কানাডায় ‘করোনা ভাইরাস’ আতঙ্ক, বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে

দীন ইসলাম: আলোচিত প্রাণঘাতী ‘করোনা ভাইরাস’ আতঙ্ক কানাডাতে ছড়িয়ে পড়েছে। চার দিন আগে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে সারা বিশ্বে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরপর থেকে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এ কারনে চাইনিজ পরিবার, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন টরন্টোসহ কানাডার বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা। এ কারনে কানাডাতে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারনে চীনের ব্যবসায়িদের এখন মাথায় হাত। কম দামে বিক্রির নোটিশ দিয়েছে চাইনিজ গ্রোসারি শপণ্ডলো। এতেও কাজ হচ্ছে না। বেশিরভাগ জিনিসপত্র অবিক্রিতই থেকে যাচ্ছে। কবে নাগাদ তাদের ব্যবসা আগের অবস্থায় ফিরবে তা জানেন না। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের কারনে আর্ন্তজাতিক অঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন। এরই মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমার ও রাশিয়া। দেশটির সীমান্ত এড়িয়ে চলছে হংকংয়ের জনগণ। এছাড়া জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, কানাডা সরকার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত চার জনকে সনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে দুই জন স্বামী-স্ত্রী। তবে কানাডা সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারনে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারেনি। এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে সব ধরনের সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করেছে কানাডা। এদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও। এরই মধ্যে ভাইরাসটিতে চীনের মূল ভূখন্ডে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ি চীনে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ি ৪২৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর দীর্ঘ হতে থাকা মারা যাওয়ার তালিকায় এখনও চীনের বাইরে কেউ নেই। তবে মৃত্যুর তালিকায় না থাকলেও আক্রান্তের তালিকায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন দেশের নাম। অন্তত ৩০ টি দেশে ১৩০ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ ১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে হংকং, সেখানে ১০ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ম্যাকাও, অস্ট্রেলিয়ায় সাতজন করে ১৪ জন, কম্বোডিয়ায় একজন, কানাডায় চার জন, ফ্রান্সে চারজন, জার্মানিতে চারজন, জাপানে আটজন, মালয়েশিয়ায় সাতজন, নেপালে একজন, সিঙ্গাপুরে পাঁচজন, দক্ষিণ কোরিয়ায় চারজন, শ্রীলঙ্কায় একজন, তাইওয়ানে আটজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারজন, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচজন, ফিনল্যান্ডে একজন ও ভিয়েতনামে দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ভারত, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ চীন থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও সুখবর শোনালেন থাইল্যান্ডের চিকিৎসকরা। তাদের দাবি করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় তারা সফলতা পেয়েছেন। গত রোববার থাইল্যান্ডের ব্যাংককের রাজভিথি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ দাবি করেন। এদিকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে চীনে অনেকেই হত্যা করছেন নিজের পোষা প্রাণীদের। করোনা ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে- এ ধারণার কারণে প্রাণী হত্যার হিড়িক পড়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে অনেক মানুষ নিজের পোষা প্রাণীদের মেরে ফেলেছেন। চীনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মৃত কুকুর-বিড়াল চোখে পড়েছে। অন্যদিকে চীনে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ণ্ডগল সেখানে তাদের কার্যালয় সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। অ্যাপল তাদের কর্মীদের চীন সফর স্থগিত করার কথা বলেছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুড চেইন শপ স্টারবাকস চীনে তাদের অন্তত দুই হাজার আউটলেট বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানে তাদের সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। আর সেখানে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আতঙ্ক কবে কাটবে তা কেউই বলতে পারবেন না। কারন করোনা ভাইরাস নির্মূলে সময় লাগবে।