জেলখানায় সম্রাটের বিলাসি জীবন

দীন ইসলাম

বাংলাদেশের সাবেক যুবলীগ নেতা ও ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট জেলখানায় বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর কাছে এখন বাইরে ও জেলখানায় কাটানো জীবযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই। বাসা থেকে সম্রাটের জন্য যাচ্ছে সুস্বাদু খাবার। চিকিৎসার কোন কমতি নেই। জেলখানায় বসেই মোবাইল ফোনে সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নানা মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। চাঁদাবাজির অর্থ আদায় করছেন। রাজনৈতিক সহচরদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন। ওই নির্দেশনা পালন করছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এদিকে গত ৬ ই অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে মুনির চৌধুরী নামে এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সম্রাট। ওই দিনই ঢাকায় এনে কাকরাইলে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং দুই বাসভবনে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরপর কাকরাইলের অফিসে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার অভিযোগে সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এসব দৃশ্যমান ফল দেখানোর পর সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরব হয়ে যায়। কোন ধরনের তৎপরতা চালাতে গড়িমসি শুরু করে তারা। ঢাকার বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে সম্রাটের গডফাদার হয়ে উঠার নেপথ্য কাহিনী সর্ম্পকে জানা গেছে। রাজধানীর ঢাকার সব ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট। এজন্য ক্যাসিনোর অবৈধ আয় প্রথমে তার কাছে চলে যেত। এরপর ক্যাসিনোর আয় সম্রাট ভাগাভাগি করতেন। ক্যাসিনো চালাতে গিয়ে থোরাই কেয়ার করতেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্রছায়ায় গডফাদার হয়ে উঠেন সম্রাট। এজন্য মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন যুবলীগ নেতা সম্রাট। এ গডফাদার যুবলীগ নেতা শেখ সেলিম ও ওমর ফারুক চৌধুরী ছাড়াও সরকারের নামী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন। ক্যাসিনো গডফাদার সম্রাট সর্ম্পকে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে মেরিনা বে স্যান্ডস হোটেলে প্রথম সারির জুয়াড়ি হিসেবে সম্রাট পরিচিত। সিঙ্গাপুরের থিওড়ি নিয়ে ঢাকায় ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাট। প্রতি মাসে ক্যাসিনো থেকে তাঁর আয় হতো কোটি কোটি টাকা। এখন ক্যাসিনোর অবৈধ আয় তাঁর নেই। তবে গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি সেলের জেলখানায় তার বিলাসী জীবনের কমতি নেই। সবই পাচ্ছেন সেখানে। শুধু পারছেন না ক্যাসিনো খেলতে। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্যাসিনো খেলছেন- এমন কথা বলাবলি করছেন অনেকেই।