অবরুদ্ধ ঢাকায় সরব কলম

জাফর ওয়াজেদ

উনিশ্শ একাত্তর সালের জুন মাস। উপন্যাসের শেষ প্যারাগ্রাফটি লিখে কলম ণ্ডটিয়ে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। বাইরে তখন ণ্ডলির শব্দ। শত্রু অধ্যুষিত দেশ। যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে হয়ে যেতে পারেন লাশ, এক ণ্ডলিতেই। জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য তখন। শেষ লাইনটি লিখলেন, ‘নতুন মানুষ, নতুন পরিচয় এবং নতুন একটি প্রভা। সে আর কত দূরে। বেশি দূর হতে পারে না। মাত্র এই রাতটুকু তো। মা ভৈঃ। কেটে যাবে।’ লেখকের এবং সাড়ে সাত কোটি বাঙালির তখনকার কামনা ও প্রত্যাশারই অভিব্যক্তি। তার শেষ বাক্যের মতো কেটে অবশ্যই গিয়েছিল। পূর্ব দিগন্তের রক্ত লাল সূর্য উঠেছিল নয় মাস টানা যুদ্ধের পর। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন, টানা তিন মাস পরিশ্রমের ফসল তিনি গ্রন্থাকারে দেখে যেতে পারেননি। যুদ্ধক্ষেত্রে বসে একটি জাতির যুদ্ধজয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উপন্যাস রচনার মতো কাজটি সহজ ছিল না। যেকোনো সময় শত্রুরা এসে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে পারত রচনাকালে। কিন্তু না, তা হয়নি। তবে তাকে হাত ও চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল তারই ছাত্ররা, যারা শত্রুদের সহচর হয়ে নিজ দেশের মানুষকে হত্যায় মত্ত হয়েছিল। পেশায় ছিলেন শিক্ষক। গবেষণা, ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ- সবই লিখেছেন। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে বসে যুদ্ধের প্রথম তিন মাসেই তিনি লিখে ফেলেন সেই অমূল্য দলিলটি। সেখানে বাঙালি জাতির শোষণ, বঞ্চনা, নিপীড়ন এবং তার থেকে মুক্ত ও যুদ্ধ জয়ের প্রেরণা। জুন মাসেই তিনি মুক্তির ভোর দেখেছিলেন। এপ্রিল মাসে যখন উপন্যাসটি রচনা শুরু করেন, প্রথম বাক্যটিই লিখলেন, ‘বাংলাদেশে নামল ভোর’। কিন্তু এই ভোর সেই ভোর নয়, ২৫ মার্চ রাতের অপারেশন সার্চলাইট নামক পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যাপর্ব শুরু শেষের ভোর। সারা রাতই ণ্ডলির শব্দ। ভয় জেগেছিল, তবে মৃত্যুভয় নয়। শহীদ অধ্যাপক আনোয়ার পাশা তার আত্মোপলব্ধিকে সামনে রেখে ব্রতী হয়েছিলেন উপন্যাসের আদলে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে ধরে রাখতে। উপন্যাসটি শুরু করেছেন ২৫ মার্চ রাত শেষে ভোরের বর্ণনা দিয়ে। সে সময়ের যুদ্ধকালের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে লেখা আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায় তা হচ্ছে ‘রাইফেল রোটি আওরাত।’ যুদ্ধক্ষেত্রে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের মধ্য দিয়ে প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাকে বিবৃত করেছেন তিনি। অবশ্য মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে মৃত্যু-বিভীষিকার এমন দৃশ্যপট আঁকা অত্যন্ত দুঃসাধ্য এবং দুরূহ হলেও আনোয়ার পাশা তা করতে পেরেছেন তার স্বদেশ প্রেম এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। বলা যায়, এই বাংলায় যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পাড়ি দেবেন, তারা এ দেশের ইতিহাসের এক দুঃসহ ও নৃশংসতম অধ্যায়ের এই নির্ভেজাল দলিল পাঠ করে শিউরে উঠবে যেমনি, তেমনি উপলব্ধি করতে পারবে, আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের নজিরহীন দৃষ্টান্ত। এতে গৌরব বোধ করা তাদের জন্য হবে স্বাভাবিক। হানাদারকবলিত বাংলাদেশে কামান-বারুদের মুখে বসে নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় আনোয়ার পাশা যা করতে পেরেছেন, তা অভাবনীয়। একাত্তরের মার্চের ভয়াবহ কয়েকটি দিন আর এপ্রিলের প্রথমার্ধের কালো দিনণ্ডলোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতায় ক্ষীণ পরিধিতেই গ্রন্থের ঘটনাপ্রবাহ সীমিত। কিন্তু এর আবেদন আর দিগন্ত এ সময়সীমার আগে ও পরে বহুদূর বিস্তৃত। নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি তার উপন্যাসের কাহিনীকে রক্তাক্ত করে গেছেন। গ্রন্থের নায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সুদীপ্ত শাহিন। যার অন্তরালে মূলত আনোয়ার পাশা নিজেই।
