বর্ণাঢ্য আয়োজনে টরন্টোতে বিজয় দিবস উদযাপন

ভোরের আলো রিপোর্ট: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কানাডার টরন্টোতে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, পুরষ্কার বিতরনী, মজাদার ডিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো অনুষ্ঠানটি সম্মিলিতভাবে আয়োজনে ছিল কানাডা বাংলাদেশ কালচারাল অর্গানাইজেশন, ভাসানি স্মৃতি পরিষদ ও ওসমানি স্মৃতি পরিষদ। জাকারিয়া রশীদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। ভাসানি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আখলাক হোসেনের সভাপতিত্বে বিজয় দিবসের তাৎপর্য্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. জসিম উদ্দীন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী, সমাজসেবক রেশাদ চৌধুরী, ভোরের আলো’র সম্পাদক আহাদ খন্দকার, সাদ চৌধুরী, সমাজসেবক নুরুল ইসলাম, মঈন চৌধুরী, ড. সিরাজুল হক চৌধুরী, বেলায়েত হোসেন চৌধুরী (রিপন), ভাসানি স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফিয়া বেগম, এজাজ আহমেদ খান, নবদ্বীপ সম্পাদক এম এইচ মামুন, এ কে এম জহির, কামরুল শাহান খান, রোটারিয়ান আব্দুল মালেক, জামাল উদ্দিন ও শাকিল খান প্রমুখ। আলোচনা পর্বের মাঝে কবিতা আবৃত্তি করে শ্রোতাদের নস্টালজিক করেন বাঙ্গালি কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তিত্ব আসমা হক ও ফারজান আহমদ। আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. জসিম উদ্দীন বলেন, আব্দু্ল হামিদ খান ভাসানী ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী ছিলেন পুরোদস্‘র দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনে আসেনি। কিছু দেশপ্রেমিক ব্যক্তির মুক্তির জয়গানের কারনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। এজন্য দেশে এমন দুরবস্থা চলছে। ড. সিরাজুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বিজয় দিবস ৪৮ পেরিয়ে ৪৯ এ পদার্পন করেছে। দেশের স্বাধীনতার জন্য নেতাদের পাশাপাশি আপামর জনসাধারণের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্মুখভাগে যুদ্ধ করেন। তাই মুক্তিযুদ্ধে কারো অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আমি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি ও এমএজি ওসমানিকে বাঙ্গালি জাতির জনক মনে করি। সমাজসেবক নূরুল ইসলাম বলেন, দেশপ্রেমিক ভাসানীকে কেন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল ওই প্রশ্নের উত্তর আমাদের এখনই খুঁজতে হবে। স্বাধীনতার বিজয় স্বার্থক করে তুলতে ভাসানীর কাছে মুরিদ হতে হবে। বেলায়েত হোসেন চৌধুরী (রিপন) তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় হঠাৎ করে আসেনি। কালে কালে আব্দুল হামিদ খান ভাসানি ও এমএজি ওসমানীর মতো নেতৃত্বের কারনে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী বলেন, একাত্তরে বিজয় দেখেছি। দেখেছি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির স্বাদ। কিন্তু বিজয় দিবস পালনের দিনে আমার প্রশ্ন, সত্যি কি দেশের মানুষ এখন কথা বলতে পারছেন। ভোরের আলো সম্পাদক আহাদ খন্দকার তার সুন্দর ও সাবলীল বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেকেই ভারতে গল্প গুজব করে সময় কাটিয়েছেন। এখন দেশে এসে তারা বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন। দেশপ্রেমিক এ নেতা সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং এম এ জি ওসমানীর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। এরপরও তারা ইতিহাসে অবহেলার শিকার হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা মহান ব্যক্তিদের সন্মান করলে আমরা নিজেরাই সম্মানিত হই। মঈন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, উদয়ের পথে শুনী কার বানী/ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে লেখা এ কবিতার লাইনের সঙ্গে আমি একমত। আমার পূর্ববর্তী বক্তারা অনেক কথা বলে গেছেন। আমি তাদের কথার সঙ্গে একমত। একেএম জহির তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দেখেছি। দেখেছি মানুষের আনন্দ। কিন্তু আনন্দের মধ্যেও কিছু ঘটনা থাকে। এসব ঘটনা ভূলা যায় না। সমাজসেবক এজাজ আহমেদ খান তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমরা বিজয়ের জয়গান করছি। মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজন্ম হিসেবে সূদুর প্রবাসে থেকেও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। এটা কোন অংশেই কম নয়। কিন্তু দেশের মানুষের এখনকার স্বাধীনতার কথা চিন্তা করলে বেদনাহত হই। সাপ্তাহিক নবদ্বিপ সম্পাদক এম এইচ মামুন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশেল সর্বত্র এখন চলছে ইতিহাস বিকৃতির খেলা। এ বিকৃতির শেষ কোথায় আমরা কেউ জানি না। স্বাধীনতার লাল সূর্যকে সমুন্নত রাখতে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীর শহীদদের শ্রদ্ধা করতে হবে। সম্মান জানাতে হবে। ভাসানি স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা আমাদের সারা জীবন স্মরণ রাখতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে আখলাক হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও এমএজি ওসামানীর মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যুগে যুগে তাদের স্মরণ না করলে জাতি হিসেবে আমরা কলঙ্কিত হবো। আলোচনা পর্বের মাঝখানে ফারহানা আহমেদ ও আছমা হকের কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। আলোচনা পর্ব শেষে ডিনার শুরু হয়। স্বনামধন্য শেফ হুসাইন আহমেদ (লনি)-এর মজাদার রান্না সবাই পেটপুড়ে খান। লনিকে রান্নায় সহায়তা করেন মইনুল হোসেন ও মনসুর আহমেদ। ডিনার চলাকালীন সময়ে ব্যাডমিন্টন খেলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরন করা হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন মিলাদ চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা খেলেয়াড় এবং স্থানীয় খেলেয়াড়দের মধ্যে কমিিউনিটির নেতৃবৃন্দ পুরষ্কার তুলে দেন। পুরষ্কার বিতরন শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। এ পর্ব পরিচালনা করেন ফারহান আহমেদ ও আছমা হক। বাউল শিল্পী সাবু শাহ, মুক্তা সারওয়ার রিদি, ফারহান জয় ও মৌসুমীসহ স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।