এ্যাপোলো হাসপাতাল যাচ্ছে ব্রিটিশ-মার্কিন কোম্পানির হাতে

এ্যাপোলো হাসপাতালের মালিক প্রতিষ্ঠান এসটিএস হোল্ডিংসের সিংহভাগ শেয়ার কিনে নিচ্ছে দুই মার্কিন ও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি এবিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এভারকেয়ার হেলথ ফান্ড ও যুক্তরাজ্যের সিডিসি গ্রুপ এক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

কত দামে এসটিএস হোল্ডিংসের কত শতাংশ শেয়ার বিক্রি হচ্ছে তা জানা না গেলেও এশিয়ায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিডিসি এশিয়ার প্রধান শ্রিনি নাগরাজন। আর এই বিনিয়োগের ‘প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ’।

ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সমন্বিত স্বাস্থসেবা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিপিজি গ্রোথ ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এভারকেয়ার, যাতে সিডিসিরও বিনিয়োগ রয়েছে।

সিডিসি এশিয়ার এমডি নাগারাজন বলেন, সিডিসির মূলধন বিনিয়োগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, যা এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

“এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসটিএস, টিপিজি ও এভারকেয়ারের মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে মিলে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও রোগীর সেবায় কাজ করার প্রত্যাশা করছি।”

সিডিসি গত বছর ব্র্যাক ব্যাংকে তিন কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে গৃহস্থালি পণ্য নির্মাতা আরএফএল ইলেকট্রনিক্স ও শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণ ফোনেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আছে এই ব্রিটিশ কোম্পানির।

২০০৫ সালে ভারতে চেন্নাইয়ের এ্যাপোলো হাসপাতালের সহযোগিতায় ঢাকায় ৪২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় আসে এসটিএস গ্রুপ। ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতালে এখন ২৯ ধরনের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। চট্টগ্রামেও ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল গড়ে তুলছে এসটিএস।

চেন্নাইয়ের এ্যাপোলো হাসপাতালের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির আওতায় এসটিএস ‘এ্যাপোলো হাসাপাতাল’ নাম ও এ্যাপোলোর লোগো ব্যবহার করছে। হাসপাতাল পরিচালনা ও দৈনন্দিন সেবার দায়িত্বও চেন্নাই এ্যাপোলো পালন করছে।

২০০২ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির মেয়াদ এই বছর ১৫ এপ্রিল শেষ হয়ে গেছে। আর সিডিসি ও এভারকেয়ারের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী অধিগ্রহণ চলতি বছর জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এসটিএস ঢাকা এ্যাপোলো হসপিটাল নামে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়তে চেয়েছিল। কিন্তু বাজারের বিরূপ পরিস্থিত ও উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের কারণে পরে সিদ্ধান্ত বাতিল করে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশীর সেপাল গ্রুপ, ট্রপিকা গ্রুপ ও শান্তা গ্রুপ এই কোম্পানির বর্তমান অংশীদার।