২৫ ও ২৬ মার্চ সুদীপ্তর কাছে মনে হয়েছে দুটি রাত নয়, দুটি যুগ যেন। পাকিস্তানের দুই যুগের সারমর্ম। বাংলাদেশ সম্পর্কে পাকিস্তানিদের দুই যুগের মনোভাবের সংহত প্রকাশ মূর্তি। শাসন ও শোষণ। যেকোনো ধরনের বাংলাকে শাসনে রাখো, শোষণ করো। শোষণে অসুবিধা হলে? শাসন তীব্র করো। আরও তীব্র শাসন। আইনের শাসন যদি না চলে? চালাও রাইফেলের শাসন, কামান-মেশিনগানের শাসন। কামান-মেশিনগানের সেই প্রচণ্ড শাসনের রাতেও তিনি বেঁচে ছিলেন।
সুদীপ্তর ধারণা, মৃত্যু অত্যন্ত সহজ এবং স্পর্শযোগ্য ছিল, তাহলেও সেদিন তার মৃত্যু হয়নি। কেন তিনি মরলেন না, তিনি জানেন না। অমন সহজ মৃত্যুটি তার ভাগ্যে ছিল না বোধ হয়। কত হাজার হাজার লোক সেদিন কত সহজে কাজটি করতে পারল- পারলেন না সুদীপ্ত। তিনি মরতে পারলেন না। অতএব সুদীপ্তকে এখন ভাবতে হচ্ছে- মরে যাওয়াটা অতি সহজ নয়। কিন্তু সুদীপ্ত তথা আনোয়ার পাশা ২৫ মার্চ রাতে মরেননি, তবে ১৪ ডিসেম্বর ঘাতকদের হাতে প্রাণদান করতে হয়েছে। আলবদর বাহিনী তার হাত ও চোখ বেঁধে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে। যারা ছিল তার ছাত্র। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের টর্চার সেলে।
নির্মম নৃশংস অত্যাচার শেষে তাকে হত্যা করে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফেলে রাখা হয়। অথচ ২৫ মার্চ রাতে যখন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল এবং শিক্ষকদের কোয়ার্টারে হামলা চালায়, সে সময় বেঁচে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক আনোয়ার পাশা।
তিনি জন্মেছিলেন মুর্শিদাবাদের কাজীশাহ গ্রামে। রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ পাস ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। ১৯৫৮ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দেন। শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই বিভাগেই কর্মরত ছিলেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়স তার, যখন ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। তিনি রাজনীতি করতেন না। তবে কংগ্রেসকে সমর্থন করতেন। সাম্প্রদায়িকতার ঘোরতর বিরোধী হলেও চলে এসেছিলেন পূর্ববঙ্গে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের খাঁটি ধারক হয়ে উঠলেন। ১৯৬৪ সালে পাবনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধলে তিনি দাঙ্গা প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছিলেন এবং ৩০ হিন্দু ছাত্রকে বাঁচিয়েছিলেন সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে। কিন্তু পারলেন না একই শক্তির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে। মুসলিম বাবা-মায়ের সন্তান হয়েও। উপন্যাসে তিনি এক সংলাপে পাকিস্তানপন্থি শিক্ষক ড. আবদুল খালেকের মুখে আইয়ুব খান আমলের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেছেন বাঙালিদের সম্পর্কে পাকিস্তানিদের মনোভাব। ‘তোমাদের বাঙালিদের অবস্থা হয়েছে খাঁচার পাখির মতো। দীর্ঘকাল হিন্দুয়ানির খাঁচায় তোমরা পোষা ছিলে। এখন ছাড়া পেলেও তাই উড়তে পারছ না। মানে হিন্দুয়ানি ত্যাগ করতে পারছ না।’ পাকিস্তানিরা বাঙালি মুসলমানকে কখনো মুসলমানের মর্যাদা দেয়নি। পাকিস্তানপন্থি চরিত্রটিও পাওয়া যায় এই সংলাপে। ‘পাকিস্তানের সংহতি সকলের আগে। যে জন্য আছে আমাদের সেনাবাহিনী। এই সেনাবাহিনী আমাদের গৌরব ও গর্বের বস্তু। যেকোনো মূল্যে তারা পাকিস্তানের সংহতি রক্ষা করবে। দেশকে তারা বিচ্ছিন্ন হতে কিছুতেই দেবে না।’ শিক্ষক আবদুল খালেক এখানেই থেমে থাকেননি। আরও বলেন, ‘ইসলামের স্বার্থে, পাকিস্তানের সংহতির স্বার্থে দরকার হলে আমাদের সেনাবাহিনী একশ বছর পূর্ব পাকিস্তানকে পদানত রাখবে। দেশে সামরিক শাসন চালাবে। ইসলাম ও পাকিস্তানের স্বার্থে তা হবে বিলকুল জায়েজ।’ সে কারণে দেখা যায়, বাংলাদেশপন্থি শিক্ষক ড. মালেকের বাড়িতে ঢুকে হানাদাররা তার টাকা ও গয়না লুটপাটের পর বাথরুমে লুকিয়ে থাকা দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেল গনিমতের মাল হিসেবে, যারা আর ফেরেননি। যাওয়ার সময় খতম করে যায় ড. মালেককে। শহীদ আনোয়ার পাশা জগন্নাথ হলের মাঠে গণহত্যার বর্ণনা করেছেন। ‘সমস্ত জীবনটাকেই একটা তীব্র বিরূপ বলে সুদীপ্তর মনে হলো যখন তিনি জগন্নাথ হলের মাঠে সদ্য পুঁতে দেওয়া নারী-পুরুষের কারও হাতের আঙুল, কারও পায়ের কিয়দংশ মাটি-ফুঁড়ে বেরোনো বৃক্ষ-শিশুর মতো মাথা তুলে থাকতে দেখলেন। কত শব এখানে পুঁতেছে ওরা? এবং এমনি কত স্থানে!’

