বাড়ি ক্রয় : ডুপ্লে­ক্স না সিঙ্গেল প্রপার্টি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে নতুন ক্রেতা

লিখেছেন শিহাব উদ্দিন

বাড়ী কেনার ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই অনেকেই সিঙ্গেল প্রপার্টির চেয়ে মাল্টিপ্লেক্স প্রোপার্টিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ভাড়াটিয়ার ভাড়ার অর্থে প্রপার্টি মালিকের মর্টগেজ পরিশোধ, এটাতো অবশ্যই ক্রেতাকে আকর্ষণ করবে। রেভিনিউ প্রপার্টির অতিরিক্ত আয়ে ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে, বড় মাপের মর্টগেজের অনুমোদন হয়, যাতে সহজেই রেভিনিউ প্রপার্টি কেনা যায়। তবে বাড়তি এই সুবিধা নিয়ে বাড়ীওয়ালা আয়েশে থাকবেন, তা ভাবা মোটেই সমীচীন নয়। কারণ মাল্টিপ্লে­ক্স প্রপার্টি তৈরী হয় আয় বৃদ্ধির কনসেপ্ট নিয়ে। আয় বৃদ্ধি করতে এখানে অনেক কিছুই কাঁট-সাঁট করা হয়। ফলে ইনকাম তথা ক্যাপিটাল গেইনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলেও আয়েশ, কমফোর্ট কিংবা সাবলীলতার যুযোগ থাকেনা।
নীচের একটি পরিসংখ্যানই বলে দেয় মাল্টিপ্লে­ক্স প্রপার্টিগুলি কতটা আঁটোসাঁটো হয়। গত ২২শে ডিসেম্বর দুপুরে কুইবেক রিয়েল এস্টেট বোর্ড সেন্ট্রিসের ওয়েবসাইটে পরিচালিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, লিস্টেড ১১৮৪টি রেভিনিউ প্রপার্টি তথা মাল্টিপ্লেক্সের মধ্যে মাত্র ৯টিতে মূল বাথরুমের অতিরিক্ত একটি পাউডার রুম আছে যাতে শুধুমাত্র টয়লেট আছে, কিন্তু গোসলের ব্যবস্থা নেই। কন্ডোর ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটা অবশ্য একটু ভালো। ৪,৯৬৭টি কন্ডোর মধ্যে পাউডার রুম আছে ৫৮টি এপার্টমেন্টে। কোনমতে একটা টয়লেট ও একটা বেসিন যোগ করে ফেললেই একটা পাউডার রুম হয়ে যায় যাতে প্রপার্টির ভ্যালু স্থান বিশেষে ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ ডলার বেড়ে যায়। তদাপি, বাস্তবে এই পাউডার রুমটা এতই দুষ্প্রাপ্য যে সিঙ্গেল প্রপার্টির বাইরে এটি কল্পনা করা যায় না। ঠিক একই ভাবে বেডরুম, লিভিংরুম, গ্যারেজ কিংবা ব্যালকোনির আকারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আর বাচ্চাদের জন্য বেসমেন্টের প্লে­-রুমটা অনেকের ক্ষেত্রেই যেন বিলাসিতা। তাই প্লে­-রুমটাকে ব্যাচেলর ইউনিট হিসেবে আলাদা ভাড়া দিয়ে রেভিনিউ বাড়ানোর সুযোগটা নেয়া হবে, না আরো কিছুদিন এভাবে চলবে এই নিয়ে রীতিমতো চলে বাড়ীওয়ালার নিজের সাথে নিজের মনের যুদ্ধ। সর্বোপরি, বাড়ী কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাড়ী কেনার উদ্দেশ্যটা কি সেটা স্থির করা।
যদি বসবাসযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই সিঙ্গেল প্রপার্টি প্রথম চয়েস হওয়া উচিত। আর যদি নিজের বসবাসের পাশাপাশি বাড়তি কিছু রেভিনিউ দিয়ে মর্টগেজ পরিশোধ করে ক্যাপিটাল গেইন করা উদ্দেশ্য হয়, তবে মাল্টিপ্লে­ক্স প্রপার্টিই উত্তম চয়েস। এক্ষেত্রে বাড়ীটা নিশ্চয় মনের মত হবে না। চাহিদার সাথে কম্প্রোমাইস করে সঙ্গত কারণেই বাড়ীওয়ালাকে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যেতে হবে। আর ঝক্কি-ঝামেলামুক্ত জীবন যাপনের জন্য আছে কন্ডো, যেখানে মূলত সিনিয়র সিটিজেনদেরকেই মানায়, যদিও ইদানীং কালের তরুণ-তরুণীরাও এটাকে বেশী পছন্দ করছেন।

 

লেখক : প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন, রিয়েল এস্টেট ব্রোকার