হচ্ছে।