উপন্যাসের শেষ দিকে রয়েছে ২৫ মার্চের ভয়াবহ নারকীয় কাণ্ডের মধ্যে কোনোমতে যারা পালিয়ে বেঁচেছে, তাদের উদ্দেশে দলপতির ভাষণ, যা বাঙালির উজ্জীবনী মন্ত্র হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল সে সময়। দলপতি বলেছিলেন, ‘বাঙালিরা এখন মরতে শিখেছে, অতএব তাকে মেরে নিঃশেষ করে দেওয়ার ক্ষমতা এখন পৃথিবীতে কারও নেই। জানবে, মৃত্যুকে ভয় করে যারা মৃত্যুকে এড়াতে চায় তারাই মরে।’ জুন মাসে সমাপ্ত লেখার বাক্যণ্ডলোই পরবর্তীকালে বাঙালির জন্য সত্যে পরিণত হয়েছিল। বাঁচার জন্য সংগ্রাম কিংবা আধমরা হয়ে বেঁচে থাকা ছিল বাঙালিদের জন্য তখন খোলাপথ। আনোয়ার পাশা সাহসী ছিলেন, আধমরা হয়ে বেঁচে থাকেননি। রক্তের অক্ষরে তিনি মৃত্যুপুরীতে বসে জীবনের সাধনা করেছিলেন উপন্যাসে। তাই পাকিস্তানি হানাদাররা এসেছে নরপশুর রূপ ধরে।

যে নবপ্রভাতের জন্য এত দুর্ভোগ, এত আশা, এতখানি ব্যাকুল প্রতীক্ষা ছিল উপন্যাসের নায়ক তথা আনোয়ার পাশার নিজের, তা সত্য সত্যই এলো। কিন্ত আনোয়ার পাশা তা দেখে যেতে পারেননি। দূরদর্শী মহান শিল্পস্রষ্ঠা ছিলেন বলেই তিন মাসের ঘটনাকে সামনে রেখে একাধারে ঐতিহাসিক দলিল আর সার্থক সাহিত্য সৃষ্টি করতে পেরেছেন। তাকে হত্যা করা গেছে; কিন্তু তার সৃষ্টিকে সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ, দেশভাগ, পাকিস্তানি শাসকদের মনোভাব, হানাদারদের আচরণ সবই উপন্যাসে এসেছে। শুধু তাই না। ঘাতকের দল তথা আলবদর বাহিনীর দল জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গও পাই। যেভাবে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কুৎসা রটিয়েছিল। নির্বাচনের পর তার ভীত হওয়ার কিছু কারণ ছিল বৈকি। সেই জামায়াতের অঙ্গসংগঠন বদর বাহিনী তাকে রেহাই দেয়নি। যেমন রেহাই পায়নি লোরকা, তেমনি আনোয়ার পাশাও। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এলে মনে পড়ে সব শহীদের কথা। শিক্ষক, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ পেশাজীবী শহীদদের। আনোয়ার পাশা তারা এই মহৎ সৃষ্টির জন্য দেদীপ্যমান হয়ে থাকবেন।

সেদিন যারা শত্রুসেনাদের ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত হয়েছিলেন, তারা দুই কারণে শ্রদ্ধেয়। প্রথমত, তারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, তারা সাধারণ মানুষ ছিলেন না, মুক্তবুদ্ধির চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের অসাধারণ করে তুলেছিলেন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশকে মুক্ত করার। এই আকাঙ্ক্ষা সেদিন ছিল সর্বজনীন। সেদিন এ দেশেরই কিছু কিছু নরাধম শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল। তাদের নানা ধরনের নৃশংসতায় সহায়তা করেছে এবং হানাদারদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু এই পিশাচরা ছিল সংখ্যায় নগণ্য।

বাঙালির গভীর দেশপ্রেমের সামনে তারা খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছিল। তাদের সব ষড়যন্ত্র ও দেশের মানুষের এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান বানচাল হয়ে গিয়েছিল। সেই একই শক্তিকে যারা পুনর্বাসিত করেছে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, পুনরুজ্জীবিত করেছে, তারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা দীর্ঘ সময় ধরেই করতে তাদের সংখ্যা আজ আর নগণ্য নয়। দেশে বুদ্ধিজীবী হত্যা চলছে। কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। একাত্তরের পথ ধরে পরাজিত শত্রুরা হত্যা করে চলছে শিল্পী, সাহিত্যিকসহ শিক্ষক ও মুক্তমনাদের। সেদিন বুদ্ধিজীবীরা বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। আজ দেশের ভেতরের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় হবেনু তেমন প্রত্যাশা বাতুলতা মাত্র নয়। উনিশশ একাত্তরের ডিসেম্বরে যেসব বুদ্ধিজীবী শহীদ হয়েছিলেন, আজকের বুদ্ধিজীবীরা এখনকার শত্রুদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে সেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
লেখক

মহাপরিচালক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)