মুজিব বষের্র ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন সরকারি ব্যয় শতকোটি, বেসরকারি হাজার কোটি

দীন ইসলাম: মুজিবষের্র জন্য চলতি অথর্বছরে বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে (২০১৯-২০২০) রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি পযার্য়ে এই আয়োজনে যার যার মত খরচ করবেন। তাই বেসরকারি পযার্য়ে এ ব্যয় হবে হাজার কোটি টাকা। তাই সরকারি ও বেসরকারি পযার্য়ে এসব ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। মুজিব বষের্র মূল ফোকাস হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও জীবন দেশে বিদেশে তুলে ধরা। মুজিব বর্ষে ব্যয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেটের সাধারণ খাতের টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মুজিব বর্ষ নিয়ে বৈঠকের সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায় এই ১০০ কোটি টাকার ৪০ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এরই মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাজেটের বাকি ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার টাকা এখনো ছাড় করা হয়নি। যা ছাড় করা হয়েছে তার মধ্যে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির জন্য ২১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিডিয়া সেন্টারের জন্য ৪৩ লাখ ৪০ হাজার। ভিডিও, চল”িচত্র নির্মাণে ১২ কোটি ৫০ লাখ। মোটর সাইকেল মেরামতের জন্য দুই লাখ। ৫৩ জেলায় ৫৫টি ক্ষণ গণনা যন্ত্রের জন্য ছয় কোটি ৫২ লাখ। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে মুজিব বর্ষ শুরু হবে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আর শেষ হবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ আরেকটি বড় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দু’টি অনুষ্ঠানেই বিদেশী রাষ্ট্রনায়ক ও মেহমানরা থাকবেন। এরই মধ্যে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গননা শুরু হয়েছে। এই এক বছরে সব মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হবে। বঙ্গববন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ ই জানুয়ারি সংসদে বলেছেন, মুজিববর্ষ পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে বিশ্ববাসী নতুন করে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০-২১ সালের জন্য ইউনেস্কোর গ্রহণ করা ৫৯টি বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হ”েছ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন। বঙ্গবন্ধুকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে ইউনেস্কো উদ্যোগী হয়। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবিচল সংগ্রাম ও ত্যাগের বিষয়ণ্ডলো ইউনেস্কো বিশেষভাবে বিবেচনা করেছে। মুজিব বর্ষ উদযাপনে মোট দু’টি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। একটি হলো: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় উদযাপন কমিটি। এই কমিটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কমিটিতে আছেন স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিকসহ দেশের বিশিষ্ট জনেরা। এর মোট সদস্য ১২০। এই কমিটির সদস্য সচিব হলেন ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। আরেকটি হলে: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। এই কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এর সদস্য সংখ্যা ৮০ জন। ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এই কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। তিনি দুই কমিটিতেই প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব পদমর্যাদায় কাজ করছেন। মুজিব বর্ষে মোট ২৯৩টি কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনের অনুষ্ঠান। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। বছরব্যাপী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি আছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসণ্ডলোও অনুষ্ঠান করবে। এছাড়া বিশ্বের কয়েকটি দেশে বঙ্গবন্ধুর ওপর মিডিয়া কনফারেন্স করা হবে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং বিশ্বভারতীসহ বিদেশী আরো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজে বঙ্গবন্ধু সেন্টার, লন্ডনে মাদাম তুসো মিউজিয়ামে ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামে একাধিক পুরস্কার প্রবর্তন। বঙ্গবন্ধুর ওপর ২৪ ঘন্টার ভিডিও চিত্র নির্মাণ। সাতটি ওয়েব সিরিজ, ১২টি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্র ও ৬টি শিশুতোষ এনিমেটেড চলচিত্র নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও আরো ১২টি হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফার্সি, স্প্যানিশ, রুশ, ইটালিয়ান, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক ১০০ প্রকাশনা হবে। এদিকে মুজিব বর্ষে ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্টুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ, ওআইসি সেক্রেটারি জেনারেল, আরব লীগের সাবেক কর্মকর্তা আমির মূসা, ইউনেস্কোর সাবেক প্রধান নির্বাহী ইরিনা বুকোভাসহ অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অনেকে মৌখিকভাবে আসতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন।