১০৭৮৯ রাজাকারের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ-তোলপাড়, স্থগিত

দীন ইসলাম: স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিজয় দিবসের আগের দিন তালিকা প্রকাশের পর পরই সারা দেশ থেকে বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা নিয়ে সরকারের ভেতরে শুরু হয় তোলপাড়। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোলাবরেটরদের তালিকা করতে গিয়ে গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকে গেছে। এটা কোনভাবেই রাজাকারের তালিকা নয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘন্টা আগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্টাইব্রুনালের প্রধান কৌসুলী গোলাম আরিফ টিপু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিজের নাম রাজাকারের তালিকায় দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে যারা রাজাকার, আলবদরের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছে, সেটা কিভাবে হলো এবং কারা এটা করেছে- এটা খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। রাজাকারের তালিকায় গেজেটভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা বরিশালের আইনজীবি তপন কুমার চক্রবর্তীর নাম আসায় সোশাল মিডিয়াতে আলোড়ন শুরু হয়। বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ হয়। তপন কুমার চক্রবর্তীর মেয়ে ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম দিয়ে আমাদের অপমান করার দায় আওয়ামী লীগ সরকার এড়াতে পারে না। রাজাকারের তালিকায় বরণ্ডনা পাথরঘাটা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুল হকসহ চার জন মুক্তিযোদ্ধার নাম উঠে আসে। এছাড়া বণ্ডড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েক জন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রাজাকারের তালিকায় উঠার অভিযোগ উঠে। এরপরই তালিকা স্থগিতের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ তালিকাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক উঠায় শেষ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিতের পর পরই তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, রাজাকারের তালিকা যাচাই করে সংশোধনের জন্য আগামী ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করা হয়েছে। রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ওই সময় তিনি বলেন, যারা রাজাকার হিসেবে সরকারি গেজেটভূক্ত হয়ে পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের তালিকা এটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই তালিকা সংরক্ষিত ছিল, সেখান থেকে আমরা সংগ্রহ করেছি। এটি এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে।