২৮৬ বিয়েকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও লজ্জা পাচ্ছেন স্ত্রীরা

লালমনিরহাটের যুবক জাকির হোসেন ওরফে রাব্বীর ২৮৬ বিয়ে করা নিয়ে দেশজুড়ে চললে আলোচনা। এর মধ্যেই পুলিশ পেয়েছে আরো কিছু তথ্য। সেখান থেকে জানা যায়, প্রতারক জাকিরের শখ ছিল সে ৭শ’ বিয়ে করবে। এর পর সে যাবতীয় পাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে দিব্যি নামাজ রোজা ধরবে এবং সৌদী আরবে গিয়ে পূণ্য অর্জন করারও ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু না, ২৮৬ বিয়েতেই আটকে গেছে তার স্বপ্ন। ৭ শ’ বিয়ের ইচ্ছে পূরণ হলো না তার।

এদিকে জাকিরের প্রতারণার শিকার হয়ে বিয়ের নামে এ পর্যন্ত যেসব নারী তাদের যৌবন ও অর্থ সম্পদ খুঁইয়েছেন তারা এখন জাকিরের সাথে বিয়ের পরিচয়ও গোপন করারও চেষ্টা করছেন। বিয়ের নামে জাকির অসংখ্য নারীর সাথে মেলামেশার খবর বিভিন্ন মিডিয়াতে চাউর হওয়ার পর প্রথমে অনেক নারী থানায় স্বশরীরে এসে কিংবা ফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা কাছে অভিযোগ দাখিল করলেও এখন তারা নিজেরাই আর পরিচয় দিতে চাচ্ছেন না। অনেকে লোকলজ্জার ভয়েই জাকির সাথে তাদের বিয়ের বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছেন। দু-একটি গণমাধ্যমে জাকিরের স্ত্রী হিসেবে কয়েকজন নারীর নাম আসায় তারা রীতিমতো নাখোশও হয়েছেন। এসব নারীরা চাননা তাদের নাম বা পরিচয় কোনোভাবে প্রকাশ বা প্রচার হোক। এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা বা আগামীদিনের পথ চলায় সমস্যা হবে বলেও তারা আশংকা করছেন। ফলে তারা সবাই চাইছেন তাদের নাম পরিচয় গোপনই থাক।

এ বিষয়ে রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ জানান, জাকিরের বিরুদ্ধে যেসব নারীরা অভিযোগ করছেন তারা কেউই চান না নিজেদের পরিচয় প্রকাশ হোক। তাই তারা কেউ কোনো মিডিয়াতে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। আমরা মামলার তদন্তের স্বার্থে নারীদের পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

উল্লেখ্য গান শুনিয়ে ও ছবি দেখিয়ে নানা কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ২৮৬ জন সুন্দরী রানীকে বিয়ে করেছে লালমনিরহাটের এই জাকির। সম্প্রতি রাজধানীতে একটি ধর্ষন মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর একে একে বের হয়ে আসছে এই যুবকের অপকর্মের আরো নানা কাহিনী। বর্তমানে সে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ধর্ষন মামলায় রিমান্ডে রয়েছে।

তেজগাঁও থানা সূত্র আরো জানায়, ইউটিউবে গান শুনিয়ে সুন্দরী নারীদের আকৃষ্ট করতো এই যুবক। কোনো কোনো সময় মোবাইল ফোনের ম্যাসেঞ্জারে ছবি কিংবা ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে নারীদের ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করতো সে। নারী পুরুষের আন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি টার্গেটকৃত সুন্দরী নারীদের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দিতো। গভীর রাতে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলে নানা কৌশলে নারীদের ফুসলানোর চেষ্টাও করতো এই জাকির।

অনেক সময় বিবাহিত নারীদের স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে মধ্যস্ততার কথা বলে ওই নারীকেই বিয়ের প্রস্তাব দিতো সে। আবার আর্থিকভাবে দরীদ্র নারীদের সহায়তার কথা বলেও অসহায় নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিতো সে।