কানাডার ‘মাইনোরিটি’ সরকারের অতীত সুখকর নয়

দীন ইসলাম: টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে এরই মধ্যে ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ঘোষণা দিয়েছে জাস্টিন ট্টুডোর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। গত ২০ শে নভেম্বর কানাডার রাজধানী অটোয়ার গভর্নর জেনারেল জুলি পায়েত মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথ পড়ান। শপথ গ্রহণের পরই মন্ত্রীসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করা হয়। এবারও নতুন মন্ত্রিসভায় নারীদের প্রাধান্য দিয়েছেন জাস্টিন ট্টুডো। ৫০ শতাংশই নারী মন্ত্রী তার ক্যাবিনেটে স্থান দিয়েছেন। টরেন্টো স্কার্বো সাউথ-ওয়েস্ট বাঙ্গালি এলাকা থেকে নির্বাচিত বিল ব্লেয়ার দ্বিতীয়বারের মতো জন নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রস্তুতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর কানাডার ৪৩তম সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয় জাস্টিন ট্টুডোর লিবারেল পার্টি। নির্বাচনে এককভাবে ১৫৬ টি সিট পেয়েছে দলটি। ফলে বাধ্য হয়ে জাস্টিন ট্টুডোর দলকে মাইনোরিটি সরকার (সংখ্যালঘু সরকার) গঠন করতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ি কানাডায় এককভাবে কোন দল সরকার গঠন করতে চাইলে তাকে ১৭২ টি আসন পেতে হয়। কারণ কানাডার হাউজ অব কমন্স সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৮টি। সর্বশেষ ১৫ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, কানাডায় ‘মাইনোরিটি’ সরকারের অতীত ভাল নয়। দেশটির ৩৮, ৩৯ ও ৪০ তম সাধারণ নির্বাচনের পর ‘মাইনোরিটি’ সরকার গঠিত হয়। এসব সরকার তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। কানাডার ৩৮ তম ফেডারেল পার্লামেন্ট নির্বাচন ২০০৪ সালের ১৯ শে জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। চার বছর মেয়াদের সরকার গঠনের জন্য ওই নির্বাচনে লিবারেল পার্টি ৩০৮ টি আসনের মধ্যে ১৩৫ টি আসন পায়। ফলে মাইনোরিটি সরকার গঠিত হয়। তবে এ সরকারটি ২০০৫ সালের ২৯ শে নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের কিছুটা বেশি সময় ক্ষমতায় থাকে সরকারটি। ৩৮ তম মাইনোরিটি সরকারের বিদায়ের পর ২০০৬ সালের ১৩ ই ফেব্রুয়ারি কানাডার ৩৯ তম ফেডারেল পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ৩০৮ টি আসনের মধ্যে ১২৪ টি আসন পায়। এ সময়ও কনজারভেটিভ পার্টি ‘মাইনোরিটি সরকার গঠন করে। তবে দুই বছরের কিছুটা বেশি সময় স্থায়ী হয় এ সরকার। ২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতা হারায়। এরপর ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর কানাডার ৪০তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ৩০৮ টি আসনের মধ্যে ১৪৩ টি আসন পায়। এ সময়ও কনজারভেটিভ পার্টি ‘মাইনোরিটি’ সরকার গঠিত হয়। এ সরকারটি ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। সব মিলিয়ে এ মেয়াদে মাত্র দুই বছর পাঁচ মাস ক্ষমতায় থাকে কনজারভেটিভ সরকারটি। কানাডার ৪১ তম ফেডারেল পার্লামেন্ট নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ৩০৮ টি আসনের মধ্যে ১৬৬ টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কনজারভেটিভ পার্টি। এ সরকারটি ২০১১ সালের ২৩ শে মে ২০১৫ সালের ২রা আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তাই তিন দফা মাইনোরিটি সরকারের পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে কনজারভেটিভ পার্টি তার মেয়াদ পূর্ণ করে। এরপর ৪২ তম ফেডারেল নির্বাচনে জাস্টিন ট্টুডোর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি ৩৩৮ টি আসনের মধ্যে ১৮৪ টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এ সরকারটি ২০১৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। লিবারেল পার্টি তাদের সর্বশেষ মেয়াদ পূরণ করে। ৪৩তম ফেডারেল নির্বাচনে ৩৩৮ টি আসনের মধ্যে ১৫৭ টি আসন পায় জাস্টিন ট্টুডোর লিবারেল পার্টি। মাত্র ১৩ টি আসনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এবারও ‘মাইনোরিটি’ সরকার গঠন করেছে লিবারেল পার্টি। তাই লিবারেল পার্টির পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিয়ে এবারও সন্দিহান বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, মাইরোনিটি সরকার গঠন করে লিবারেল পার্টি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন কিনা তা সময়ই বল দেবে। তবে জাস্টিন ট্টুডোর ক্যারিশমা সরকারের মেয়াদ পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।